যশোরের পার্শ্ববর্তী শার্শা ও চৌগাছা উপজেলার প্রেমিক যুগলের ঝিকরগাছায় প্রথম দেখাতেই প্রেমিকা শ্রাবন্তী আক্তার (১৫) এর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। সে শার্শা উপজেলার টেংরালি গ্রামের আমজাদ আলীর মেয়ে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন নাভারণ সার্কেল’র সহকারি পুলিশ সুপার নিশাত আল নাহিয়ান ও থানার মানবিক অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুমন ভক্ত।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পার্শ্ববর্তী শার্শা উপজেলার টেংরালী গ্রামের আমজাদ আলীর মেয়ে শ্রাবন্তী আক্তার (১৫) ও চৌগাছা উপজেলার বাড়িয়ালী গ্রামের মফিজুল ইসলামের ছেলে মুন্না (১৬) এর দীর্ঘদিন পূর্বে রং নাম্বারে প্রেমজ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে দু’জনের প্রথম দেখা করার সিদ্ধান্ত হয় ঝিকরগাছা উপজেলার গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নের ছুটিপুর গ্রামে আসলেই দেখা হবে।

যথারিতী যেমন কথা তেমন কাজ। একে অপারের সাথে দেখা করার জন্য সোমবার সকালে ছুটিপুর গ্রামে আসে প্রেমিক যুগল। সারা সকাল একটি মোটরসাইকেলে চড়ে এলাকার বিভিন্ন স্থানে ঘুরাঘুরি করে হঠাৎ করে দুপুর ২টার দিকে মাগুরা ইউনিয়নের মিশ্রীদেয়াড়া গ্রামের নিকট আসলে প্রেমিক যুগলের পেটে খুদা অনুভব করে। যার জন্য মিশ্রীদেয়াড়া গ্রামের বাজারে রবিউলের হোটেলে দুপুরের খাবার জন্য গেলে সেখানে সিঙ্গারা দেখে খেতে ইচ্ছুক হন তারা। সিঙ্গারা খাওয়ার কিছুক্ষণপর প্রেমিকা ধিরেধিরে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে প্রেমিকার অবস্থা ক্রমাগতই খারাপের দিকে গেলে প্রেমিক ও স্থানীয় লোকজন তাকে একটা ভ্যানে করে ছুটিপুর বাজারের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে গেলে ক্লিনিকের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার একপর্যায়ে থানা পুলিশকে অবগত করলে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে ছুটে যান জরুরী ফোর্সের দায়িত্বরত থানার অফিসার এসআই(নিঃ) মেজবাহ উদ্দিন।
এ বিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ সুমন ভক্ত জানান, বিষয়টি শুনে আমি ও আমার স্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য থানাতে আনা হয়েছে।

ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই প্রকৃত মৃত্যুর রহস্য জানা যাবে। মেয়েটির সাথে থাকা প্রেমিক মুন্নাকে প্রাথমিক জিজ্ঞেসবাদের জন্য থানাতে আনা হয়েছে। ঘটনা সম্পর্কে এই রিপোর্ট লেখার পূর্ব মুহুত পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি।