বাংলাদেশে ‘গুম’ নিয়ে জাতিসংঘ যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তার সমালোচনা করেছেন বিশেষজ্ঞরা। জাতিসংঘ গুমের শিকার ব্যক্তিদের যে লিস্ট প্রকাশ করেছে, তা সঠিক নয় বলে মনে করেন তারা। বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞদের সাক্ষাৎ নিয়ে প্রকাশিত ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থানীয় এনজিওগুলোর ওপর অধিক নির্ভর করে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে এবং এ কারণেই প্রতিবেদনে এত ত্রুটি।

তারা বলছেন, বাংলাদেশে গুমের শিকার ব্যক্তিদের নিয়ে তালিকাভুক্ত জাতিসংঘের প্রতিবেদনটি অযৌক্তিকতায় পরিপূর্ণ। বাংলাদেশের নেতৃস্থানীয় শিক্ষাবিদ এবং ডানকর্মীরা জাতিসংঘের নিম্নমানের কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ভারতে ফিরে আসা দুই বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহী জাতিসংঘের তালিকায় স্থান করে নেওয়ার বিষয়টি রিপোর্ট সম্পর্কে অনেক কিছু বলে।

বাংলাদেশে বিশেজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ‘ঘোলা’ কাজের জন্য তাঁরা হতাশ হয়েছেন। কিছু স্থানীয় বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) ওপর বিশ্বব্যাপী সংস্থার অতিরিক্ত নির্ভরতা নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছেন। তারা বছেন যেসব এনজিও বিরোধী দল বিএনপি কর্মীদের ঘনিষ্ঠ বা পরিচালিত, তাদের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হয়েছে। অথচ বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মানবাধিকারের বিষয়ে মিথ্যা মামলার একটি স্পষ্ট রেকর্ড রয়েছে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিচিত মানবাধিকারকর্মী এবং আইনজীবী সুলতানা কামাল একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘বিএনপির মানবাধিকারের মিথ্যা মামলার ইতিহাস রয়েছে। তিনি এই দলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুলতানা কামাল বলেন, ‘বিএনপি কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভুয়া মামলা ইতোমধ্যেই তাদের ভাবমূর্তিকে উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ’

এদিকে রহিমা বেগম নামের এক বৃদ্ধা নারীর পুনরায় আবির্ভাবের চাঞ্চল্যকর ঘটনা জাতিসংঘের প্রতিবেদন নিয়েও সংশয় সৃষ্টি করেছে। রহিমা বেগম ২৭ আগস্ট আত্মগোপনে চলে যান এবং ২৪ সেপ্টেম্বর পুলিশ তাকে খুঁজে পায়। এই মামলাটি বাংলাদেশের কিছু অধিকার গোষ্ঠীর দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে, যার ফলাফল জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রতিবেদন এবং কর্মকাণ্ডকে প্রভাবিত করে বলে মনে হয়।

রহিমার মেয়ে মরিয়ম মান্নান প্রথমে গণমাধ্যমের সামনে একটি লাশের ছবি তার মায়ের বলে শনাক্ত করেন। মরিওমের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ করা হলে সে আবার তাকে তার মা বলে শনাক্ত করেন।