মিল্লাত হাসান, রংপুরঃ রংপুরের মিঠাপুকুরে জমি দখলকে কেন্দ্র চাচাদের হাতে ভাতিজা নিহত হয়েছেন। নিহত ভাতিজার নাম মোঃ আবু হোসেন (২৫), সে উপজেলার ০৬ নং-কাফ্রিখাল ইউনিয়নের পাহাড়পুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছোট ছেলে। এ ঘটনায় আহত অবস্থায় আরো দু’জন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তাদের মধ্যে নুরনবী (৩৮) নামে একজনের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী।

ডেইলি ঢাকা মেইল কে এলাকাবাসী ও স্হানীয়রা জানান, ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ১১ ঘটিকার সময় আব্দুল জলিলের বিমাতা ভাই বুলু, বেলাল, হেলাল, মোলামের সঙ্গে পূর্বের চার শতাংশ জায়গা নিয়ে বিবাদের সূত্রধরে আব্দুল জলিলের আরেক ভাতিজা দেলোয়ারের সঙ্গে বাকবিতন্ডায় উভয়ের মধ্যে মারামারি এবং হাতাহাতি শুরু হয়। এসময় আবু হোসেন পাশ্ববর্তী মাঠে গরুর ঘাস কাটা অবস্থায় চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে এগিয়ে আসলে তাকে পূর্ব পরিকল্পনা মতে আব্দুল লতিব, বেলাল, হেলাল, সফিকুল, উজ্বল, মোলাম,বুলুসহ ১০/১২ জন বাঁশের লাঠি দিয়ে মারপিট শুরু করেন। এতে ঘটনাস্থলেই আবু হোসেনের মাথা ফেটে নাক মুুুখ দিয়ে রক্ত বের হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন।

আবু হোসেনকে বাঁচাতে গিয়ে নুরনবী এবং লেবু মিয়া গুরুতর আহত হয়ে পড়লে স্হানীয়া আবু হোসেনসহ তাদের উদ্ধার করে প্রথমে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করেন। ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ৫ ঘটিকার সময় আবু হোসেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পোস্ট মর্টেম শেষে আবু হোসেনের মরদেহ রাত্রী ৭ ঘটিকার সময় তার নিজ বাড়ি সংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে মিঠাপুকুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের পিতা-আব্দুল জলিল মিয়া।

এলাকাবাসীসহ আবু হোসেনের বাবা-মা ডেইলি ঢাকা মেইল কে জানান, নিহত আবু হোসেনের স্ত্রী সন্তান সম্ভবা। দু-একদিনের মধ্যেই তার একটি পুত্র সন্তান হওয়ার কথা। কিন্তু সামান্য চার শতাংশ জায়গার জন্য আবু হোসেন তার নবজাতক সন্তানের মুখে দেখে যেতে পারলেন না। এ ঘটনায় তারা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতারের দাবি জানান।

এ বিষয়ে ডেইলি ঢাকা মেইল কে মিঠাপুকুর থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজার রহমান জানান, আবু হোসেন মৃত্যুর ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। আসামি গ্রেফতারের জোড় চেষ্টা চলছে। কিন্তু আসামীরা ঘটনার পরপরই আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় তাদের গ্রেফতার করা এখনো সম্ভব হয়নি।