দীপংকর দীপন পরিচালিত সিনেমা ‘অপারেশন সুন্দরবন’ গত ২৩ শে সেপ্টেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। মাল্টিকাস্টিং এর এই সিনেমাটিতে সিয়াম আহমেদের বিপরীতে অভিনয় করেছেন নুসরাত ফারিয়া। তাদের জুটিটা বড় পর্দায় বেশ ভালো লাগছিলো। আর শেষ দিকে ফারিয়াই ছিলো মিশনের অন্যতম একটি চমক। চমক কেন বলছি? সেটা যারা সিনেমাটি দেখবেন বা আগে যারা দেখেছেন তারাইই বুঝতে পারবেন।

‘অপারেশন সুন্দরবন’ -এ তানিয়া কবির চরিত্রে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া। তানিয়া কবির মূলত বাঘ গণনা করার জন্য সুন্দরবনে যেতে চান একটি টিম নিয়ে। তিনি যে ক্যামেরা ট্র‍্যাপিং পদ্ধতিতে বাঘ গণনা করবেন সেটারও তিনি বর্ণনা করেন। কীভাবে এটি কাজ করে এবং এটিও জানান যে এতে করে বাঘের কোনো ক্ষতি হবে না। ক্যামেরা ট্র‍্যাপিং পদ্ধতি সম্পর্কে যদি একটু বলি তাহলে, ক্যামেরা ট্র‍্যাপিং বা ক্যামেরা ফাঁদ একটি দূরবর্তী স্থানে সক্রিয় রাখা যায় এমন একটি ক্যামেরা। ফাঁদ শিকারি ও বন্যপ্রাণী দেখার পাশাপাশি বন্যপ্রাণীদের ওপর গবেষণার জন্য ব্যবহৃত হয় এটি । এই পদ্ধতিতে বাঘের কোনো ক্ষতির আশংকা থাকে না।

তানিয়া কবিরকে তার প্রয়োজন অনুযায়ী একটি বোট, একটি টিম এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দেয়া হলো। যে টিমটি তানিয়া কবিরকে দেয়া হয়েছিলো সেই টিমের একজন ছিলেন তাসকিন রহমান। তানিয়া তার কার্যক্রম শুরু করলো এবং বেশ কয়েকটি জায়গায় যন্ত্র প্রতিস্থাপনও করলো। কিন্তু হঠাৎ করেই সে খেয়াল করলো একটি যন্ত্র এমন ভাবে ভেঙ্গে চুরমার করা হয়েছে যে তার ভেতরে থাকা মেমোরি কার্ডটিও টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। ফারিয়া এই মেমোরি কার্ডটির টুকরো করা দেখে সন্দেহ হতে থাকে যে এর পেছনে নিশ্চিয়ই কোনো কাহিনী আছে। কি কাহিনী আছে এর পেছনে তা আমরা সিনেমাটিতে দেখতে পাবো।

অভিনয়ের দিক থেকে ফারিয়া আগের যেকোনো কাজ থেকে ‘অপারেশন সুন্দরবন’ নিঃসন্দেহে একটি সুন্দর কাজ বলে আমার মনে হয়। কেননা একজন বাঘ গবেষণকের চরিত্রটা একটু ভিন্ন রকমের চরিত্র। গতানুগতিক ধারার বাহিরে গিয়ে এমন একটা চরিত্রের জন্য অভিনয় করাটা বেশ কষ্টসাধ্য কাজ। এর বড় একটি কারণ হলো চরিত্রটির জন্য তাকে যেতে হয়েছে সুন্দরবনের মতো জায়গায়। তাছাড়া চরিত্রটিকে ফুটিয়ে তুলতে হলে সুন্দরবনে গিয়ে অভিনয় করা ছাড়া আর উপায় নেই। সিনেমায় হঠাৎ বাঘ দেখে ভয় পেয়ে যাওয়া, ডাকাতদের কবলে পড়া, নিজের গুরুত্বপূর্ণ একটি জিনিস খুঁজে বের করার চেষ্টা, আবার অন্যদিকে ভালোবাসার মানুষের কাছে থাকার বাহানা বের করা এসব জায়গায় তিনি দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন। গান ছাড়া সিয়াম আহমেদের সাথে ফারিয়ার রোমান্টিক কোনো দৃশ্যের দেখা পাওয়া যাবে না। তবে গানে তার এক্সপ্রেশন এবং অভিনয় দুটিই ভালো লেগেছে বড় পর্দায়।

ফারিয়ার সাথে সিয়ামের জুটি নিয়ে যদি একটু কথা বলি তাহলে প্রথমেই ইমরান-কণার কন্ঠে গাওয়া গান ‘তার হাওয়াতে’ নিয়ে কথা বলতে হবে। কেননা এই গানটির মাধ্যমেই তাদের জুটির রসায়ন ফুটে উঠেছে সুন্দর ভাবে। ট্রেলারে রোশান-দর্শনা জুটি পরিষ্কার বোঝা গেলেও ফারিয়ার সাথে সিয়ামের জুটি নিয়ে তেমন খোলাসা পরিচালক করে নি। তবে বোঝা গিয়েছিলো তাদের জুটি সম্পর্কে।

অভিনয়, ডায়লগ ডেলিভারি এবং এক্সপ্রেশন সব মিলিয়ে আমার কাছে ফারিয়াকে বেশ ভালো লেগেছে সিনেমায়। এখন পর্যন্ত আমার দেখা বেস্ট অভিনয় তার এই সিনেমায়। সামনের দিনগুলোতে ফারিয়া আরও ভালো কাজ করবেন সেই আশা রাখছি। শুভ কামনা রইলো তার জন্য।