আজিজুর রহমান মুন্না, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য ও প্রবীণ সাংবাদিক রফিকুল আলম খান ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
রবিবার (১১ জানুয়ারি, ২০২৬) সকাল ১১টার দিকে তাকে সিরাজগঞ্জ শহীদ এম. মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
তিনি জাতীয় দৈনিক আজাদ, দৈনিক বাংলা, দৈনিক প্রথম আলো, দৈনিক আমার দেশ এবং বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গণমাধ্যমে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন।
সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক আহ্বায়ক ও প্রবীণ সাংবাদিক মো. আব্দুল কুদ্দুস বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রফিকুল আলম খান বার্ধক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত ছিলেন। রবিবার সকালে সদর উপজেলার বহুলী ইউনিয়নের ডুমুর গ্রামে নিজ বাড়িতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে শহীদ এম. মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বাদ এশা সিরাজগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জানাজা নামাজ শেষে রহমতগঞ্জ কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
রফিকুল আলম খান প্রখ্যাত সাংবাদিক, কলামিস্ট ও ভাষাসৈনিক খোন্দকার গোলাম মুস্তফা (কেজি মোস্তফা) এবং সাংবাদিক ও কবি ফররুখ শিয়রের অনুপ্রেরণায় ষাটের দশকে সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হন। ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দ থেকে ২০১৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত টানা ৫৩ বছর তিনি সাংবাদিকতা পেশায় সক্রিয় ছিলেন। এ সময়ে তিনি দৈনিক আজাদ, দৈনিক বাংলা, বাংলাদেশ বেতার, প্রথম আলো ও আমার দেশ পত্রিকায় কর্মরত ছিলেন। সাংবাদিকতা পেশায় তিনি জেলার শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
তিনি সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যও ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রফিকুল আলম খান ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের ১০ ফেব্রুয়ারি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ডুমুর বড়বাড়িয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম এলাহি বখশ ছিলেন তৎকালীন একজন বিশিষ্ট আইনজীবী এবং তার মাতা মরহুমা ওয়াজেদা খানম।
তিনি গ্রামের পাঠশালায় প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করে ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে সিরাজগঞ্জ টাউনের ভিক্টোরিয়া হাই স্কুলে ভর্তি হন এবং ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে ম্যাট্রিক পাস করেন। পরবর্তীতে ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন।
তিনি সিরাজগঞ্জ শহরের মোক্তারপাড়ায় বসবাস করতেন। পারিবারিক জীবনে তার স্ত্রী উম্মে সালমা একজন গৃহিণী। তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলের জনক। তার বড় মেয়ে রাফিয়া সুলতানা সুমনা লন্ডনপ্রবাসী এবং সেখানে একটি বেসরকারি শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রে কর্মরত রয়েছেন। ছোট মেয়ে শারমিন সুলতানা শারমিন। তার একমাত্র ছেলে মাহমুদুল আলম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। ২০১৩ খ্রিস্টাব্দে দিনাজপুরে তাবলিগ জামাতে অংশ নিতে গিয়ে পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়।