বিশেষ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জ-৫ আসন (বেলকুচি ও চৌহালী উপজেলা) থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আমিরুল ইসলাম খান আলিম বেলকুচি প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেছেন।
গত ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, দুপুর ১২টায় বেলকুচি প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন প্রেসক্লাবের সাংবাদিকবৃন্দ। সভায় প্রেসক্লাবের সকল সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।
যমুনা নদীবেষ্টিত এই নির্বাচনী এলাকায় মোট ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ২৬ হাজার, যার মধ্যে নারী ও পুরুষ ভোটার অন্তর্ভুক্ত। নদীভাঙনপ্রবণ এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাপন অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। দীর্ঘদিন ধরে যমুনার ভাঙনে লাখো মানুষ তাদের পৈতৃক ভিটা ও আবাদি জমি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।
অতীতে এই আসনটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত থাকলেও, স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, দিনের ভোট রাতের ফলে আওয়ামী লীগের শাসনামলে আসনটি জবরদখলে চলে যায়। বিগত ১৭ বছরে এ এলাকায় দৃশ্যমান কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। চিকিৎসা সেবা, শিক্ষা ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার দিক থেকে এলাকাটি চরমভাবে অবহেলিত—এমনটাই মনে করেন সাংবাদিক ও সুধী সমাজ।
মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকরা বিভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপন করেন এবং এলাকার উন্নয়নে বিএনপি প্রার্থী আমিরুল ইসলাম খান আলিমের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান।
জবাবে আমিরুল ইসলাম খান আলিম বলেন,
> “আমি রাজনীতিকে জনকল্যাণের মাধ্যম হিসেবে দেখি। প্রত্যেক রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীর উচিত ব্যক্তিস্বার্থ ভুলে নিজেকে জনগণের কল্যাণে নিবেদিত করা।”
তিনি সিরাজগঞ্জ-৫ আসনসহ দেশের সকল আসনে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি শান্তিপূর্ণ সহযোগিতা ও জনগণের আস্থা ও ভোটের অধিকার রক্ষা করার আহ্বান জানান।
তিনি চৌহালী এনায়েতপুর ও বেলকুচির সাধারণ মানুষের সকল সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা দূর করতে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বেলকুচির মানুষের চিকিৎসা সেবা বঞ্চনা দূর করতে বেলকুচি হাসপাতালকে ৫০ শয্যা থেকে উন্নীত করে ২০০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতালে রূপান্তরের পরিকল্পনা জানান। এছাড়া বেলকুচির সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করে যানজটমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
বেলকুচি একটি তাঁতশিল্প সমৃদ্ধ এলাকা হলেও আধুনিকায়নের অভাবে তাঁতশিল্প হুমকির মুখে। তিনি বলেন, তাঁতশিল্পে আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে তাঁত মালিক ও শ্রমিকদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার একটি যুগান্তকারী পরিকল্পনা রয়েছে।
সর্বশেষ তিনি জানান, এরিয়ার সার্বিক উন্নয়নের জন্য ৬০ বিঘা জমিতে একটি আধুনিক শিল্পনগরী গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এই শিল্পনগরীতে থাকবে:
৪–৫টি বৃহৎ গার্মেন্টস কারখানা,একটি ইংলিশ মিডিয়াম কিন্ডারগার্টেন স্কুল,ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য একটি ইসলামিক কালচারাল সেন্টার, সাধারণ জনগণের জন্য পায়ে হাঁটার পথ।
এছাড়া শিল্পনগরীর ভেতরে একটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করে দক্ষ শ্রমিক তৈরি করার পরিকল্পনাও জানানো হয়েছে।
চৌহালী উপজেলার নদীভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণ, প্রসূতি মায়েদের জন্য ভ্রাম্যমাণ ক্লিনিক, এবং সাধারণ জনগণের জন্য সরকারি সহায়তা নিশ্চিতকরণ পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি।
তার এই বিস্তৃত ও বাস্তবমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপনে উপস্থিত সাংবাদিকবৃন্দ অভিভূত হন এবং এলাকার উন্নয়নে তাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।