নিজস্ব প্রতিবেদক:-বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা মহাস্থানগড়ে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি সেখানে সংঘবদ্ধ ছিনতাইয়ের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের মধ্যে।
ঘটনাটি ঘটে গত ৩০ জানুয়ারি (শুক্রবার) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে, মহাস্থানগড়ের মানকালী কুন্ড এলাকায়। এ সময় জিহাদ (১৮) নামের এক তরুণ পর্যটকের গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে সর্বস্ব লুটে নেয় একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র।
ভুক্তভোগী জিহাদ জানান, তিনি মানকালী এলাকায় অবস্থানকালে চারজনের একটি দল দেশীয় ধারালো অস্ত্রসহ তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তার ব্যবহৃত রিয়েলমি সি-১৪ (Realme C14) মডেলের একটি মোবাইল ফোন এবং পকেটে থাকা নগদ ৯ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় তারা।
ঘটনার পরপরই শিবগঞ্জ থানার এসআই ছাইদুল–এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় ছিনতাই চক্রের মূল হোতা ইমন (২৯)–কে গ্রেপ্তার করা হয়।
ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের পরিচয়—
১. ইমন (২৯) — পিতা: স্বাধীন, গ্রাম: অন্তবালা (গ্রেপ্তার)
২. শরিফ (২৩) — পিতা: অজ্ঞাত (পলাতক)
৩. শাকিল (২৩) — পিতা: লুতফর, গ্রাম: মহাস্থান নামাপাড়া (পলাতক)
৪. অজ্ঞাত একজন — (পলাতক)।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত ইমনের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা সম্ভব হলেও নগদ অর্থ উদ্ধার করা যায়নি। তবে ধৃত আসামির কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাস্থানগড় এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে ছিনতাই ও পর্যটক হয়রানির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। একাধিক ঘটনার পরও কার্যকর প্রতিকার না পাওয়ায় জনমনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তারা মনে করছেন, মহাস্থান নামাপাড়া ও অন্তবালা এলাকার চিহ্নিত এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয়।
মহাস্থানগড়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় দিনের আলোতে অস্ত্র দেখিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা সাধারণ পর্যটকদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। সচেতন মহলের দাবি, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এই চক্রটিকে স্থায়ীভাবে নির্মূল করতে প্রশাসনের কঠোর ও ধারাবাহিক অভিযান জরুরি।
শিবগঞ্জ থানা পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। একই সঙ্গে ছিনতাই হওয়া নগদ অর্থ উদ্ধারের চেষ্টাও চলছে।