নিজস্ব প্রতিবেদক:-
বিএনপি সরকার গঠন করলে খুলনার বন্ধ মিল ও কল-কারখানা পুনরায় চালু করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, খুলনা ও সাতক্ষীরা একসময় ছিল দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনগরী। কিন্তু গ্যাস সংকটসহ নানা কারণে আজ সেই শিল্পনগরী মৃত নগরীতে পরিণত হয়েছে। বিএনপি সরকার গঠন করলে খুলনাকে আবারও একটি জীবন্ত শিল্পনগরীতে রূপান্তর করা হবে। যেখানে শুধু পুরুষ নয়, নারীদের জন্যও ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
তিনি আরও বলেন, তরুণ সমাজের জন্য খুলনায় আধুনিক আইটি পার্ক গড়ে তোলা হবে, যাতে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করা যুবকরা এখানেই কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়।
গত সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) খুলনার প্রভাতী স্কুল মাঠে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান।
আইটি পার্ক স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, বিশেষ করে যারা আইটি খাতে কাজ করছেন, তাদের জন্য আইটি পার্কসহ প্রয়োজনীয় সব সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। এর মাধ্যমে তরুণদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলা হবে।
সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে জনসভা শুরু হয়। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে হেলিকপ্টারে করে খুলনায় পৌঁছান তারেক রহমান। এর আগেই জনসভার মাঠ ও আশপাশের সড়কে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অবস্থান নেন। দীর্ঘ ২২ বছর পর তারেক রহমানকে সরাসরি দেখে নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালুর কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে পিছনে রেখে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই বিএনপি সরকার গঠন করলে দেশের প্রতিটি গৃহিণী মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে নারী সমাজকে ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী করে তোলা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “একইভাবে কৃষক ভাইদের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে সহজে ঋণ পাওয়া যাবে, প্রয়োজন অনুযায়ী বীজ, সার ও কীটনাশক সরবরাহ করা হবে। পাশাপাশি যেসব কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ রয়েছে, বিএনপি সরকার গঠন করলে সেই ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে।”
ভোট নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, “একটি মহল বলার চেষ্টা করছে ভোট গণনা করতে সময় লাগবে। ষড়যন্ত্র শুরু হয়ে গেছে। যারা সকাল-বিকেল মিথ্যা বলে, নারীদের হেয় করে, তারা নানা ছলচাতুরির আশ্রয় নিচ্ছে। সবাইকে ভোট নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে।”
প্রায় ২৭ মিনিটের বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমরা দেখছি একটি রাজনৈতিক দল দেশের অর্ধেক নারী জনগোষ্ঠীকে ঘরের ভেতর বন্দি করে রাখতে চায়। সেই দলের নেতা প্রকাশ্যেই বলেছেন—তারা নারী নেতৃত্বে বিশ্বাস করে না। তারা নারীদের অসম্মান করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের নবী করিম (সা.)-এর স্ত্রী হযরত বিবি খাদিজা (রা.) ছিলেন একজন সফল নারী ব্যবসায়ী। অথচ যারা আজ নারীদের অবমাননা করে, তারা ইসলাম কায়েমের কথা বলে। বিশেষজ্ঞদের মতামতের পরও যারা মিথ্যা বলে, তারা কখনোই দেশদরদি হতে পারে না। তাদের দরদ শুধু নিজেদের স্বার্থে।”
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের অফিসিয়াল এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি পোস্টের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, “একটি রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মজীবী নারী ও মা-বোনদের নিয়ে এমন একটি শব্দ ব্যবহার করেছেন, যা চরমভাবে কলঙ্কজনক। সমালোচনা শুরু হলে তারা বলে আইডি হ্যাক হয়েছিল। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এভাবে আইডি হ্যাক হওয়া সম্ভব নয়।”
তিনি বলেন, “একজন সিনিয়র নেতা নির্বাচন সামনে রেখে জনগণের সামনে নির্লজ্জ মিথ্যা বলছেন। আইডি হ্যাক হয়নি। নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য তারা মিথ্যা প্রচার করছে। এরা মিথ্যাবাদী।”
খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনার সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা-২ আসনের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা-৪ আসনের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল, যুবদল সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, সংসদ সদস্য প্রার্থী আলী আজগর লবী, আমীর এজাজ খান, মনিরুল হাসান বাপ্পী, বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামান মনি, জয়ন্ত কুমার কুন্ডুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।