নিজস্ব প্রতিবেদক: – রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, স্বাধীনতার ঘোষক ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের যে ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, তা পরবর্তীতে আরও শক্তিশালী ও সময়োপযোগী করে তুলেছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
রোববার (৮ মার্চ) রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তন-এ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি স্মরণ করেন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের আন্দোলনে শহীদ হওয়া সকলকে।
তিনি বলেন, শহীদদের স্বপ্ন ছিল বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যমেই তাদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মূল্যায়ন সম্ভব।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নকে গুরুত্ব দিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৬ সালে রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ে প্রথম নারী বিষয়ক দপ্তর প্রতিষ্ঠা করেন। পরে ১৯৭৮ সালে গঠিত হয় মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়। পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এটিকে বর্তমান মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে রূপ দেন।
অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া নারীদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। রাষ্ট্রপতি বলেন, আগামী ১০ মার্চ থেকে এই কর্মসূচি চালু হবে, যা পরিবারের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, নারীর অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সবাই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে নারীর উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য ঘরে ও বাইরে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে প্রায় ১৬ শতাংশ অবদান আসে গৃহস্থালির কাজ থেকে। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কৃষি, শিল্প-সাহিত্য, কলকারখানা ও নির্মাণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ‘গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননায় ভূষিত করা হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। খালেদা জিয়ার পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন তার নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আপসহীন সংগ্রাম ও গণতান্ত্রিক ধারার প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
এ বছর বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য মোট পাঁচটি ক্যাটাগরিতে পাঁচজনকে ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।