বুলবুল আহম্মেদ (বুলু) নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:–
নওগাঁয় ডাবের পানিতে চেতনানাশক মিশিয়ে মানুষকে অজ্ঞান করে সর্বস্ব লুটে নেওয়ার অভিযোগে একটি প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় অপরাধে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল, একাধিক মোবাইল ফোন, নগদ টাকা, ঘুমের ওষুধ এবং ছিনিয়ে নেওয়া একটি অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ১০ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এক ব্যক্তি নওগাঁ সদর হাসপাতালে রোগী দেখার কথা বলে একজন অটোরিকশাচালকের গাড়ি ভাড়া নেন। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর আরও দুজন ব্যক্তি নিজেদের নবজাতক সন্তানের জন্ম উপলক্ষে মিষ্টি খাওয়ানোর কথা বলে চালকের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে তারা চালককে একটি ডাব খেতে দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ডাবের পানিতে আগে থেকেই চেতনানাশক ওষুধ মেশানো ছিল। ডাবের পানি পান করার কিছুক্ষণ পর চালক অজ্ঞান হয়ে পড়লে প্রতারকরা তার অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার বিষয়টি জানার পর নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম দ্রুত মামলা গ্রহণ ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাসিবুল্লাহ হাসিব এবং নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ, অপরাধীদের তথ্যভান্ডার, তথ্যপ্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়। পরে বগুড়া ও গাইবান্ধা জেলায় টানা ১৮ ঘণ্টার অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ছিনিয়ে নেওয়া অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— ইব্রাহীম ওরফে ইমন (৩৪), হুমায়ুন কবির (৫০), খাজা মিয়া (৫৬) এবং আব্দুল গফুর (৪১)।
অভিযানে ইব্রাহীমের কাছ থেকে অটোরিকশা বিক্রির ১ হাজার ৪৩০ টাকা, চারটি মোবাইল ফোন এবং ১০টি রিভোট্রিল (Rivotril) ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। হুমায়ুনের কাছ থেকে অটোরিকশা বিক্রির ১০ হাজার টাকা, দুটি মোবাইল ফোন এবং একটি পালসার মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। আব্দুল গফুরের কাছ থেকে ভুক্তভোগীর অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয় এবং খাজা মিয়ার কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের মধ্যে ইব্রাহীম ও হুমায়ুনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া খাজা মিয়া ও আব্দুল গফুর প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া সম্পদ কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতারণা ও চেতনানাশক চক্রের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”