মোঃ রফিকুল ইসলাম
চর রাজিবপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুর উপজেলার রাজিবপুর সদর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন উপজেলা বিএনপির বর্তমান সদস্য সচিব ও মাঠপর্যায়ের জনপ্রিয় নেতা আব্দুল হাই সরকার।
দীর্ঘদিন ধরে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালনকারী এই ত্যাগী নেতা এবার রাজিবপুর সদর ইউনিয়নের অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া মানুষের উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি ইতোমধ্যে ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনসাধারণের দোয়া ও সমর্থন কামনা করেছেন।
স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আব্দুল হাই সরকার দীর্ঘদিন ধরে রাজিবপুরের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিশেষ করে বিগত স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সাহসী ও অগ্রণী ভূমিকা রেখে তিনি সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছেন। তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে সবসময় পাশে থাকায় এলাকায় তাঁর একটি পরিচ্ছন্ন ও গ্রহণযোগ্য ভাবমূর্তি গড়ে উঠেছে।
নিজের প্রার্থিতা সম্পর্কে আব্দুল হাই সরকার বলেন,
“আমি পদের লোভে কিংবা ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য নির্বাচনে আসিনি। রাজিবপুর সদর ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। এখানকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যুবসমাজের কর্মসংস্থান এবং পিছিয়ে পড়া মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই আমার মূল লক্ষ্য। দীর্ঘদিন স্বৈরাচারের জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেও জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াইনি। এবার রাজিবপুর সদর ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের সেবা করার সুযোগ চাই।”
তিনি আরও বলেন, “দল-মত নির্বিশেষে রাজিবপুর সদর ইউনিয়নের জনগণ যদি আমাকে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করেন, তাহলে আমি এই ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, দুর্নীতিমুক্ত ও মডেল ইউনিয়নে পরিণত করতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করব।”
যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়নি, তবে আব্দুল হাই সরকারের প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকেই রাজিবপুর সদর ইউনিয়নের সাধারণ ভোটার ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে চায়ের দোকান—সবখানেই তাঁকে নিয়ে আলোচনা চলছে।
স্থানীয় অনেক ভোটারের মতে, আব্দুল হাই সরকারের মতো একজন পরীক্ষিত, সাহসী ও জনবান্ধব নেতৃত্ব চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হলে এলাকার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন ও সুশাসনের ঘাটতি অনেকটাই দূর হবে।
আসন্ন নির্বাচনে জয় নিয়ে আশাবাদী এই বিএনপি নেতা বর্তমানে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং সাধারণ মানুষের খোঁজখবর নিচ্ছেন।