
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, দুর্যোগের কারণে কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে পরবর্তীতে তাকে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।
ফেসবুক পোস্টে মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, দেশজুড়ে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন পাঁচ জেলা—চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে ১৬ জুলাই পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে অন্যান্য জেলায় পরীক্ষা আয়োজনের অনুকূল পরিবেশ থাকায় বৃহত্তর স্বার্থে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয় গত কয়েক দিন ধরে আবহাওয়া অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছে। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ সুপার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মতামতের ভিত্তিতেই পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। কোথাও যাতায়াত বা জলাবদ্ধতার কারণে সমস্যা দেখা দিলে প্রশাসন প্রয়োজনে কেন্দ্র পরিবর্তন, পরীক্ষা স্থগিত কিংবা সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। এমনকি বিরূপ আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে, তাকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের স্থগিত হওয়া পরীক্ষার সঙ্গে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।
এ ছাড়া পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নে দুটি ভুল থাকার কারণে সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্তকে তিনি শিক্ষার্থীবান্ধব নীতির প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন।
কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়ার আলোচিত ছবির বিষয়েও ব্যাখ্যা দেন মাহদী আমিন। তিনি জানান, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের ১৯৩টি কেন্দ্রের মধ্যে কেবল ওই একটি কেন্দ্রের ৯৮৭ জন পরীক্ষার্থী আকস্মিক জলাবদ্ধতার কারণে সাময়িক সমস্যায় পড়েছিলেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রশাসন ও শিক্ষা বোর্ডের সিদ্ধান্তে ওই কেন্দ্রের পরীক্ষা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হয় এবং পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ সময় দেওয়া হয়। বাকি ১৯২টি কেন্দ্রে সুষ্ঠুভাবেই পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু বিচ্ছিন্ন ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, দুই-একটি কেন্দ্রের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা পুরো পরীক্ষাব্যবস্থার প্রতিনিধিত্ব করে না। পুরোনো ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা এবং উসকানি দেওয়া গণআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী।
সবশেষে শিক্ষার্থীদের আতঙ্কিত না হয়ে পড়ালেখায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন,
“শিক্ষার্থীরা আমাদের সন্তানতুল্য। তাদের ভবিষ্যৎ, স্বপ্ন ও মানসিক অবস্থার গুরুত্ব সরকার গভীরভাবে উপলব্ধি করে। পরীক্ষার্থীরাই আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণের কারিগর। তাই সব ধরনের দ্বিধা ও অস্থিরতা পেছনে ফেলে শিক্ষার্থীদের মূল মনোযোগ হওয়া উচিত সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করা।”