নিজস্ব প্রতিবেদক:–মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় খাল খনন প্রকল্পের কাজ শেষে অব্যবহৃত ১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে উপজেলা প্রশাসন।
সরকারি অর্থের সাশ্রয়ী ও সঠিক ব্যবহারের এই উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা আক্তার।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রাজু চন্দ্র পাল জানান, উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে ভূকশিমইল, বরমচাল ও ভাটেরা ইউনিয়নের চকিরমোড়া এলাকা থেকে উত্তরমুখী আন ফানাই পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ খাল খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
তিনি জানান, প্রকল্পের আওতায় ৩ দশমিক ৯ কিলোমিটার খাল খননের জন্য ২ কোটি ৬ লাখ ৩ হাজার ৮০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত মান বজায় রেখে ৭৫০ মিটার খননকাজ সম্পন্ন করতে প্রায় ৩২ লাখ টাকা ব্যয় হয়। কিন্তু টানা বৃষ্টিপাত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে প্রকল্পের অবশিষ্ট অংশের কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। ফলে সরকারি আর্থিক বিধিমালা অনুসরণ করে অব্যবহৃত ১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
ইউএনও সানজিদা আক্তার বলেন,
“সরকারি অর্থ জনগণের আমানত। তাই প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যয় নিশ্চিত করে নির্ধারিত মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। কাজ শেষে যে অর্থ অব্যবহৃত ছিল, তা সরকারি বিধি অনুযায়ী কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে অসমাপ্ত খননকাজ সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পুনরায় বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। নতুন বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।
এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, সরকারি অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় করে অব্যবহৃত অর্থ কোষাগারে ফেরত দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনের স্বচ্ছতা, সততা, জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতার বাস্তব প্রতিফলন। এমন দৃষ্টান্ত জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক বার্তা বহন করে।
সচেতন মহলের অভিমত, সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করে বিধি অনুযায়ী অব্যবহৃত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়ার মতো উদ্যোগ অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের জন্যও অনুকরণীয় উদাহরণ হতে পারে। এ ধরনের দায়িত্বশীল পদক্ষেপ জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় করবে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথকে আরও শক্তিশালী করবে।