মাসুদ রানা, জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও ব্যবসার আধিপত্যকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।
শনিবার (৩০ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার পিংনা ইউনিয়নের নলসন্ধ্যা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন—মো. মাসুদ (৬০), চাঁন মিয়া (৫০), মাজহারুল ইসলাম মুকুল (৪৫), মো. আনিছুর মিয়া (৪০), হারুন অর রশিদ (৩২), হুমায়ুন কবির (৩৫) ও আব্দুর রহিম (৪৩)। আহতদের মধ্যে আনিছুর মিয়া, চাঁন মিয়া ও মাসুদের অবস্থার অবনতি হলে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পিংনা ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও ব্যবসা চলে আসছে। আহত রশিদ, কবিরসহ স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, পিংনা ইউনিয়নের গ্রামের মৃত ফজল মেম্বারের ছেলে সুভাস ও তার সহযোগী সাখাওয়াত নলসন্ধ্যা এলাকায় যমুনা নদী এবং নদীর পাশের ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন করে আসছিলেন।
এ নিয়ে পিংনা এলাকার মাসুদ, চাঁন মিয়াসহ স্থানীয় কয়েকজন প্রতিবাদ করলে সুভাস ও সাখাওয়াতের পক্ষের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পিংনার মো. মাসুদ ও তার কয়েকজন সহযোগী নলসন্ধ্যা এলাকার একটি চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় সুভাস ও সাখাওয়াতের নেতৃত্বে প্রায় আটটি মোটরসাইকেলে করে একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সেখানে গিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন আহতরা।
এ সময় চাঁন মিয়া, আনিছুর মিয়াসহ কয়েকজন আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর আনিছুর মিয়া, চাঁন মিয়া ও মো. মাসুদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। অন্য আহতরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, “ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এখনো এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সুভাস ও সাখাওয়াতের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।