নিজস্ব প্রতিবেদক, কুড়িগ্রাম: মৎস্য খাতে নারীরা মাছ ধরার পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাতকরণ, বাজারজাতকরণ ও পরিবারের অর্থনৈতিকে টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের অবদান এখনও স্বীকৃতি পাচ্ছে না। নারীদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি, সামাজিক স্বীকৃতি ও নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। কুড়িগ্রামের আরডিআরএস বাংলাদেশ কার্যালয়ের সভাকক্ষে ‘মৎস্য খাতে লিঙ্গ সমতা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি: বাংলাদেশের উদাহরণ বিশ্লেষন বিষয়ক বৈধকরণ কর্মশালায় বক্তারা এসব তথ্য তুলে ধরেন। সুইডিশ সরকারের অর্থায়নে এবং অক্সফাম নভিব দ্বারা ট্রোসা-২ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
স্টকহোম এনভায়রনমেন্ট ইনস্টিটিউট(SEI), ট্রোসা-২ উদ্দ্যেগে একটি গুনগত গবেষণা কুড়িগ্রাম ও চাঁদপুর এলাকায় সম্পন্ন করেছে, যা মৎস্য খাতে লিঙ্গভিত্তিক বিষয়গুলো নিয়ে অনুসন্ধান করেছে এবং এসব তথ্য পেয়েছে। কুড়িগ্রামের মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের উপর চালানো গবেষণায় দেখা গেছে, নারীরা মাছ ধরার পাশাপাশি পরিবারের অর্থনৈতিকে টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তবে এসব কাজকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয় না। কুড়িগ্রামের প্রান্তিক মৎস্যজীবী নারীরা এখনো এফআইডি (মৎস্যজীবী) কার্ড পায় না। ফলে মৎস্যজীবী পেশা হিসেবে তাদের কোন স্বীকৃতি নেই বলে কর্মশালায় জানানো হয়। গবেষণার ফল উপস্থাপন করেন, স্টকহোম এনভায়রনমেন্ট ইনস্টিটিউট (SEI) এর জুনিয়র কনসালট্যান্ট মো. মাহবুব-উল-হক ।
কর্মশালায় SEI-র রিসার্চ ফেলো ড. সিজউইলে খোজা, আরডিআরএস বাংলাদেশ কুড়িগ্রামের টিম লিডার-তপন কুমার সাহা, অক্সফামের প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর-শান্তা সোহেলী ময়না, সলিডারিটির-মোরশেদা বদরুন্নেসা বীথিসহ জেলে সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, ‘মৎস্যজীবী নারীরা শুধু শ্রম দিচ্ছেন না, বরং নানা সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাও করছেন। নিষেধাজ্ঞার সময় ও অফ সিজনে যখন মৎস্যজীবীদের হাতে কর্ম থাকে না তখন জেলে নারীদের উপর চাপ আরও বাড়ে। ফলে বাধ্যহয়ে নারীরা বিভিন্ন ক্ষুদ্রঋণের জালে জড়িয়ে পড়ে। ট্রোসা-২ প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী ড. একেএম সালাহ উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশ জুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকা এবং খাদ্য নিরাপত্তায় মৎস্য সেক্টর গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবুও, এই ক্ষেত্রে, নারী, আদিবাসী সম্প্রদায় এবং প্রান্তিক গোষ্ঠীর অবদান অনেক সময় অস্বীকৃত। আজকের এই আয়োজনের মাধ্যমে, আমরা সেই নেরেটিভ পরিবর্তন করতে চাই।’ সমাপ্তি বক্তব্যে ড. সিজউইলে খোজা বলেন, ‘মৎস্য খাতে নারীর অংশগ্রহণ শুধু সমতার প্রশ্ন নয়, বরং তা দেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলে। এই আলোচনা ভবিষ্যতের নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।’