মোঃ জালাল উদ্দিন নিজস্ব প্রতিবেদক:- ইদানিং লক্ষ্য করছি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (বিশেষ করে ফেসবুকে) এমন অনেক ব্যক্তি সরব হয়েছেন যাদের সংবাদ লেখার মৌলিক দক্ষতাই নেই। অমুক-তমুকের বিরুদ্ধে “অনুসন্ধানী প্রতিবেদন আসিতেছে” বলে পোস্ট দিচ্ছেন, অথচ এসব লেখালেখির মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত ও বিব্রত করছেন।
এরা আসলে অপেশাদার। সাংবাদিক নন। প্রকৃত গণমাধ্যমকর্মী হলে তাঁরা জানতেন—একটি জাতীয় পত্রিকা বা টেলিভিশনের সংবাদ প্রকাশের ক্ষমতা ও দায়িত্ব নিউজ এডিটরের। একজন প্রতিবেদক কেবল সংবাদ পাঠান; কোন সংবাদটি প্রকাশিত হবে, তা নির্ধারণ করেন নিউজ এডিটর।
আমরা যারা পত্রপত্রিকায় কাজ করি, জানি—সংবাদ লেখা একটি শৃঙ্খলিত, নৈতিকতার বিষয়। সঠিক তথ্য যাচাই, উপস্থাপন আর ভাষার শুদ্ধতা—সব মিলিয়ে তা একটি পেশা। কিন্তু এখন কিছু লোক সংবাদলেখার সংজ্ঞা জানেন না, অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের কৌশল জানেন না; তবু সাংবাদিক পরিচয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। কেউ কেউ ব্যক্তিস্বার্থে বা চাঁদাবাজির মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন।
সাংবাদিকতা কোনো গুন্ডামি বা রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রদর্শন নয়। সাংবাদিকদের কাজ রাষ্ট্র ও জনগণের পক্ষে, জনকল্যাণমুখী। তাই ফেসবুকে যারা “আসিতেছে” ইত্যাদি বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন, তাঁদের উচিত প্রথম সারির পত্রিকার লেখার ধরন দেখা, সাংবাদিকতার বইপত্র পড়া, সিনিয়রদের সহযোগিতায় কাজ শিখে নেওয়া।
আমি আমার ১০-১১ বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি—আজকে যেটুকু সক্ষমতা অর্জন করেছি, তা সম্ভব হয়েছে সিনিয়র সাংবাদিকদের কাছ থেকে শিখে। তাঁদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।
আমার বিশ্বাস, অপসাংবাদিকতা রোধে মূলধারার সাংবাদিকদের, সাধারণ মানুষকে এবং “বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল”-কে একসাথে এগিয়ে আসতে হবে। কারণ এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড সংবাদমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে। সাধারণ পাঠক/দর্শক আর বুঝতে পারছে না কে পেশাদার, কে নয়।
লেখক - সাংবাদিক এ.কে.অলক
গ্লোবাল টেলিভিশন।