বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী
টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি:
“জ্ঞানেই মুক্তি, আগামীর ভিত্তি” — এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ উদ্যাপন করা হয়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারের আয়োজনে টাঙ্গাইল জেলা গণগ্রন্থাগার মিলনায়তনে ভাষা আন্দোলন বিষয়ক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারের সিনিয়র লাইব্রেরিয়ান শামীম আরা সুবর্ণার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন জেলা গণগ্রন্থাগারের কেয়ারটেকার শ্যামল চন্দ্র কর্মকার। এতে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তা খন্দকার নিপুণ হোসাইন।
এছাড়াও আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন “সময়ের সাহিত্য কণ্ঠ”-এর সম্পাদক ও দৈনিক টাঙ্গাইল সমাচারের সম্পাদকীয় উপদেষ্টা কবি আযাদ কামাল এবং কালিহাতী শাহজাহান সিরাজ কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ জহির উদ্দিন।
প্রধান আলোচক খন্দকার নিপুণ হোসাইন বলেন, “আমাদের সকলেরই উচিত বাংলা ভাষার প্রতি বিশেষ যত্নশীল হওয়া। বাংলা ভাষার প্রতিটি শব্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। পৃথিবীতে যে কয়েকটি ভাষা রয়েছে, তার মধ্যে বাংলা অন্যতম। একসময় পৃথিবী থেকে হাতে গোনা কয়েকটি ভাষা ছাড়া অনেক ভাষার অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়ে যাবে। কিন্তু ইংরেজি, স্প্যানিশ, ফরাসি, আরবি ও হিন্দির পাশাপাশি বাংলা ভাষাও টিকে থাকবে। তাই আমাদের বাংলা ভাষার গুরুত্ব বুঝতে হবে এবং এই ভাষাকে ভালোবাসতে হবে।”
কবি আযাদ কামাল বলেন, “একটি ভাষা একটি জাতির অস্তিত্ব ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে। আমাদের বাংলা ভাষারও রয়েছে নিজস্ব ঐতিহ্য, জাতিসত্তা ও ইতিহাস। যাদের রক্তের বিনিময়ে আমরা বাংলা ভাষা পেয়েছি, সেই ভাষা শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।”
সভাপতির বক্তব্যে শামীম আরা সুবর্ণা বলেন, “ভাষা আন্দোলনের চেতনা কেবল ভাষার মর্যাদা রক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; এটি ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের সংগ্রাম। আসুন, মহান শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন ও সঠিক চর্চা নিশ্চিত করি।”
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার পাঠক, শিক্ষার্থী ও সাহিত্যপ্রেমীরা উপস্থিত ছিলেন।