স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা:
মানবাধিকার রক্ষা ও গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে “মানবাধিকার প্রতিদিন” পত্রিকার উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য প্রতিনিধি সম্মেলন, আলোচনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আগত প্রতিনিধিদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর ও তাৎপর্যপূর্ণ।
সম্মেলনের শুরুতেই মানবাধিকার বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি, সাংবাদিকতার নৈতিকতা এবং পেশাগত দায়বদ্ধতা নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত প্রামাণ্য উপস্থাপনা করা হয়। এতে বর্তমান প্রেক্ষাপটে মানবাধিকার পরিস্থিতি, চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাব ও ঢাকা প্রেসক্লাবের সভাপতি আওরঙ্গজেব কামাল। তিনি তার বক্তব্যে বলেন,
“সত্য প্রকাশে নিরপেক্ষতা আর শক্তিতে ঐক্য—এই দুটিই সাংবাদিকতার প্রাণ। মানবাধিকার রক্ষায় গণমাধ্যমের ভূমিকা আজ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আরও বলেন,
“একজন সাংবাদিক শুধু খবর পরিবেশন করেন না, বরং সমাজের বিবেক হিসেবে কাজ করেন। তাই প্রতিটি সংবাদে সত্য, ন্যায় এবং মানবিকতা প্রতিফলিত হওয়া জরুরি।”
এ সময় তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের মানোন্নয়নের জন্য প্রতিটি সাংবাদিকের জন্য সরকারি ভাতা কার্ড চালু করতে হবে। বেশি বেশি সাংবাদিককে সরকারি সুবিধা দিতে হবে এবং সরকারিভাবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাইফুল খান রুবেল, সিইও, ন্যাচারাল ভার্চু। তিনি বলেন,
“বর্তমান যুগ প্রযুক্তিনির্ভর। সঠিকভাবে প্রযুক্তির ব্যবহার করলে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যম আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের এই দিকটি গুরুত্ব দিয়ে কাজে লাগাতে হবে।”
তিনি প্রতিনিধিদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং আধুনিক সাংবাদিকতায় নিজেদের প্রস্তুত করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মানবাধিকার গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. আবুল হাসান। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন,
“মানবাধিকার শুধু একটি তাত্ত্বিক বিষয় নয়, এটি বাস্তব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য একটি দায়িত্ব। সমাজের প্রতিটি স্তরে ন্যায় ও সুবিচার প্রতিষ্ঠা করতে হলে আমাদের সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন,
“এই প্রতিনিধি সম্মেলন সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ঐক্য গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।”
সভায় বক্তারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সাহসী ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার বিকল্প নেই। তারা বলেন, তথ্য যাচাই-বাছাই করে সত্য সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ভূমিহীন ও গৃহহীন হাউজিং লিমিটেডের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. আজহার আলী, মো. কুতুব উদ্দিন প্রমুখ। এ সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রতিনিধিরা তাদের নিজ নিজ এলাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন। অনেকেই মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে যে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছেন, তা শেয়ার করেন এবং এর সমাধানে কেন্দ্রীয়ভাবে সহযোগিতা বৃদ্ধির দাবি জানান।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে অংশগ্রহণকারীরা মানবাধিকার রক্ষায় আরও সক্রিয় ও সংগঠিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের সম্মেলন নিয়মিত আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সম্মেলনটি শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়, বরং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও সাংবাদিকতার মানোন্নয়নে একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অনুষ্ঠান শেষে সকলের জন্য মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়।