এম.এ আরিফ চৌধুরী, প্রধান সম্পাদক: বাংলাদেশে সাংবাদিকদের জন্য নিরাপদ ও নির্যাতনমুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা কেবল একটি পেশাজীবী শ্রেণির দাবি নয়; এটি গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সুশাসন এবং সত্য প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত—এমনটাই মনে করে (B.C.P.C)। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, একটি স্বাধীন ও নির্ভীক গণমাধ্যম রাষ্ট্রের বিবেক হিসেবে কাজ করে। যেখানে সাংবাদিকরা ভয়ভীতি, হামলা, হয়রানি কিংবা মিথ্যা মামলার আশঙ্কা ছাড়াই কাজ করতে পারেন, সেখানেই প্রকৃত গণতন্ত্র বিকশিত হয়।
বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের হুমকি, শারীরিক হামলা, ডিজিটাল হয়রানি এবং মিথ্যা মামলার শিকার হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশের পর অনেক সাংবাদিককে নানা ধরনের চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। এসব ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা বিষয়ক সংস্থা । তারা বারবার সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধাহীন পরিবেশ তৈরির জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, একজন সাংবাদিক কেবল সংবাদ পরিবেশন করেন না; তিনি সমাজের অসংগতি তুলে ধরেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলেন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখেন এবং সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করেন। ফলে সাংবাদিকের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে সত্য প্রকাশের পথ সংকুচিত হয়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়ে এবং মানবাধিকার হুমকির মুখে পড়ে। তাই সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মানেই রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করা—এমনটাই মনে করে বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব (B.C.P.C)।
বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব (B.C.P.C) মনে করে, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে প্রথমত নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনা দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের আওতায় আনতে হবে। অপরাধীদের রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনের মুখোমুখি করতে হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য বাস্তবসম্মত নিরাপত্তা প্রটোকল প্রণয়ন ও তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে ডিজিটাল নিরাপত্তা, অনলাইন হয়রানি প্রতিরোধ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন সময়ের দাবি বলেও সংগঠনটি মনে করে।
এ ক্ষেত্রে সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যমের মালিকপক্ষ, সাংবাদিক সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব (B.C.P.C)। সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দায়িত্ব পালনের সময় প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম প্রদান, আইনি সহায়তা নিশ্চিতকরণ এবং পেশাগত অধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
সংগঠনটির নেতারা বলেন,
“আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে সাংবাদিকরা নির্ভয়ে কলম ধরতে পারবেন, ক্যামেরা চালাতে পারবেন এবং সত্য তুলে ধরতে পারবেন। কোনো ধরনের চাপ, হুমকি বা হয়রানি তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। সাংবাদিক নিরাপদ থাকলে রাষ্ট্র নিরাপদ থাকবে, গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে এবং মানবাধিকার সুরক্ষিত হবে।” — বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব (B.C.P.C)।
তারা আরও বলেন, সাংবাদিক নির্যাতনমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা মানে কেবল একটি পেশার মর্যাদা রক্ষা করা নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করা। কারণ স্বাধীন গণমাধ্যম ছাড়া গণতন্ত্র কখনো পূর্ণতা পায় না—এমনটাই মত বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব (B.C.P.C)-এর নেতৃবৃন্দের।
বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব (B.C.P.C)-এর সভাপতি খান সেলিম রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক মাহিদুল হাসান সরকার যৌথ বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, রাষ্ট্রের সব পর্যায়ে ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে খুব শিগগিরই সাংবাদিকবান্ধব ও নির্যাতনমুক্ত একটি পরিবেশ তৈরি হবে।
সত্য প্রকাশের সংগ্রামে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু সময়ের দাবি নয়—এটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার অন্যতম প্রধান শর্ত। একটি নিরাপদ, স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমই পারে রাষ্ট্র ও সমাজকে আলোকিত করতে, অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তুলতে এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে। তাই সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মানেই গণতন্ত্রের ভিতকে আরও মজবুত করা—এমন প্রত্যাশাই এখন দেশের সচেতন মহলের।