• শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:২২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
সেহলী পারভীন-ই হিউম্যান এইডের প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব — মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট সহকর্মীর অসদাচরণের অভিযোগে নিরাপত্তাহীন প্রধান শিক্ষিকা, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি ভবানীপুরে চলাচলের রাস্তার বেহাল দশা, চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী প্রসববেদনা নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পথে ট্রাকের ধাক্কায় নিহত অন্তঃসত্ত্বা নারী নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সম্মেলনের বিশেষ সম্মাননা পেলেন শ্রীমঙ্গলের কৃতি সন্তান ফারুক খাঁন সঠিক কাজটি করছি বলেই আমাদের সমালোচনা-আলোচনা হয়: মীর শাহে আলম। উত্তরায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুই সাংবাদিকের মর্মান্তিক মৃত্যুতে বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C)-এর গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ শিক্ষক ও বিএনপি নেতা আরিফুর রহমান মিল্টন মাস্টারের ইন্তেকালে চরভৈরবীতে শোকের ছায়া শেরপুরে চলাচলের রাস্তার বেহাল দশা, চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী। রুমায় দুর্গম আমইপাড়ায় সুপেয় পানির ট্যাংক দিল রুমা জোন বৈরী আবহাওয়ায় এইচএসসি পরীক্ষা চালিয়ে নেওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরলেন মাহদী আমিন আগামী ইউপি নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল হাই সরকার জনপ্রিয়তার শীর্ষে ডাবের পানিতে চেতনানাশক’ মিশিয়ে মানুষকে অজ্ঞান: নওগাঁয় প্রতারক চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার, অটোরিকশা উদ্ধার পেকুয়ায় বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর দুর্গত এলাকা পরিদর্শন চুয়াডাঙ্গায় ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার, সামারি ট্রায়ালে এক বছরের কারাদণ্ড ‘প্রতিশ্রুতি নয়, কাজের মাধ্যমেই মানুষের আস্থা অর্জন করতে চাই’ — সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ সুমন খান দেশের চার বিভাগে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা চট্টগ্রাম শহর ও জঙ্গল সলিমপুরে পাহাড়ধসে দুই শিশুর মৃত্যু ডুবে থাকা রেলপথ ৫ ফুট উঁচু করা হবে: রেল প্রতিমন্ত্রী আগামী মাসে তফসিল, অক্টোবরে ইউপি নির্বাচন: তথ্য উপদেষ্টা

রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলায় সোহেল রানা এবং স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ড।

dailydhakamail / ৪২ বার দেখা হয়েছে
আপডেট: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :– রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে মাত্র আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর অত্যন্ত নির্মমভাবে গলা কেটে ও খণ্ড-বিখণ্ড করে হত্যার আলোচিত মামলার চূড়ান্ত রায় আজ ঘোষণা করা হয়েছে।

রোববার (৭ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক মাসরুর সালেকীন এই ঐতিহাসিক রায়ে আসামি সোহেল রানা এবং স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।

এর আগে আজ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে আসামিদের আদালতে আনা হয়।

এদিকে, সমস্ত ফরেনসিক তথ্য, পারিপার্শ্বিক আলামত এবং আসামিদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী এই জঘন্য অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসিই একমাত্র কাম্য বলে দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

গত ১৯ মে সকালে প্রতিবেশী ভাড়াটিয়ার ফ্ল্যাটের ভেতরে পাশবিক নির্যাতন ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিল ছোট্ট রামিসা। এ ঘটনার পর ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ, মৃত্যু ঘটানো এবং পরবর্তীতে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে মরদেহ খণ্ড-বিখণ্ড করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়।

ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনা করে রাষ্ট্রপক্ষ ও আদালতের অভাবনীয় তৎপরতায় মাত্র ১৬ দিনের রেকর্ড সময়ে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন, সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা, আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন এবং চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ করে আজ রায়ের দিন ধার্য করা হয়, যা দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ও দ্রুততম আইনি মাইলফলক।

গত ২ জুন মামলার দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ট্রাইব্যুনাল চার্জশিটভুক্ত ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের জবানবন্দি ও জেরা অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন করেন। মামলার বাদী ও রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার অশ্রুসিক্ত জবানবন্দির মাধ্যমে এই সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে ভিকটিমের মা পারভীন আক্তার, বড় বোন রাইসা আক্তার (ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে), চাচা, ফুপু, ফুপা, প্রতিবেশী, সুরতহাল প্রস্তুতকারী পুলিশ কর্মকর্তা, ময়নাতদন্তকারী ফরেনসিক চিকিৎসক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে নিজেদের জবানবন্দি দেন, যেখানে আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কলিমউল্লাহ তাদের জেরা করেন। শুনানির সময় একের পর এক সাক্ষীর মুখে পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বিবরণ শুনে পুরো আদালতকক্ষে এক স্তব্ধ, শোক ও ক্ষোভের আবহ তৈরি হয় এবং উপস্থিত আইনজীবীসহ আদালত-সংশ্লিষ্ট অনেকেই ডুকরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

আদালতে রামিসার সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী কর্মকর্তা এসআই মো. ইকবাল হোসেনের বিবরণ পুরো এজলাসকে স্তব্ধ করে দেয়। তিনি কান্নাভেজা কণ্ঠে জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি জর্জেটের ওড়না উদ্ধার করা হয়, যা দিয়ে শিশুটির মুখ শক্ত করে বেঁধে পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল। আসামিদের শয়নকক্ষের দরজার সামনে খাটের নিচে মাথাবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রামিসার দেহ পড়ে ছিল এবং এক কোণায় রক্তমাখা একটি পানির বালতির ভেতর থেকে তার কাটা মাথাটি উদ্ধার করা হয়। লাশ চিরতরে গুম করার উদ্দেশ্যে নরপশুরা শিশুটির হাত-পা আলাদা করার পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার যৌনাঙ্গেও ক্ষত সৃষ্টি করে।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. নাসাদ জাবিন তার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ২০ মে দুপুরে যখন তিনি মরদেহ গ্রহণ করেন, তখন শিশুটির মুখে নখের আঁচড়, দুই ঠোঁট কাটা, নাক ভাঙা এবং বুকের বাঁ পাশে তীব্র আঘাতের চিহ্ন ছিল। মূলত অত্যন্ত ধারালো অস্ত্র বা ছুরি দিয়ে গলা কেটে মাথা বিচ্ছিন্ন করার কারণেই রামিসার তাৎক্ষণিক মৃত্যু হয় এবং ফরেনসিক ও ডিএনএ পরীক্ষায় মৃত্যুর পূর্বে তাকে পাশবিক উপায়ে ধর্ষণের অকাট্য আলামত পাওয়া যায়।

সবশেষে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে মামলার মূল তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান জানান, ঘটনার পর রামিসার মা পারভীন আক্তার প্রতিবেশীদের নিয়ে ওই ফ্ল্যাটের সামনে গিয়ে, ‘বোন, দরজাটা খুলে দে, তোর কিছু হবে না’— বলে বারবার আকুতি জানালেও ঘরের ভেতর থেকে খুনি দম্পতি দরজা খোলেনি।

কারণ, তারা তখন ভেতরে কমন বাথরুমে শিশুটিকে উপর্যুপরি আঘাত করে নিস্তেজ করার পর মৃত ভেবে লাশ গুম ও মাথা কাটার পৈশাচিক খেলায় লিপ্ত ছিল।

এমনকি গ্রেপ্তারের আগমুহূর্তে তারা রক্তাক্ত ঘরের গুরুত্বপূর্ণ সব আলামত ও আস্তরণ পানি দিয়ে ধুয়ে সম্পূর্ণভাবে নষ্ট করার চেষ্টা চালিয়েছিল।


এই বিভাগের আরও খবর

BROWSE BY TAG

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com