• বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
অব্যবহৃত ২০০ সরকারি ভবন হবে হাসপাতাল ও মাতৃসদন: সংসদে প্রধানমন্ত্রী অপতথ্য মোকাবিলায় ইউনেসকোর সহযোগিতা চাইলেন তথ্যমন্ত্রী নোয়াবের সঙ্গে বৈঠক: সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী ঢাকার প্রথম নারী ডিসি হলেন ফরিদা খানম পরিবহনের নতুন ভাড়া নির্ধারণে সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার: সড়কমন্ত্রী পদ্মা নদীতে টহলরত নৌ পুলিশের ওপর হামলা, ওসিসহ ৫ পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ কেনা দামের থেকে কমে তেলের দাম সমন্বয় করেছি: জ্বালানিমন্ত্রী এলপিজির দাম নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে সরকার: সংসদে জ্বালানি মন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জ্বালানি মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী শিগগিরই ১০ম ওয়েজবোর্ড গঠন, প্রকৃত সাংবাদিকদের তালিকায় আসছে ডাটাবেজ: তথ্যমন্ত্রী বাস ভাড়া বৃদ্ধিতে ১৫ পয়সার প্রস্তাব যাত্রী কল্যাণ সমিতির দেশে মজুত গ্যাস দিয়ে ১২ বছর চাহিদা পূরণ সম্ভব: জ্বালানিমন্ত্রী শেরপুরে বিএনপি কর্মী মতিন হত্যার ২৯ মাসেও বিচার মেলেনি ঢাকা শহরে আমার কোনো বাড়ি নেই, বাবার ফ্ল্যাটেই থাকি: স্পিকার হাফিজ ইসালে সওয়াব মাহফিলে দোয়া ও স্মরণে ভাসলেন মরহুম মইনুল মাস্টার নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে অসহায় ও ভূমিহীনদের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ঢাকার দুই সিটিসহ চার সিটিতে রোববার থেকে হাম টিকাদান শুরু দৈনিক মানবাধিকার প্রতিদিনের প্রতিনিধি সম্মেলনে: ন্যায় প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান ঢাকা প্রেসক্লাবের সভাপতির ইস্ট লন্ডনে যুক্তরাজ্য অনলাইন প্রেসক্লাবের সফল বিশেষ সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত  সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী আটক

ভোরে হোটেল, দুপুরে কলেজ:বাবার হাত ধরেই ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন বুনছেন কালাইয়ের নাসরিন

দৈনিক ঢাকা মেইল - DAILY DHAKA MAIL / ১৭৮ বার দেখা হয়েছে
আপডেট: শনিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৫

সুকমল চন্দ্র বর্মন (পিমল)
উপজেলা প্রতিনিধিঃ

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার বৈরাগীহাট মোড়ে ছোট্র পরিসরে নাসরিন তার বাবার হোটেলে প্রায় ৬ বছর ধরে খাবার তৈরি এবং হোটেল পরিচালনা করছেন এক মেধাবী শিক্ষার্থী নাসরিন আক্তার (১৮)। ১২ বছর আগে হোটেলটি চালু করেছিলেন তার বাবা মোকাব্বর মন্ডল (৫৫)।

নাসরিন এসএসসি পরীক্ষায় পেয়েছিলেন এ প্লাস। সে বর্তমানে উপজেলার কালাই সরকারি মহিলা ডিগ্রী কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী। নাসরিন এই হোটেল চালিয়েই সংসার ও পড়াশুনার খরচ চালান। বাবাকে সাহায্য করতেই এই মেধাবী শিক্ষার্থী বাবার সাথে চালিয়ে যাচ্ছেন খাবার হোটেলটি।
নিজেই তৈরী করছেন পুড়ি, পিয়াজু, সিঙ্গারা, ছামুচা,মোগলাই, চানাচুর। রান্না করছেন ভাত, মাছ,মাংসসহ হরেক রকমের তরকারি। আবার নিজেই করছেন খাবার পরিবেশন।

স্বল্প মূল্যে সু-স্বাদু খাবার পরিবেশন করায় বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গ্রাহকরা ছুটে আসে তার বাবার হোটেলে। খাবার খেতে আসা গ্রাহকরা বলছেন এই হোটেলের খাবার দামে কম মানে ভালো ও সুস্বাদু।
হোটেলে খাবার খেতে আসা ট্রাকচালক হাফিজুল ইসলাম জানান, তার বাড়ি বগুড়া। সে এই এলাকায় মাঝে মধ্যেই আসে, এই হোটেলে খাইতে আসেন খাবারের মান ভালো, রান্নাটাও অনেক ভালো।

খাবার খেতে মোখলেছুর রহমান, আমির হোসেন, আবুল কাশেমসহ অনেকে জানান, তাদের মাঝে মধ্যে এইদিকে কাজের প্রয়োজনে আসতে হয়। অনেক সময় খাবার দরকার হলে তারা এই হেটেলে বসেন। কারন মেয়ে অনেক শান্ত ও ভদ্র। খাবারের মানও ভাল।
নাসরিন হোটেলের পাশের মুদি দোকানী জিহাদুল ইসলাম বলেন, তাদের হোটেলে আর্থিক সমস্যার কারণে তার কোন কারিগর বা মেসিয়ার রাখতে পারেনা। বিধায় মেয়ে হয়েও সে তার বাবার হোটেলের যাবতীয় সবকিছু তৈরি করেন। সে পড়াশোনা আবার মেধাবী ছাত্রী।

কলেজ শিক্ষার্থী নাসরিন আক্তার জানান, সে মাধ্যমিকে কোন প্রকার প্রাইভেট পড়ে নাই। এখন বর্তমানে কালাই সরকারি মহিলা ডিগ্রী কলেজে এইচ এস সি বিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্রী। সে ভোরবেলায় হোটেলের কাজ করে কলেজে যায়। আবার কলেজ ছুটি দিলে ৩ টার দিকে চলে আসে এবং বিকাল ৪ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত হোটেলের এসব কাজ করে। অর্থের যোগান দিতে না পাড়ায় মা -বাবার কাজে সাহায্যের জন্য এগুলা কাজ করতে হয় তাকে।

নাসরিন আক্তারের বাবা মোকাব্বর মন্ডল বলেন, আমার মেয়ে কালাই মহিলা কলেজ পড়ে। সকালে হোটেলে কাজ রেখে যায়। আবার কলেজ থেকে ফিরে রাত প্রায় ১০টা পর্যন্ত সে কাজ করে। আমি গরিব মানুষ কোন কারিগর রাখতে পারিনাই। আমার মেয়েই সহযোগিতা করেন।

কালাই সরকারি মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ নাজিম উদ্দিন বলেন, সে তার বাবার হোটেলে কাজ করে লেখাপড়া চালায়। মেয়েটা খুব মেধাবী। কলেজের পক্ষে থেকে তাকে সাধ্যেমত সহযোগীতা করা হচ্ছে। আগামী দিনে নাসরিন তার স্বপ্ন পূরণ করবে বলে তিনি আশাবাদ করেন।

এ বিষয়ে কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শামিমা আক্তার জাহান বলেন, বৈরাগীর মোড়ে নাসরিন হোটেলে নাসরিন নামে যে মেয়েটির কথা শুনলাম সে তার পড়ালেখার পাশাপাশি বাবার সাথে হোটেলে কাজ করছে এটা একটা চমৎকার উদ্যোগ। তবে তার পড়ালেখার যেন ক্ষতি না হয় এই কাজটা করতে যেয়ে। সেজন্য তাকে যতটুকু আর্থিক সহযোগিতা আমাদের উপজেলা প্রশাসন থেকে করা প্রয়োজন সেটা আমরা করবো।


এই বিভাগের আরও খবর

BROWSE BY TAG

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com