কামরুল ইসলাম
স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকা
গত ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঢাকা শহরে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ও প্রথম আলোর যৌথ আয়োজনে জাতীয় গণিত অলিম্পিয়াডের জাতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত কৃতী ছাত্রছাত্রীরা অংশগ্রহণ করে তাদের মেধা, মনন ও বিশ্লেষণী দক্ষতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
জাতীয় গণিত অলিম্পিয়াড ২০২৬ ছিল বাংলাদেশের গণিত উৎসবের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেখানে দেশের প্রতিটি অঞ্চল থেকে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে জটিল গাণিতিক সমস্যার সমাধান এবং যুক্তিভিত্তিক বিশ্লেষণী দক্ষতা প্রদর্শন করে। এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণিতের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি, সৃজনশীল চিন্তাভাবনার বিকাশ এবং ভবিষ্যতের বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী গড়ে তুলতে একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করা।
এই প্রতিযোগিতায় ইকুয়েটর একাডেমি, উত্তরা-এর অংশগ্রহণ অলিম্পিয়াডকে আরও বিশেষ করে তুলেছে। প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত প্রতিযোগীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অংশগ্রহণ করে তাদের শক্তিশালী প্রস্তুতি ও ট্যালেন্ট সাপোর্ট ব্যবস্থার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। ইকুয়েটর একাডেমির প্রতিনিধিত্বকারী শিক্ষার্থীরা সংখ্যাতাত্ত্বিক জটিল সমস্যা সমাধান এবং যুক্তিভিত্তিক পরীক্ষায় নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করেছে, যা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের পথে তাদের আরও এক ধাপ এগিয়ে দেবে।
ইকুয়েটর একাডেমির ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ জনাব ইমতিয়াজ হোসেন তাঁর নেতৃত্বের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মনোবল বৃদ্ধি ও আত্মবিশ্বাসী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেন। তাঁর দিকনির্দেশনায় প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও উচ্চমানের প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড (BDMO) দেশের অন্যতম প্রধান ও মর্যাদাপূর্ণ গণিত প্রতিযোগিতা। এটি ২০০১ সাল থেকে বাংলাদেশ ম্যাথ অলিম্পিয়াড কমিটির তত্ত্বাবধানে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ও প্রথম আলোর সহযোগিতায় প্রায় নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এই প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণিতের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি ও সম্ভাবনা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং জাতীয় পর্যায়ে কৃতিত্ব অর্জনকারীদের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিচ্ছে।
আজকের এই আয়োজন দেশের শিক্ষাঙ্গনে গণিতচর্চায় নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে। বিশেষ করে ইকুয়েটর একাডেমির স্বতঃস্ফূর্ত ও সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রশংসার দাবিদার। যদিও প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত রাউন্ড ও ফলাফলের বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি, তবে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে—এমন প্রত্যাশাই করা যায়।