
মাহমুদুল হাসান, চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
যমুনা নদীর পূর্ব তীর সংরক্ষণ বাঁধের পাশ দিয়ে বালুবাহী বাল্কহেড চলাচলের কারণে জিও ব্যাগ ডাম্পিং সরে গিয়ে ব্লক ধস ও তীব্র ভাঙন দেখা দেওয়ায় সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে আবারও বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সোমবার বিকেলে ভুক্তভোগী জনগণ এ কর্মসূচি পালন করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তীররক্ষা বাঁধ, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ, হাট-বাজার, আবাদি জমি এবং অর্ধশতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ জনবসতি বর্তমানে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। যমুনার পূর্ব তীর ঘেঁষে বাল্কহেড চলাচল অব্যাহত থাকায় নতুন নতুন এলাকায় ভাঙন দেখা দিচ্ছে। ফলে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন চৌহালীর বাসিন্দারা।
বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল বন্ধের দাবিতে এর আগেও একাধিকবার বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, যমুনা নদীতে রাত-দিন ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন, বাল্কহেডে বালু পরিবহন এবং ভেকু ও মাহেন্দ্র নামে অবৈধ যানবাহন দিয়ে মাটি ও বালু কাটার কারণেই ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত মাসে জনতার বিক্ষোভের মুখে প্রশাসন সালিশি বৈঠক করলেও তা উপেক্ষা করে পুনরায় বাল্কহেড চলাচল শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, ভাঙনকবলিত স্থানে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ দেখিয়ে বাল্কহেড চলাচলের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এতে নদীপাড়ের মানুষের বসতভিটা, ফসলি জমি, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে।
ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দা আবুল বাশার গণমাধ্যমকে বলেন,“কয়েক দিন ধরে যমুনার তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। বালুমহালের শত শত বাল্কহেড বালু নিয়ে চলাচল করাই এর মূল কারণ।”
ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল বন্ধের দাবিতে স্থানীয়রা মানববন্ধনসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং প্রতিকার পেতে দৌড়ঝাঁপ করছেন। একই দাবিতে তারা ধারাবাহিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
এদিকে সোমবার বিকেলে উপজেলা নৌঘাট এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।