• শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ০৩:৩০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের পথে রাষ্ট্রপতি সিলেট রেঞ্জে নতুন ডিআইজি জিললুর রহমান শেরপুরে দুইটি চোরাই মোটরসাইকেলসহ দুই চোর গ্রেপ্তার গণমাধ্যমের কার্যকারিতা বিনষ্ট করছে মালিকপক্ষও: তথ্যমন্ত্রী সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ব্যবসায়ীর ওপর অতর্কিত হামলা ও টাকা লুটপাটের অভিযোগ নরসিংদীর পলাশে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ বগুড়ায় খেজুরের গুদামে আগুন, নিয়ন্ত্রণে দুই ইউনিট সাগর-রুনি হত্যা মামলা: তদন্ত শেষ করতে আরও ৬ মাস সময় দিলেন হাইকোর্ট প্রকল্প ব্যয়ে সাশ্রয়ী হতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন গণতন্ত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে: স্পিকার গাইবান্ধায় ৫ জনসহ সারাদেশে বজ্রপাতে ১৪ জনের মৃত্যু বজ্রপাতে চার গরুর মৃত্যু, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন বৃদ্ধ কানাডার এমপি নির্বাচনে জয়ী ডলি বেগমকে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র অভিনন্দন বগুড়ায় এসএসসি পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে গিয়ে কলেজছাত্রী আটক শেরপুরে সনাতন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বাৎসরিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত সামান্য পাওনা টাকার দাবিতে ঝরল প্রাণ, শেরপুরে বৃদ্ধ নিহত এসআই রোখসানাকে ‘ম্যাডাম’ সম্বোধন করায় যুবক আটক, মুচলেকায় মুক্তি। অব্যবহৃত ২০০ সরকারি ভবন হবে হাসপাতাল ও মাতৃসদন: সংসদে প্রধানমন্ত্রী অপতথ্য মোকাবিলায় ইউনেসকোর সহযোগিতা চাইলেন তথ্যমন্ত্রী নোয়াবের সঙ্গে বৈঠক: সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী

আজ ভয়াল ২৫ মার্চ, জাতীয় গণহত্যা দিবস

dailydhakamail / ৩৯ বার দেখা হয়েছে
আপডেট: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :-আজ ভয়াল ২৫ মার্চ, গণহত্যা দিবস। মানব সভ্যতার ইতিহাসে এটি একটি কলঙ্কিত হত্যাযজ্ঞের দিন। ১৯৭১ সালের অগ্নিঝরা ২৫ মার্চ বাঙালির জীবনে নেমে আসে নৃশংস, বীভত্স, ভয়ঙ্কর ও বিভীষিকাময় কালরাত্রি। এ রাতে বর্বর পাকবাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে ঢাকাসহ সারা দেশে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হিংস্র দানবের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে। মেতে ওঠে ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যা, যা কালরাত হিসেবে পরিচিত।

২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয় জাতীয় সংসদে ২০১৭ সালের ১১ মার্চ। ওই দিন থেকেই দিনটি গণহত্যা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। তবে, দিবসটির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এখনও মিলেনি। পাকিস্তানি বাহিনীর যে নির্মমতার শিকার হয়েছিল বাংলার মানুষ, সেই কালরাতকে স্মরণ করতে বাংলাদেশ এক মিনিটের জন্য বাতি নিভিয়ে রাখবে।

সরকারি এক তথ্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, আজ বুধবার রাত ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১০টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত সারা দেশে প্রতীকী ‘ব্ল্যাকআউট’ পালন করা হবে। এ সময় সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি ভবন ও স্থাপনায় কোনো আলোকসজ্জা করা যাবে না। কেপিআই এবং জরুরি স্থাপনাগুলো ব্ল্যাকআউটের আওতামুক্ত থাকবে।

দিবসটি উপলক্ষ্যে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গণহত্যা দিবস উপলক্ষ্যে বাণীতে বলেন, “২৫ মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনে সবচেয়ে নৃশংস ও বেদনাবিধুর অধ্যায়। এই গণহত্যায় পুরো জাতি বাক্রুদ্ধ ও স্তব্ধ হয়ে পড়ে। ২৫ মার্চের দিবাগত রাতে চট্টগ্রামের ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টে গণহত্যার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্রোহ ও সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। এর পর, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে, অসম সাহসী করে তুলে, সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে ও প্রাণ উত্সর্গ করতে অনুপ্রাণিত করে। শুরু হয় সশস্ত্র প্রতিরোধ ও রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ ৯ মাস পর লাখ লাখ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয় গৌরবময় বিজয়। তরুণ প্রজন্মকে ইতিহাসের এই নিষ্ঠুর বর্বরতা ও জাতি হিসেবে আমাদের গৌরবগাথা সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানতে হবে। হতে হবে অনুপ্রাণিত। আমরা একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাণীতে বলেন, “১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ স্বাধীনতাকামী বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত ও নৃশংসতম গণহত্যার দিন। পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে বাংলাদেশের নিরস্ত্র স্বাধীনতাকামী মানুষের ওপর ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস গণহত্যা চালায়। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা, রাজারবাগ পুলিশ লাইনসহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী ও নিরপরাধ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায় এবং হত্যা করে। ২৫ মার্চের গণহত্যা ছিল সুপরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ। তবে, ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে ‘উই রিভোল্ট’ বলে গণহত্যার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে ওঠে চট্টগ্রামের অষ্টম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টে। গণহত্যা প্রতিরোধের মধ্য দিয়েই শুরু হয় দীর্ঘ ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীনতার মূল্য ও তাৎপর্য বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ২৫ মার্চের গণহত্যা দিবস সম্পর্কেও জানা জরুরি। আসুন আমরা সবাই রাষ্ট্র ও সমাজে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে শহিদদের আত্মত্যাগের প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করি। একটি ন্যায়ভিত্তিক, উন্নত, সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি।”

উত্তাল দিন শেষে নামে সন্ধ্যা। গভীর হতে শুরু করে রাত। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কৃষ্ণপক্ষের রাত। তখনো কেউ জানে না কী ভয়ঙ্কর, নৃশংস ও বিভীষিকাময় রাত বাঙালির জীবনে নেমে আসছে। ব্যস্ত শহর ঢাকা ঘুমের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ঘরে ঘরে অনেকে ঘুমিয়ে পড়েছে। হঠাৎ যেন খুলে গেল নরকের সব দরজা। রাত সাড়ে ১১টায় ক্যান্টনমেন্ট থেকে বের হলো হনন-উদ্যত নরঘাতক পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। ছড়িয়ে পড়ল শহরময়। ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নাম নিয়ে মৃত্যুক্ষুধা নিয়ে জলপাই রঙের ট্যাংক নেমে আসে। চালানো হলো অত্যাধুনিক রাইফেল, মেশিনগান ও মর্টার। নিরীহ মানুষের আর্তনাদে ভারী হলো রাতের বাতাস। মুহূর্তে গুলিবর্ষণের মাধ্যমে পাকিস্তানি জল্লাদ বাহিনী নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। শুরু হলো বর্বর নিধনযজ্ঞ ও ধ্বংসের উন্মত্ত তান্ডব। হতচকিত বাঙালি কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঢলে পড়ল মৃত্যুর কোলে। মানুষের কান্না ও আর্তচিত্কারায় ভারী হয়ে ওঠে শহরের আকাশ। মধ্যরাতে ঢাকা পরিণত হয় লাশের শহরে। ঢাকা শহরের রাজারবাগ পুলিশ লাইন, পিলখানা ইপিআর সদর দপ্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, নীলক্ষেতসহ বিভিন্ন স্থানে নির্বিচারে তারা বাঙালি নিধন শুরু করে। মানব ইতিহাসের পাতায় রচিত হলো কালিমালিপ্ত আরেকটি অধ্যায়। নিরস্ত্র, ঘুমন্ত মানুষকে বর্বরভাবে হত্যার ঘটনায় স্তম্ভিত হলো বিশ্ববিবেক।

আজ যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে সারা দেশে গণহত্যা দিবস পালিত হবে। এ উপলক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের সব স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তি ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে ২৫ মার্চের গণহত্যা ও মহান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া ২৫ মার্চ দুপুর ১২টা থেকে ঢাকাসহ দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় মিনিপলসমূহে গণহত্যা বিষয়ক বস্তুনিষ্ঠ ও নৈর্ব্যক্তিক দুর্লভ আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। আজ বাদ জোহর অথবা সুবিধাজনক সময়ে ২৫ মার্চের রাতে নিহতদের স্মরণে সারা দেশে মসজিদে বিশেষ মোনাজাত ও বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। আজ রাতে কোনো অবস্থাতেই আলোকসজ্জা করা যাবে না।

একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে কাজ করবে সরকার—এমনটাই জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। ঈদ পরবর্তী প্রথম কর্মদিবসে মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “১৯৭১ সালে সংঘটিত গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনে বর্তমান সরকার জোরালোভাবে কাজ চালিয়ে যাবে। একাত্তরের গণহত্যার স্বীকৃতি পাওয়ার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে চলমান রয়েছে এবং সরকার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। একাত্তরের গণহত্যা নিয়ে সরকার কাজ করবে—এটি অত্যন্ত জরুরি। কারণ আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে এই ইতিহাস গভীরভাবে জড়িত।”


এই বিভাগের আরও খবর

BROWSE BY TAG

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com