মাসুদ রানা | জামালপুর প্রতিনিধি
“ইচ্ছেশ্রমে গড়ি দেশ, সুস্থ সুন্দর বাংলাদেশ”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ক্ষতিকর আগাছা পার্থেনিয়াম নির্মূলে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দিনব্যাপী সরিষাবাড়ী উপজেলার আওনা ইউনিয়নের জগন্নাথগঞ্জ পুরাতন ঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায় এ ক্ষতিকর উদ্ভিদ নির্মূল কার্যক্রম পরিচালনা করে সামাজিক সংগঠন ইচ্ছেশ্রম।
সংগঠনের সদস্যরা জানান, প্রকৃতি ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর পার্থেনিয়ামের ভয়াবহ প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে শুক্রবার উপজেলা জুড়ে দিনব্যাপী এ নির্মূল অভিযান পরিচালনা করা হয়। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইচ্ছেশ্রমের উদ্যোগে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ৩০টিরও বেশি স্থানে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানের আওতায় রাস্তার পাশ, খোলা জায়গা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকা, ফসলি জমির আশপাশ এবং জনবসতিপূর্ণ স্থান থেকে পার্থেনিয়াম অপসারণ করে সমূলে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়, যা পরবর্তীতে জৈবসারে পরিণত হয়।
সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সাল থেকে ইচ্ছেশ্রমের মাধ্যমে সরিষাবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিকভাবে এই ক্ষতিকর পার্থেনিয়াম উদ্ভিদ নির্মূল কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পার্থেনিয়াম ক্ষতিকর উদ্ভিদের আদি নিবাস উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং পূর্ব মেক্সিকো। এটি নরম কাণ্ডবিশিষ্ট গুল্মজাতীয় আগাছা, যা সাধারণত ‘গাজর ঘাস’ নামে পরিচিত। গাছটি সাধারণত ২ থেকে ৫ ফুট পর্যন্ত উঁচু হয়ে থাকে এবং দেখতে অনেকটা গাজর পাতা কিংবা চন্দ্রমল্লিকা ফুলগাছের পাতার মতো।
এ গাছে ছোট ছোট সাদা ফুল ফোটে। এর বীজ অত্যন্ত ক্ষুদ্র ও হালকা হওয়ায় বাতাসের মাধ্যমে দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত বংশবিস্তার করে। একটি গাছ মাত্র চার মাসে তিনবার ফুল দিয়ে প্রায় ৪ হাজার থেকে ১৫ হাজার পর্যন্ত বীজ উৎপন্ন করতে পারে, যা এর ভয়াবহ বিস্তারের অন্যতম কারণ।
ইচ্ছেশ্রম সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সহকারী অধ্যাপক মোঃ হাসমত আলী বলেন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ছুটির দিনে এই ক্ষতিকর পার্থেনিয়াম উদ্ভিদ নির্মূলে কাজ করে আসছেন। আজকের এই অভিযানের মাধ্যমে সরিষাবাড়ী উপজেলাকে পার্থেনিয়ামমুক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পার্থেনিয়াম সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা অত্যন্ত কঠিন, কারণ বাতাসের মাধ্যমে এর বীজ ছড়িয়ে যেকোনো স্থানে গজাতে পারে। তবে তার এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে সারা বাংলাদেশ থেকে এই ক্ষতিকর উদ্ভিদ নির্মূলে একটি কার্যকর ও সুপরিকল্পিত কর্মসূচি গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অনুপ সিংহ জানান, পার্থেনিয়াম একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর উদ্ভিদ। এ উদ্ভিদ থেকে নির্গত ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ ফসলের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়। এছাড়া পার্থেনিয়ামের ফুলের রেণু বাতাসের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, জ্বর, অ্যালার্জি, চর্মরোগ ও ব্রংকাইটিসসহ নানা জটিল রোগের সৃষ্টি হতে পারে। এমনকি গবাদিপশু এই ঘাস খেলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে বলেও জানান তিনি।