নিজস্ব প্রতিবেদক | কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমাবেশে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিক মো. ফারুক হামলার শিকার হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটে ১৫ জুলাই (সোমবার) দুপুরে জেলা শহরের কলেজ মোড়ে। তিনি দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকার সহ-নির্বাহী সম্পাদক এবং উত্তরবঙ্গের সংবাদ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সারাদেশের কর্মসূচির অংশ হিসেবে সেদিন সকাল ১১টার দিকে কলেজ মোড় থেকে শাপলা চত্বর অভিমুখে সাধারণ শিক্ষার্থীরা একটি শান্তিপূর্ণ মিছিল বের করেন। সমাবেশ শেষে অধিকাংশ শিক্ষার্থী চলে গেলেও কয়েকজন শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের সমন্বয়কারীরা কলেজ মোড়ে অবস্থান করছিলেন।
এ সময় কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী সেখানে এসে শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের কয়েকজনের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিক মো. ফারুকসহ কয়েকজন সংবাদকর্মী হামলার ভিডিও ধারণ করছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ভিডিও ধারণ করতে দেখে কয়েকজন হামলাকারী সাংবাদিক মো. ফারুকের ওপর চড়াও হন। প্রেস কার্ড গলায় ঝুলানো থাকা সত্ত্বেও তার শার্টের কলার ধরে টানাহেঁচড়া করা হয়, মাথায় আঘাত করা হয় এবং ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে তিনি পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নিয়ে নিজেকে রক্ষা করেন।
সাংবাদিক মো. ফারুক বলেন, আমি পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলাম। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও আমার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. গাদ্দাফি। তিনি বলেন, এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাদের নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিরোধের দায় আমাদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এ কে এম ওহিদুন্নবী বলেন, ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।