পঙ্কজ বিশ্বাস
গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
কোটালিপাড়া উপজেলার কুশলা ইউনিয়নের মান্দ্রা গ্রামে চলাচলের একমাত্র পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এতে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি পরিবার কার্যত গৃহবন্দী হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মান্দ্রা গ্রামের পল্টু রায় চৌধুরী নামের এক ব্যক্তি পূর্বপরিকল্পিতভাবে বহু পুরোনো একটি আশ্রমের প্রবেশপথ ও গ্রামের মানুষের ব্যবহৃত রাস্তা বন্ধ করে দেন। সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। দেখা যায়, রাস্তার অংশবিশেষ থেকে মাটি কেটে উঁচু করা হয়েছে এবং বাঁশ দিয়ে ঘিরে চলাচলের পথ সম্পূর্ণরূপে অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সদস্যরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। তাদের অভিযোগ, পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দৈনন্দিন কাজকর্ম, শিশুদের স্কুলে যাওয়া, অসুস্থদের চিকিৎসা গ্রহণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় তারা চরম বিপাকে রয়েছেন। দ্রুত পথ পুনরুদ্ধারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
ঘটনার প্রভাবে এলাকার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বিশ্বশুক সেবাশ্রম সংঘ এবং মিলন মাঠের কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আশ্রম কর্তৃপক্ষ জানান, নিয়মিত ধর্মীয় অনুষ্ঠান পরিচালনায় বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। প্রতিবছর এখানে আয়োজিত বার্ষিক মেলায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্তবৃন্দের আগমন ঘটে এবং পাশের স্কুল মাঠজুড়ে মেলা বসে। কিন্তু রাস্তা বন্ধ থাকায় আগত ভক্তদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পল্টু রায় চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে বক্তব্য দিতে সম্মত হন। তবে এ সময় তার স্ত্রী ও এক ছেলে বারবার তাকে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তার স্ত্রী উচ্চস্বরে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “এটা আমার জায়গা, আমি বন্ধ করেছি। এটা কোনো চলাচলের পথ ছিল না। ওরা আমার অনেক ক্ষতি করেছে।” তিনি আরও বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। এ সময় পল্টু রায় চৌধুরীকে নীরব থাকতে এবং স্ত্রীর বক্তব্যে সায় দিতে দেখা যায়।
স্থানীয় গ্রামবাসী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এ ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের দাবি, প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে অবরুদ্ধ পথটি উন্মুক্ত করে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে হবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।