শফিকুল ইসলাম, বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার কাচদাহ ব্রিজ সংলগ্ন বিনোদন নগর ইউনিয়ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে বসছে অবৈধ জুয়া ‘ফড়গুটি’ খেলার বিশাল আসর। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নদীর ধারে লাখ লাখ টাকার জুয়ার রমরমা ব্যবসা চলছে। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, প্রতিদিন আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার লেনদেন হয় এই অবৈধ জুয়া খেলায়। খেলা শুরু হওয়ার আগেই কাচদাহ ব্রিজ ও সংলগ্ন বাজার এলাকায় জুয়ার আয়োজকদের নিজস্ব লোকজন পাহারায় অবস্থান নেয়। জয়পুরহাট, ঘোড়াঘাট, রংপুর, গোবিন্দগঞ্জ, পাঁচবিবি ও হাকিমপুরসহ বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে জুয়াড়িরা এসে ভিড় জমায়।
অভিযোগ উঠেছে, সবকিছু প্রকাশ্যে চললেও নবাবগঞ্জ থানার পুলিশ কার্যত অসহায় দর্শকের ভূমিকায় রয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন—তাহলে কি কোনো অদৃশ্য শক্তির ছত্রছায়ায় চলছে এই জুয়ার সাম্রাজ্য?
দীর্ঘদিন ধরে এভাবে জুয়া চলার ফলে এলাকায় ভয়াবহ সামাজিক অবক্ষয় তৈরি হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। বেড়েছে চুরি, ছিনতাই, রাহাজানি ও ডাকাতির মতো অপরাধ। বহু পরিবার সর্বস্বান্ত হয়ে পথে বসেছে। উঠতি বয়সী কিশোর-তরুণরা লোভে পড়ে জুয়ার আসরে জড়িয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার করছে।
একাধিক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“আমাদের সন্তানরা স্কুল-কলেজ ফাঁকি দিয়ে জুয়ার টেবিলে বসছে। আজ তারা জুয়াড়ি, কাল তারা অপরাধী—এ দায় কে নেবে?”
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রকাশ্যে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার জুয়া চলা আইনের চরম অবমাননা। প্রশাসনের চোখের সামনে এমন কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষের আইন-শৃঙ্খলার ওপর আস্থা ভেঙে পড়বে।
এলাকাবাসীর জোর দাবি—অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, নিয়মিত পুলিশি টহল বৃদ্ধি এবং জুয়ার সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করতে হবে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন।
নবাবগঞ্জে জুয়ার থাবা রুখতে এখনই কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ প্রয়োজন—নচেৎ সামাজিক বিপর্যয় আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।