• মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
চরভদ্রাসনে ১০৫ পিস ইয়াবাসহ নারী আটক। টেকনাফে অপহৃত রোহিঙ্গা তরুণ উদ্ধার, আটক ১ চরভদ্রাসনে মাদকবিরোধী অভিযানে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড চৌহালীতে পল্লী বিদ্যুতের সাব-জোনাল অফিস উদ্বোধন লন্ডনে আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন বগুড়ায় জিয়া সাইবার ফোর্সের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প দুই শতাধিক রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা ডেঙ্গু প্রতিরোধে কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির পরিচ্ছন্নতা অভিযান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেক ভালো হয়েছে: গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী উপনির্বাচনেও মোতায়েন থাকবে সেনাবাহিনী, ব্যবহার হবে আধুনিক প্রযুক্তি: ইসি ইউপি নির্বাচন আগামী বছরের ৬ জুনের মধ্যে শেষ করতে হবে: ইসি সানাউল্লাহ টেকনাফে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ১০ হাজার ইয়াবাসহ আটক ৩ সেন্টমার্টিনে ১৫০ নিম্ন আয়ের পরিবারের মাঝে কোস্ট গার্ডের ত্রাণ বিতরণ বাংলাদেশিদের জন্য ভিয়েতনামের ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির র‍্যাব বিলুপ্ত করে গেজেট, এসআরবি নামে যাত্রা শুরু রূপনগরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ওসির মতবিনিময় সিরাজগঞ্জে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ রৌমারী উপজেলার প্রখ্যাত আলেম মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক মন্ডল : জীবন ও কর্ম টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে স্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে যুবকের আত্মহত্যা আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে কোটালীপাড়ায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত কাজিপুরের দুর্গম চরাঞ্চল নাটুয়ারপাড়ায় আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ সুপারের উঠান বৈঠক

পাঁচবিবিতে খাল পুনঃখনন প্রকল্পের অব্যয়িত ১০ লাখ ৮৭ হাজার ২৬৫ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিলেন ইউএনও

dailydhakamail / ৩১ বার দেখা হয়েছে
আপডেট: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি অর্থ জনগণের আমানত। সেই আমানতের যথাযথ ব্যবহার, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাশপিয়া তাসরিন।

উপজেলার দুটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ বরাদ্দের তুলনায় কম ব্যয়ে সফলভাবে সম্পন্ন করে অব্যয়িত ১০ লাখ ৮৭ হাজার ২৬৫ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিয়ে তিনি দায়িত্বশীল, সৎ ও জনবান্ধব প্রশাসনের একটি অনুকরণীয় নজির স্থাপন করেছেন। সরকারি অর্থের অপচয় রোধে তাঁর এই উদ্যোগ স্থানীয় জনসাধারণ ও সচেতন মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের মাধ্যমে বাগজানা ইউনিয়নের সোনাপুর–খোর্দ্দমশুল–ঝিনাইগাড়ী হয়ে সোনামনু মাস্টারের জমি থেকে জীবনপুর অভিমুখে ১,৮০০ মিটার খাল পুনঃখননের জন্য ৩১ লাখ ৭৯ হাজার টাকা এবং কুসুম্বা ইউনিয়নের ঢাকারপাড়া আকরামের বাড়ি থেকে কুসুম্বা সুইচগেট অভিমুখে ৬০০ মিটার খাল পুনঃখননের জন্য ৮ লাখ ২৭ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী খাল দুটি পুনঃখননের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর বর্ষাকালে কয়েক দফা খালের পাড় সংস্কার করা হয়। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় খালের দুই পাশে বিভিন্ন প্রজাতির কয়েক শ গাছ রোপণ করা হয়েছে, যা পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ পরিবেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোনাপুর–জীবনপুর খাল পুনঃখনন প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে ২১ লাখ ৪৩ হাজার ৮৮৫ টাকা। ফলে এ প্রকল্পে অব্যয়িত থাকে ১০ লাখ ৩৫ হাজার ১১৫ টাকা। অন্যদিকে, ঢাকারপাড়া–কুসুম্বা সুইচগেট খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৭ লাখ ৭৪ হাজার ৮৫০ টাকা, ফলে অব্যয়িত থাকে ৫২ হাজার ১৫০ টাকা। দুটি প্রকল্প মিলিয়ে মোট ১০ লাখ ৮৭ হাজার ২৬৫ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাশপিয়া তাসরিন বলেন,
“মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী পাঁচবিবি উপজেলার বাগজানা ও কুসুম্বা ইউনিয়নে দুটি খাল পুনঃখননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। খাল পুনঃখননের কাজ শেষে শ্রমিকদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে সরাসরি মজুরি পরিশোধ করা হয়েছে। এরপর অব্যয়িত অতিরিক্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে খাল পুনঃখনন-সংক্রান্ত কমিটির সব সদস্য দায়িত্ব পালন করায় এটি সম্ভব হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, এই খাল পুনঃখননের ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষকদের সেচব্যবস্থা আরও সহজ হবে এবং জলাবদ্ধতা নিরসনেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।”

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি প্রকল্পে বরাদ্দের পুরো অর্থ ব্যয় করাই যে সাফল্যের একমাত্র মাপকাঠি নয়, বরং প্রয়োজনীয় কাজ শতভাগ সম্পন্ন করে অব্যয়িত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়াই প্রকৃত দায়িত্বশীলতা ও সততার পরিচয়। ইউএনও কাশপিয়া তাসরিন সেই বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর এই উদ্যোগ প্রমাণ করেছে—সৎ নেতৃত্ব, দক্ষ পরিকল্পনা এবং জবাবদিহিমূলক প্রশাসন থাকলে জনগণের প্রতিটি টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব।

সরকারি অর্থ সাশ্রয়, উন্নয়নকাজের গুণগত মান বজায় রাখা এবং জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে ইউএনও কাশপিয়া তাসরিনের এই পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। অনেকের মতে, এমন দায়িত্বশীল ও সৎ প্রশাসনিক চর্চাই জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় করবে এবং দেশের অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।


এই বিভাগের আরও খবর

BROWSE BY TAG

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com