মোঃ আরমান হোসেন ডলার
সত্য, ন্যায়, বস্তুনিষ্ঠতা ও জনস্বার্থে সংবাদ পরিবেশনের প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে চলা জনপ্রিয় আইপি টেলিভিশন ইয়ুথ টেলিভিশন প্রতিষ্ঠার ১০ বছর পেরিয়ে গৌরবময় ১১তম বছরে পদার্পণ করেছে।
এই আনন্দঘন ও তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্তে ইয়ুথ টেলিভিশনের ১১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানটির সম্মানিত উপদেষ্টামণ্ডলী, চেয়ারম্যান, পরিচালনা পর্ষদ, সাংবাদিক, সংবাদকর্মী, কলাকুশলী, বিজ্ঞাপনদাতা, শুভানুধ্যায়ী এবং অগণিত পাঠক ও দর্শককে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা, অভিনন্দন ও অফুরন্ত ভালোবাসা।
সত্য প্রকাশের সাহস, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের অঙ্গীকার এবং মানুষের কথা বলার প্রত্যয়ই একটি গণমাধ্যমের প্রকৃত শক্তি।
সেই শক্তিকে ধারণ করে ইয়ুথ টেলিভিশন তার পথচলার ১১তম বছরে পদার্পণ করেছে—যা নিঃসন্দেহে আনন্দ, গর্ব ও আশাবাদের বিষয়।
গণমাধ্যম কেবল সংবাদ প্রচারের মাধ্যম নয়; এটি সমাজের দর্পণ, মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরির অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার। একটি দায়িত্বশীল গণমাধ্যম সমাজের অসংগতি তুলে ধরে, মানুষের অধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে জনমত গঠনে ভূমিকা রাখে এবং সত্যের আলোয় সমাজকে আলোকিত করার প্রচেষ্টা চালায়।
এ ক্ষেত্রে ইয়ুথ টেলিভিশনের বলিষ্ঠ ভূমিকা আরও বিকশিত হোক—প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই শুভক্ষণে এটাই আমার আন্তরিক প্রত্যাশা।
‘জনপ্রিয় সত্যের পথে, তরুণদের সাথে’—এই প্রত্যয়কে ধারণ করে ইয়ুথ টেলিভিশনের পথচলা হোক আরও গতিশীল, সাহসী, মানবিক ও জনকল্যাণমুখী। তরুণসমাজ একটি দেশের প্রাণশক্তি। তাদের চিন্তা, সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী ক্ষমতা এবং ইতিবাচক উদ্যোগকে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তরুণদের সম্ভাবনা, স্বপ্ন, সংগ্রাম ও সাফল্যকে যথাযথভাবে তুলে ধরার মাধ্যমে ইয়ুথ টেলিভিশন আগামী দিনে আরও বৃহত্তর পরিসরে মানুষের আস্থা অর্জন করুক—এমন প্রত্যাশা রাখি।
বর্তমান বিশ্বে তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ফলে গণমাধ্যমের পরিসর যেমন বিস্তৃত হয়েছে, তেমনি বেড়েছে দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ। মুহূর্তের মধ্যে সংবাদ ছড়িয়ে পড়লেও প্রতিটি তথ্যের সত্যতা যাচাই, নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং দায়িত্বশীলভাবে সংবাদ পরিবেশন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গুজব, অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণার ভিড়ে সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতাই পারে মানুষের আস্থা অটুট রাখতে। তাই সংবাদ পরিবেশনে পেশাদারত্ব, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ এবং বস্তুনিষ্ঠতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ইয়ুথ টেলিভিশন এগিয়ে যাবে—এটাই আমার প্রত্যাশা।
আমি বিশ্বাস করি, একটি গণমাধ্যমের প্রকৃত সাফল্য শুধু তার সম্প্রচার বা দর্শকসংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের বিশ্বাস অর্জন, জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের কথা তুলে ধরা এবং সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে অবদান রাখার মধ্যেই তার সার্থকতা নিহিত। মানুষের সুখ-দুঃখ, সমস্যা-সম্ভাবনা, অধিকার ও ন্যায়বিচারের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরার মাধ্যমে ইয়ুথ টেলিভিশন একটি মানবিক, সচেতন ও দায়িত্বশীল সমাজ গঠনে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখুক।
এই দীর্ঘ পথচলায় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রত্যেক মানুষের শ্রম, মেধা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা নিশ্চয়ই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। পর্দার সামনে যাঁরা সংবাদ উপস্থাপন করেন, মাঠপর্যায়ে যাঁরা জীবনের ঝুঁকি ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত থাকেন, যাঁরা সংবাদ সম্পাদনা, প্রযুক্তিগত কার্যক্রম ও সম্প্রচার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেন—সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাই একটি গণমাধ্যমকে এগিয়ে নিয়ে যায়। ইয়ুথ টেলিভিশনের এই পথচলায় সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি জানাই আন্তরিক শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন।
বিশেষ করে, সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও নৈতিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সত্য অনুসন্ধান, জনস্বার্থ সংরক্ষণ এবং মানুষের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেওয়া। কোনো চাপ, প্রলোভন কিংবা ব্যক্তিস্বার্থ যেন সত্য প্রকাশের পথকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে—এমন দৃঢ় অবস্থানই একটি গণমাধ্যমকে স্বতন্ত্র মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করে। ইয়ুথ টেলিভিশন এই আদর্শকে ধারণ করে আরও সমৃদ্ধ ও বিশ্বাসযোগ্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত হোক।
প্রতিষ্ঠার এক দশক অতিক্রম করে ১১তম বছরে পদার্পণ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই অর্জনকে পেছনের সাফল্যের স্মারক হিসেবে দেখার পাশাপাশি ভবিষ্যতের নতুন লক্ষ্য নির্ধারণের প্রেরণা হিসেবেও গ্রহণ করতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার বিকাশ, তরুণ সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ এবং প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমে ইয়ুথ টেলিভিশন আগামী দিনে আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করছি।
আমি ইয়ুথ টেলিভিশনের উত্তরোত্তর সাফল্য, সমৃদ্ধি ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি। প্রতিষ্ঠানটি তার স্বকীয়তা, পেশাগত উৎকর্ষ, সত্যনিষ্ঠা ও জনকল্যাণের অঙ্গীকার অটুট রেখে দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনে আরও সম্মানজনক অবস্থান তৈরি করুক। সত্যের পক্ষে সাহসী উচ্চারণ, মানুষের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে অবদান রাখার মধ্য দিয়ে ইয়ুথ টেলিভিশনের প্রতিটি নতুন বছর হয়ে উঠুক আরও গৌরবময়।
পরিশেষে, ১১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই শুভক্ষণে আবারও ইয়ুথ টেলিভিশন পরিবারের সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আপনাদের নিরলস প্রচেষ্টা সফল হোক, কর্মযাত্রা হোক মসৃণ এবং আগামী দিনের প্রতিটি পদক্ষেপ বয়ে আনুক নতুন সম্ভাবনা ও সাফল্য।
সত্যের পথে অবিচল থাকুক ইয়ুথ টেলিভিশন, মানুষের আস্থায় এগিয়ে যাক বহুদূর।
আলোকিত হোক সমাজ, সমৃদ্ধ হোক দেশ, জয় হোক সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার।
শুভ ১১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, ইয়ুথ টেলিভিশন।
সত্য প্রকাশে অবিচল থাকুন, মানুষের আস্থায় এগিয়ে চলুন।
শুভেচ্ছান্তে,
মোঃ আরমান হোসেন ডলার
সভাপতি
বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতি, বগুড়া জেলা শাখা, বগুড়া।
সহ-সভাপতি
বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C.), কেন্দ্রীয় কমিটি।