• মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
কুড়িগ্রামে এক ঘরেই ৫ হাজার রেকর্ড, ২২ গ্রামোফোন—বেঁচে আছে কলের গানের যুগ নরসিংদীর শিবপুরে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন ভোররাতে ডিবির বড় অভিযান: নওগাঁয় সাড়ে ৪২ কেজি গাঁজাসহ শীর্ষ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার টেকনাফে ৫০ লিটার দেশীয় মদসহ মাদক কারবারি আটক সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে আশাশুনি চ্যাম্পিয়ন সরিষাবাড়ীতে বালু ব্যবসার আধিপত্য নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৭ ঘোড়ায় চড়ে বর, পালকিতে কনে, মহিষ ও গরুর গাড়িতে বরযাত্রী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত টেকনাফে ৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত সাকের আহম্মদ গ্রেপ্তার আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাব ট্রাস্টের উপদেষ্টা হলেন সম্পাদক খান সেলিম রহমান আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাব ট্রাস্টের লোগো উন্মোচন ও অভিষেক অনুষ্ঠিত সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা, নিরাপত্তা ও কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় উত্তাল নাফ নদীতে বিজিবির অভিযান, ১ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবাসহ আটক ৩ সিরাজগঞ্জে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হাতেম হাসিল ভাতহাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণির অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত সিরাজগঞ্জে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও দোয়া মাহফিল নিশ্চিন্তপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হলেন সাবেক অগ্রণী ব্যাংকের এজিএম মো. ফরিদুল হক। নওগাঁয় ৬ বছরের শিশুকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, দুই কিশোর গ্রেপ্তার চরভদ্রাসনে বাড়িতে চুরির অভিযোগ, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা খোয়া যাওয়ার দাবি টেকনাফে এক লাখ ইয়াবা উদ্ধার পিকআপ ভ্যান জব্দ , গ্রেপ্তার ২ নীলফামারীতে ব্যাংক গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা নৈশ প্রহরী

কুড়িগ্রামে এক ঘরেই ৫ হাজার রেকর্ড, ২২ গ্রামোফোন—বেঁচে আছে কলের গানের যুগ

দৈনিক ঢাকা মেইল / ৬ বার দেখা হয়েছে
আপডেট: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

 

ফারুক মিয়া, কুড়িগ্রাম:

একসময় গান শোনার জন্য মানুষের ভরসা ছিল গ্রামোফোন। কালো রঙের গোলাকার রেকর্ডে বাজত প্রিয় শিল্পীদের গান। বাড়ির উঠান কিংবা বৈঠকখানায় গ্রামোফোনের চোঙা থেকে ভেসে আসা সুরে মুগ্ধ হতো মানুষ। সময়ের সঙ্গে ক্যাসেট, সিডি, মেমোরি কার্ড হয়ে গান এখন পৌঁছে গেছে অনলাইন স্ট্রিমিংয়ে। হারিয়ে গেছে সেই কলের গান আর গ্রামোফোনের যুগ।

তবে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার জুম্মাহাট কেবল কৃষ্ণ গ্রামের আমজাদ হোসেনের ঘরে এখনো যেন আটকে আছে সেই পুরোনো সময়।

তাঁর বাড়ির একটি ঘরে ঢুকলেই চোখে পড়ে সারি সারি গ্রামোফোন। চারপাশে ছড়িয়ে আছে হাজার হাজার পুরোনো রেকর্ড ও অডিও ক্যাসেট। সব মিলিয়ে ঘরটি যেন হারিয়ে যাওয়া কলের গান ও গ্রামোফোনের এক জীবন্ত জাদুঘর।

শখ আর ভালোবাসা থেকেই বছরের পর বছর ধরে এসব সামগ্রী সংগ্রহ করেছেন আমজাদ হোসেন। বর্তমানে তাঁর সংগ্রহে রয়েছে প্রায় ২২টি গ্রামোফোন, ৫ হাজার গ্রামোফোন রেকর্ড ও ১ হাজার অডিও ক্যাসেট।

এসব রেকর্ডে রয়েছে ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন সময়ের জনপ্রিয় শিল্পীদের গান। ভাওয়াইয়া ও লোকগানের পাশাপাশি তাঁর সংগ্রহে আছে হৈমন্তী শুক্লা, কিশোর কুমার, আশা ভোঁসলে, অনুপ ঘোষাল, অনুপ জালোটা, মোহাম্মদ রফী, পঙ্কজ উদাসসহ বহু খ্যাতিমান শিল্পীর গান।

পুরোনো দিনের অনেক রেকর্ডই এখন আর সহজে পাওয়া যায় না। ফলে আমজাদের এই সংগ্রহের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বও দিন দিন বাড়ছে।

আমজাদ হোসেন বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির কারণে এখন খুব সহজেই গান শোনা যায়। কিন্তু পুরোনো গ্রামোফোনে গান শোনার অনুভূতি আলাদা। শখের বশে তিনি একসময় গ্রামোফোন ও রেকর্ড সংগ্রহ শুরু করেন। পরে সেই শখই পরিণত হয় বড় সংগ্রহে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবু বক্কর বলেন, অবসর সময়ে তাঁরা আমজাদের বাড়িতে গিয়ে পুরোনো দিনের গান শোনেন। শুধু স্থানীয় মানুষ নয়, জেলার বিভিন্ন এলাকা এবং জেলার বাইরের অনেক মানুষও তাঁর সংগ্রহ দেখতে আসেন।

তবে এত বড় সংগ্রহ নিয়েই এখন শঙ্কায় আমজাদ হোসেন। উপযুক্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় টিনের ঘরের অনিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অনেক রেকর্ড ও ক্যাসেট।

ইতোমধ্যে তাঁর সংগ্রহের কিছু মূল্যবান রেকর্ড ও যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে গেছে। দ্রুত সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা না হলে আরও অনেক দুর্লভ সামগ্রী নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আমজাদের স্বপ্ন এখন নিজের ঘরের সংগ্রহকে আরও বড় পরিসরে মানুষের সামনে তুলে ধরা। তিনি চান, তাঁর সংগ্রহকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠুক একটি স্থায়ী ‘কলের গান মিউজিয়াম’।

সেখানে পুরোনো গ্রামোফোন, রেকর্ড, ক্যাসেট ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্ম জানতে পারবে, একসময় কীভাবে মানুষ গান শুনত এবং সময়ের সঙ্গে সংগীত শোনার প্রযুক্তি কীভাবে বদলে গেছে।

কিন্তু প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এখনো বাস্তবায়ন হয়নি তাঁর স্বপ্ন।

প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনে গ্রামোফোন আজ ইতিহাসের অংশ। কিন্তু উলিপুরের প্রত্যন্ত গ্রামের আমজাদ হোসেনের ঘরে এখনো বেঁচে আছে সেই সোনালি সময়ের গান, যন্ত্র আর স্মৃতি।

সঠিক উদ্যোগ ও সংরক্ষণ করা গেলে আমজাদ হোসেনের এই ব্যক্তিগত সংগ্রহ একদিন শুধু তাঁর নিজের শখের পরিচয় নয়, উত্তরবঙ্গের সংগীত ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে উঠতে পারে।


এই বিভাগের আরও খবর

BROWSE BY TAG

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com