• মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
শাহজাদপুরে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত বগুড়ার শেরপুরে গড়ে উঠছে নারিশের বাণিজ্যিক লেয়ার ফার্ম, দৈনিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ডিম বিরামপুরে জব ফেয়ার ঘিরে কর্মসংস্থানের নতুন স্বপ্ন, বদলাবে তরুণদের চিন্তা-চেতনা: মন্ত্রী জাহিদ হোসেন শাহজাদপুরে দৈনিক শ্যামল বাংলার চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত সত্য প্রকাশে ইয়ুথ টেলিভিশনের বলিষ্ঠ ভূমিকা প্রশংসনীয় সত্য তুলে ধরতে আপসহীন—ইয়ুথ টেলিভিশন। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের মধ্য দিয়ে দর্শক ও পাঠকের হৃদয়ে স্থান করে নিয়ে যুগের পর যুগ এগিয়ে চলুক ইয়ুথ টেলিভিশন। ইয়ুথ টেলিভিশনের ১১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুভেচ্ছা বাণী। ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ায় মহিলা মাদ্রাসার ছাত্রীদের মাঝে কোরআন শরিফ বিতরণ শাহজাদপুরে বন্যা ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৭০ পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও চেক বিতরণ সারাদেশে নির্বিঘ্নে পূজা সম্পন্নে আইজিপিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের ধন্যবাদ বানিয়াচংয়ে পুরাতন ব্যাটারির প্লেট পুড়িয়ে সিসা তৈরি: হুমকির মুখে পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্য বগুড়ায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও আর্থিক অনুদান প্রদান সুরাইয়া জেরিন রনি এমপির পক্ষ থেকে শেরপুরে দুর্গাপূজা মণ্ডপ পরিদর্শন, আর্থিক অনুদান প্রদান ও শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন মজিবুর রহমান শেরপুরে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন, আর্থিক অনুদান প্রদান ও শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন জানে আলম খোকা চৌহালীতে হতদরিদ্রদের মাঝে স্বল্প মূল্যে চাউল বিতরণ স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করতে রক্তদাতাদের সম্মাননা প্রদান শাহজাদপুরে এনসিডি কর্নার পরিদর্শন করলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অসুস্থ কনটেন্ট ক্রিয়েটর তাজেলের পাশে সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি রৌমারীতে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের প্রশিক্ষণ শুরু আজ

কুড়িগ্রামে এক ঘরেই ৫ হাজার রেকর্ড, ২২ গ্রামোফোন—বেঁচে আছে কলের গানের যুগ

দৈনিক ঢাকা মেইল / ৪৪ বার দেখা হয়েছে
আপডেট: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

 

ফারুক মিয়া, কুড়িগ্রাম:

একসময় গান শোনার জন্য মানুষের ভরসা ছিল গ্রামোফোন। কালো রঙের গোলাকার রেকর্ডে বাজত প্রিয় শিল্পীদের গান। বাড়ির উঠান কিংবা বৈঠকখানায় গ্রামোফোনের চোঙা থেকে ভেসে আসা সুরে মুগ্ধ হতো মানুষ। সময়ের সঙ্গে ক্যাসেট, সিডি, মেমোরি কার্ড হয়ে গান এখন পৌঁছে গেছে অনলাইন স্ট্রিমিংয়ে। হারিয়ে গেছে সেই কলের গান আর গ্রামোফোনের যুগ।

তবে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার জুম্মাহাট কেবল কৃষ্ণ গ্রামের আমজাদ হোসেনের ঘরে এখনো যেন আটকে আছে সেই পুরোনো সময়।

তাঁর বাড়ির একটি ঘরে ঢুকলেই চোখে পড়ে সারি সারি গ্রামোফোন। চারপাশে ছড়িয়ে আছে হাজার হাজার পুরোনো রেকর্ড ও অডিও ক্যাসেট। সব মিলিয়ে ঘরটি যেন হারিয়ে যাওয়া কলের গান ও গ্রামোফোনের এক জীবন্ত জাদুঘর।

শখ আর ভালোবাসা থেকেই বছরের পর বছর ধরে এসব সামগ্রী সংগ্রহ করেছেন আমজাদ হোসেন। বর্তমানে তাঁর সংগ্রহে রয়েছে প্রায় ২২টি গ্রামোফোন, ৫ হাজার গ্রামোফোন রেকর্ড ও ১ হাজার অডিও ক্যাসেট।

এসব রেকর্ডে রয়েছে ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন সময়ের জনপ্রিয় শিল্পীদের গান। ভাওয়াইয়া ও লোকগানের পাশাপাশি তাঁর সংগ্রহে আছে হৈমন্তী শুক্লা, কিশোর কুমার, আশা ভোঁসলে, অনুপ ঘোষাল, অনুপ জালোটা, মোহাম্মদ রফী, পঙ্কজ উদাসসহ বহু খ্যাতিমান শিল্পীর গান।

পুরোনো দিনের অনেক রেকর্ডই এখন আর সহজে পাওয়া যায় না। ফলে আমজাদের এই সংগ্রহের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বও দিন দিন বাড়ছে।

আমজাদ হোসেন বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির কারণে এখন খুব সহজেই গান শোনা যায়। কিন্তু পুরোনো গ্রামোফোনে গান শোনার অনুভূতি আলাদা। শখের বশে তিনি একসময় গ্রামোফোন ও রেকর্ড সংগ্রহ শুরু করেন। পরে সেই শখই পরিণত হয় বড় সংগ্রহে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবু বক্কর বলেন, অবসর সময়ে তাঁরা আমজাদের বাড়িতে গিয়ে পুরোনো দিনের গান শোনেন। শুধু স্থানীয় মানুষ নয়, জেলার বিভিন্ন এলাকা এবং জেলার বাইরের অনেক মানুষও তাঁর সংগ্রহ দেখতে আসেন।

তবে এত বড় সংগ্রহ নিয়েই এখন শঙ্কায় আমজাদ হোসেন। উপযুক্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় টিনের ঘরের অনিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অনেক রেকর্ড ও ক্যাসেট।

ইতোমধ্যে তাঁর সংগ্রহের কিছু মূল্যবান রেকর্ড ও যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে গেছে। দ্রুত সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা না হলে আরও অনেক দুর্লভ সামগ্রী নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আমজাদের স্বপ্ন এখন নিজের ঘরের সংগ্রহকে আরও বড় পরিসরে মানুষের সামনে তুলে ধরা। তিনি চান, তাঁর সংগ্রহকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠুক একটি স্থায়ী ‘কলের গান মিউজিয়াম’।

সেখানে পুরোনো গ্রামোফোন, রেকর্ড, ক্যাসেট ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্ম জানতে পারবে, একসময় কীভাবে মানুষ গান শুনত এবং সময়ের সঙ্গে সংগীত শোনার প্রযুক্তি কীভাবে বদলে গেছে।

কিন্তু প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এখনো বাস্তবায়ন হয়নি তাঁর স্বপ্ন।

প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনে গ্রামোফোন আজ ইতিহাসের অংশ। কিন্তু উলিপুরের প্রত্যন্ত গ্রামের আমজাদ হোসেনের ঘরে এখনো বেঁচে আছে সেই সোনালি সময়ের গান, যন্ত্র আর স্মৃতি।

সঠিক উদ্যোগ ও সংরক্ষণ করা গেলে আমজাদ হোসেনের এই ব্যক্তিগত সংগ্রহ একদিন শুধু তাঁর নিজের শখের পরিচয় নয়, উত্তরবঙ্গের সংগীত ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে উঠতে পারে।


এই বিভাগের আরও খবর

BROWSE BY TAG

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com