• বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী হোটেল রেস্তোরাঁ শ্রমিক ইউনিয়নের দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে ধানের শীষে ভোট চাইলেন বগুড়া জেলা লেদ শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ বগুড়া উন্নয়নের স্বার্থে তারেক রহমানকে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান সাবেক ছাত্রনেতা ডলারের বদলগাছীতে পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে কর্মচারীদের অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি রুমায় নির্বাচন প্রশিক্ষণ কর্মশালা । শেরপুর উপজেলা উন্নয়নের স্বার্থে পুনরায় ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান সাবেক ছাত্রনেতা ডলারের বগুড়া জিয়া মেডিকেলের উন্নয়নে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান এম-ট্যাব নেতা ডলারের আজ পবিত্র শবে বরাত ভোট গণনায় সুযোগ নিতে চাইলে প্রতিরোধ করতে হবে যশোরে— বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান খুলনার মৃত শিল্পনগরীকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে, যুবকদের জন্য হবে আইটি পার্ক: বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান কাহালু উপজেলার উন্নয়ন ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান — সাবেক ছাত্রনেতা ডলার আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চরভদ্রাসনের দুর্গম চরাঞ্চলে যৌথ টহল জোরদার বদলগাছীতে বিএনপি’র নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত রুমায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে কোনো অপকর্ম ঠেকাতে বিজিবি’র কুইক রেসপন্স ফোর্স প্রস্তুত আছে। বগুড়া–রংপুর সফরে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ধারাবাহিক গণসংযোগ শেরপুর–ধুনট মোড়ে সংক্ষিপ্ত পথসভা বগুড়া-৬ আসনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মতবিনিময় সভা। নওগাঁয় ডাম্প ট্রাকের চাপায় ৫ জন নিহত মহাস্থানগড়ে পর্যটকের গলায় ছুরি ঠেকিয়ে ছিনতাই মূল হোতা ইমন গ্রেপ্তার, পলাতক আরও ৩ জন। উৎসবমুখর আয়োজনে শ্রীমঙ্গলে আদর্শ সংগীত বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষার সনদ পেল ৪ শতাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষকদের সম্মাননা সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আমিরুল ইসলাম খান আলিমের বেলকুচি প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়

নড়াইলের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের কক্ষ তালাবদ্ধ ফিরে যাচ্ছে রোগী

দৈনিক ঢাকা মেইল - DAILY DHAKA MAIL / ৮৬ বার দেখা হয়েছে
আপডেট: শনিবার, ২৮ জুন, ২০২৫

মোঃ রফিকুল ইসলাম সবুজ

নড়াইলের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের কক্ষ তালাবদ্ধ ফিরে যাচ্ছে রোগী
সরকার আমাদের মতো গরিব-দুঃখী, অসহায় মানুষের জন্য এই হাসপাতালে ব্যবস্থা করেছে যেন আমরা কম খরচে চিকিৎসা নিতে পারি। কিন্তু সেই উদ্দেশ্য কখনোই বাস্তব হয়নি। এই হাসপাতাল অনেক দিন ধরে দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু এখানে চিকিৎসক থাকেন না, ওষুধ থাকে না। বেশিরভাগ সময় তালা দেওয়া থাকে। আর খোলা পেলেও কোনো সেবা মেলে না, ডাক্তার পাওয়া যায় না।
কথা গুলো বলছিলেন শীতলপাটি গ্রামের মো. হামিদুল ইসলাম। তিনি আরও বলেন, যে সুবিধার জন্য এই হাসপাতাল গড়া হয়েছিল, তা আমরা পাচ্ছি না। যদি সেবা চালু থাকত, তাহলে আমাদের এত কষ্ট করে টাকা খরচ করে নড়াইল বা খুলনায় ছুটতে হতো না চিকিৎসার জন্য।

নড়াইল কালিয়া উপজেলার খড়লিয়া বাজারে অবস্থিত মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান ফটকের পকেট দরজা খোলা। কিছুক্ষণ পরপর সেখান দিয়ে একজন-দুজন করে নারী ও শিশুরা আসছেন। কেউ আসছেন চিকিৎসকের খোঁজে, কেউ ওষুধ নিতে। আবার কেউ আসছেন শুধু পরামর্শ নিতে। কিন্তু হাসপাতাল ভবনে ঢুকে তারা দেখছেন সব কক্ষই তালাবদ্ধ, চিকিৎসক ও ওষুধ কোনোটিই নেই। সেবা না পেয়ে হতাশ হয়ে আবার ফিরে যাচ্ছেন তারা।

রোগীরা এসে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অফিস সহায়ক রফিকুল ইসলাম বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা কর্মরত আছেন। আর একজন চিকিৎসক (সংযুক্তিতে) আছেন। এই তিনজন সপ্তাহে দুই দিন করে রোগী দেখেন। আজ যে চিকিৎসকের আসার কথা ছিল তিনি ছুটিতে আছেন, ফলে রোগীরা এসে ফিরে যাচ্ছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা মনোয়ারা খাতুন বলেন, আমি এখানে এসেছি চিকিৎসা নিতে। এসে দেখালাম এখানে কোনো ডাক্তার নেই। ঈদের ছটির পর আসছি।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি সঠিকভাবে চললে পেড়লি, পার্শ্ববর্তী পাঁচগ্রাম ও সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের অন্তত ৪০ হাজার মানুষ সেবা পেতেন। কিন্তু কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে অবকাঠামো হলেও জনবল সংকটে পাঁচ বছর পরও কাঙ্ক্ষিত সেবা পান না এ অঞ্চলের মা ও শিশুরা। অবকাঠামো আছে, কিন্তু চিকিৎসক ও ওষুধের সংকটে পড়ে আছে পুরো হাসপাতাল।

আরেকজন সেবা প্রত্যাশী বলেন, আমি এখানে প্রায়ই আসি। মাঝে মাঝে খোলা পাই, মাঝে মাঝে বন্ধ পাই। ওষুধ তো থাকে না। আজ ডাক্তার না পেয়ে ফিরে যাচ্ছি।

পেড়লি মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, কালিয়ার পেড়লি ইউনিয়নের খড়রিয়া বাজারের পাশে ৫০ শতক জমির ওপর নির্মিত এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ২০২০ সালে উদ্বোধন করা হয়। ৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে করা হয়েছিল দুটি তিনতলা ভবন। এর মধ্যে একটি হাসপাতাল ভবন। আরেকটি চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোয়ার্টার। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবনে রয়েছে ৫ শয্যা করে ১০ শয্যার ২টি ওয়ার্ড ও ১০টি কেবিন। আছে আধুনিক অস্ত্রোপচার কক্ষ।

কালিয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালটিতে রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য পদ আছে ১০টি। এর মধ্যে দুজন চিকিৎসা কর্মকর্তা, একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব), একজন ফার্মাসিস্ট, চারজন পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা, একজন অফিস সহকারী ও অফিস সহায়ক একজন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি চালুর পর থেকে অধিকাংশ পদই শূন্য। একজন ফার্মাসিস্ট ও পরিদর্শিকা নিয়োগপ্রাপ্ত রয়েছেন। কিন্তু উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জনবলসংকট থাকায় তাদের সেসব স্থানেও যেতে হয়। ফলে তারা একেকজন এখানে সপ্তাহে দুই দিন করে সময় দেন। সপ্তাহের বাকি দুই দিন সংযুক্তিতে আসা একজন চিকিৎসক এখানে থাকেন। সার্বক্ষণিক থাকেন শুধু একজন অফিস সহায়ক, তিনিও অন্য জায়গা থেকে সংযুক্তিতে এসেছেন।

পেড়লি ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের পরিদর্শিকা গীতা রানী বিশ্বাস বলেন, হাসাপাতালে চিকিৎসক সংকটের কারণে আমরা সেভাবে তাদের সেবা দিতে পারি না। হাসপাতালে আমরা গর্ভবতী মায়েদের সেবা দিয়ে থাকি। ডেলিভারি, সিজার এ সেবাগুলো ডাক্তার না থাকায় দিতে পারি না।এখানে আমার একার পক্ষে সেবা দেওয়া সম্ভব না। হাসপাতালে মেডিকেল ডাক্তার প্রয়োজন, আয়া দরকার, একটা নাইট গার্ড দরকার, এমএল এস নাই। এখানে জনবলের খুবই অভাব। যার জন্য এলাকাবাসী প্রকৃত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আলিফ নূর বলেন, হাসপাতালটি আমরা স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় চালু রাখছি। আমাদের উপজেলা মেডিকেল অফিসার সুবিধাজনক সময়ে সেখানে গিয়ে সেবা দেন। প্রতিদিন হাসপাতাল খোলা থাকে।


এই বিভাগের আরও খবর

BROWSE BY TAG

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com