নিজস্ব প্রতিবেদক:- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী রোববার, ১১ জানুয়ারি বগুড়া সফরে আসছেন। প্রায় ১৯ বছর পর তিনি তাঁর পৈতৃক জেলা বগুড়ায় সফরে আসছেন বলে জানিয়েছেন বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র রেজাউল করিম (বাদশা)।
লন্ডনে দীর্ঘ দেড় যুগের নির্বাসন শেষে দেশে ফেরার পর এটি ঢাকার বাইরে তারেক রহমানের প্রথম সফর।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ (সদর) আসনে দলের প্রার্থী হয়েছেন। পাশাপাশি তিনি ঢাকা-১৭ আসনেও বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
উল্লেখ্য, বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী গ্রামে তারেক রহমানের পিতা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের পৈতৃক বাড়ি অবস্থিত। ১৯৯১ সালের পর থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৭ আসন থেকে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রার্থী হয়ে প্রতিবারই বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ ২০০৬ সালে তারেক রহমান বগুড়া সফরে এসেছিলেন। দীর্ঘদিন পর দলীয় প্রধানের এই সফরকে ঘিরে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম (বাদশা) জানান, আগামী ১১ জানুয়ারি সকালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গুলশানের বাসা থেকে বগুড়ার উদ্দেশে যাত্রা করবেন। বগুড়ায় পৌঁছে তিনি ওই দিন রাত্রিযাপন করবেন। পরদিন বগুড়া জেলা বিএনপির আয়োজনে সদ্যপ্রয়াত দলীয় চেয়ারপারসনের রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত গণদোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ করবেন।
এ ছাড়া তিনি বগুড়া থেকে সড়কপথে রংপুরে যাবেন এবং সেখানে জুলাই শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন।
বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন জানান, “আমাদের প্রিয় নেতা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রোববার বগুড়ায় পৌঁছাবেন এবং সোমবার রংপুরে গিয়ে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন।”
তিনি আরও জানান, বগুড়া জেলা বিএনপি আয়োজিত সদ্যপ্রয়াত দলীয় চেয়ারপারসনের রুহের মাগফিরাত কামনায় গণদোয়া মাহফিল বগুড়ার ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।
দলীয় সূত্রে আরও জানা যায়, ২০০৮ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সব কটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে ১৯৯৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বেগম খালেদা জিয়া।
২০১৪ সালের নির্বাচনে এই আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম বিজয়ী হন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিজয়ী হলেও তিনি শপথ গ্রহণ না করায় উপনির্বাচনে বিএনপির গোলাম মো. সিরাজ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে দলীয় সিদ্ধান্তে তিনি পদত্যাগ করলে পরবর্তী উপনির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান বিজয়ী হন। ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি পুনরায় নির্বাচিত হন।