• বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০২:০১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
শাহজাদপুরে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত বগুড়ার শেরপুরে গড়ে উঠছে নারিশের বাণিজ্যিক লেয়ার ফার্ম, দৈনিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ডিম বিরামপুরে জব ফেয়ার ঘিরে কর্মসংস্থানের নতুন স্বপ্ন, বদলাবে তরুণদের চিন্তা-চেতনা: মন্ত্রী জাহিদ হোসেন শাহজাদপুরে দৈনিক শ্যামল বাংলার চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত সত্য প্রকাশে ইয়ুথ টেলিভিশনের বলিষ্ঠ ভূমিকা প্রশংসনীয় সত্য তুলে ধরতে আপসহীন—ইয়ুথ টেলিভিশন। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের মধ্য দিয়ে দর্শক ও পাঠকের হৃদয়ে স্থান করে নিয়ে যুগের পর যুগ এগিয়ে চলুক ইয়ুথ টেলিভিশন। ইয়ুথ টেলিভিশনের ১১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুভেচ্ছা বাণী। ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ায় মহিলা মাদ্রাসার ছাত্রীদের মাঝে কোরআন শরিফ বিতরণ শাহজাদপুরে বন্যা ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৭০ পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও চেক বিতরণ সারাদেশে নির্বিঘ্নে পূজা সম্পন্নে আইজিপিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের ধন্যবাদ বানিয়াচংয়ে পুরাতন ব্যাটারির প্লেট পুড়িয়ে সিসা তৈরি: হুমকির মুখে পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্য বগুড়ায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও আর্থিক অনুদান প্রদান সুরাইয়া জেরিন রনি এমপির পক্ষ থেকে শেরপুরে দুর্গাপূজা মণ্ডপ পরিদর্শন, আর্থিক অনুদান প্রদান ও শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন মজিবুর রহমান শেরপুরে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন, আর্থিক অনুদান প্রদান ও শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন জানে আলম খোকা চৌহালীতে হতদরিদ্রদের মাঝে স্বল্প মূল্যে চাউল বিতরণ স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করতে রক্তদাতাদের সম্মাননা প্রদান শাহজাদপুরে এনসিডি কর্নার পরিদর্শন করলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অসুস্থ কনটেন্ট ক্রিয়েটর তাজেলের পাশে সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি রৌমারীতে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের প্রশিক্ষণ শুরু আজ

বরাদ্দ আছে, তবু সারের জন্য কৃষকের হাহাকার: ভূরুঙ্গামারীতে ক্ষোভের নেপথ্যে বণ্টনব্যবস্থা

দৈনিক ঢাকা মেইল / ৫০ বার দেখা হয়েছে
আপডেট: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬

 

প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম: ২৬/৮/২৬

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সারের সংকট নিয়ে কৃষকদের ক্ষোভ চরমে উঠেছে। গত রোববার শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙ্গা বাজারে এক ডিলারের গুদামের বেড়া ভেঙে কৃষকেরা ২২৫ বস্তা সার নিয়ে যান। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে সোমবার বিকেল পর্যন্ত ১১৫ বস্তা সার ফেরত দিয়েছেন তাঁরা। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে উপজেলা প্রশাসন।

কৃষকদের অভিযোগ, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম। আবার কোনো কোনো ডিলার নিয়মিত বিক্রয়কেন্দ্র খোলেন না। ফলে ধান রোপণের পর প্রয়োজনীয় সময়ে সার না পেয়ে খোলা বাজার থেকে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে তাঁদের।

তবে কৃষি বিভাগের দাবি, উপজেলায় কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী সার রয়েছে। শিলখুড়িতে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার অন্যতম কারণ ডিলারসংখ্যা ও ইউনিয়নভিত্তিক বরাদ্দে অসামঞ্জস্য। কৃষকদের বক্তব্য, বরাদ্দ থাকলেও প্রয়োজনের সময় তাঁরা সার পাচ্ছেন না। বিশেষ করে শিলখুড়িতে আবাদি জমির পরিমাণ বাড়লেও আগের কাঠামো অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে।

চাহিদার তুলনায় বরাদ্দে বড় ঘাটতি

ভূরুঙ্গামারীতে চলতি রোপা আমন মৌসুমে ১৬ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। উপজেলায় কৃষক রয়েছেন ৬১ হাজার ১৯০ জন। তাঁদের জন্য ১০ জন বিসিআইসি ও ৭ জন বিএডিসি ডিলার রয়েছেন। উপজেলায় ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি মিলিয়ে মোট ১ হাজার ১২৪ দশমিক ৪৫ মেট্রিক টন সার বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে শিলখুড়ি ইউনিয়নে বরাদ্দ ১১৯ দশমিক ৯ মেট্রিক টন।

শিলখুড়িতে চলতি মৌসুমে ১ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষ হয়েছে। কৃষি বিভাগের নির্ধারিত মাত্রা অনুযায়ী, এসব জমিতে চার ধরনের সার মিলিয়ে প্রয়োজন প্রায় ১ হাজার ১৭০ মেট্রিক টন। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র ১১৯ দশমিক ৯ মেট্রিক টন। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় সরবরাহ হয়েছে প্রায় ১০ দশমিক ২৫ শতাংশ। ঘাটতি প্রায় ১ হাজার ৫০ দশমিক ১ মেট্রিক টন।

ইউরিয়া সারের ঘাটতি আরও বেশি। ১ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমির জন্য প্রতি বিঘায় ৩০ কেজি হিসাবে ইউরিয়া প্রয়োজন প্রায় ৪৩৮ দশমিক ৭৫ মেট্রিক টন। বিপরীতে সরবরাহ করা হয়েছে ৬৮ মেট্রিক টন। অর্থাৎ প্রয়োজনের তুলনায় সরবরাহ প্রায় ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ। ঘাটতি ৩৭০ দশমিক ৭৫ মেট্রিক টন।

কৃষি বিভাগের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, আগে সব ডিলারকে সমানভাবে সার বরাদ্দ দেওয়ার নিয়ম থাকায় শিলখুড়িতে প্রয়োজনের তুলনায় কম সার পৌঁছাত। ফলে সেখানে সংকট তৈরি হয়েছে। অন্য ইউনিয়ন থেকে সার সমন্বয় করে শিলখুড়িতে বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পাগলার হাট এলাকার কৃষক মোহাম্মদ আলী বলেন, তিনি ১২ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন। ধান রোপণের ২১ দিনের মধ্যে সার দেওয়ার কথা থাকলেও ২৬ দিনেও তিনি সার পাননি। সরকারি মূল্যের চেয়ে বেশি দামে তাঁকে খোলা বাজার থেকে সার কিনতে হচ্ছে।

শিলখুড়ির কৃষক আজিজুল হক সোহেল বলেন, ‘ধান চাষ করে নিজের বিপদ নিজেই এনেছি। এখন সারের জন্য ঘুরব, নাকি জমিতে ধানের পরিচর্যা করব?’

ইউনিয়নের বাইরে ডিলারদের গুদাম

সারের সংকটের পেছনে ডিলারদের গুদাম ব্যবস্থাপনাও ভূমিকা রাখছে বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকেরা। তাঁদের অভিযোগ, কোনো কোনো ডিলারের মূল গুদাম ইউনিয়নের বাইরে উপজেলা সদর বা নিজ এলাকায়। ফলে বরাদ্দ করা সার ইউনিয়নের বিক্রয়কেন্দ্রে নিয়মিত না থাকায় কৃষকেরা সময়মতো সার পাচ্ছেন না।

সোমবার উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, পাথরডুবি ও তিলাই ইউনিয়নের ডিলার সইদুল ইসলাম ব্যাপারী ও তাঁর স্ত্রী ডেইজি বেগমের সারগুদাম উপজেলা সদরের সাদ্দাম মোড়ে। আন্ধারীঝাড়, চর ভূরুঙ্গামারী ও বঙ্গ সোনাহাট ইউনিয়নের ডিলার জনার্দন সাহা, নিতাই সাহা ও মন্টেন্ড সাহার মূল গুদাম বাঘভাণ্ডার সড়কের পাশে তাঁদের বসতবাড়ির এলাকায় বলে স্থানীয়রা জানান। শিলখুড়ির ডিলার শাহ আমানত ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী তাইফুর রহমান মুকুলের গুদামও ইউনিয়নের বাইরে বলে জানা গেছে।

কৃষকদের অভিযোগ, ইউনিয়নের বিক্রয়কেন্দ্র নিয়মিত খোলা না থাকায় একসঙ্গে কয়েক শ কৃষক সেখানে ভিড় করেন। এতে মজুতের তুলনায় কৃষকের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সংকট ও উত্তেজনা তৈরি হয়।

শিলখুড়ির উত্তর ধলডাঙ্গা গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন ডিলার পয়েন্টে গিয়ে ঘুরেছেন। এক দিনও বিক্রয়কেন্দ্র খোলা পাননি। রোববার জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে সকাল আটটায় লাইনে দাঁড়িয়েও সাড়ে নয়টার আগে ডিলার আসেননি। পরে সার সংকটের কথা বলে বিতরণ বন্ধ রাখা হয়। একপর্যায়ে কৃষকেরা গুদাম থেকে সার নিয়ে যান।

মিজানুর রহমান বলেন, ‘লুট করা সার জমিতে দিলে ওই ফসল হালাল হবে না। তাই আমি বস্তা নিইনি। আজ খোলা বাজারে সার কিনতে এসেছি। কিন্তু ধলডাঙ্গা বাজারের সব দোকান বন্ধ।’

বিএডিসি ডিলারকে সার দেওয়ার অভিযোগ

ভূরুঙ্গামারীতে ১০ জন বিসিআইসি ও ৭ জন বিএডিসি ডিলার রয়েছেন। বিসিআইসি ডিলাররা ইউরিয়াসহ সব ধরনের সার বিক্রি করতে পারেন। বিএডিসি ডিলাররা ইউরিয়া ছাড়া টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি বিক্রি করেন।

শিলখুড়ির বিসিআইসি ডিলারের প্রতিনিধি সহিদুল ইসলামের অভিযোগ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার নির্দেশে প্রতি চালানে বিসিআইসি ডিলারের কাছ থেকে ১০০ বস্তা করে সার বিএডিসি ডিলার নুর ইসলামকে দেওয়া হয়েছে। নুর ইসলামের তিনটি ওয়ার্ডের কৃষকদের সার দেওয়ার কথা থাকলেও সেখানে বিতরণ না হওয়ায় নয়টি ওয়ার্ডের কৃষকের চাপ সামলাতে হচ্ছে বিসিআইসি ডিলারকে।

নুর ইসলাম অভিযোগটি স্বীকার করে বলেন, তাঁর কাছে আসা সার খোলা বাজারে ৫ ও ১০ কেজি করে বিক্রি করেন। সরকারি নির্ধারিত দামেই সার বিক্রি করেন বলে দাবি তাঁর। তবে রোববার পাগলার হাটে খোলা বাজারে সার বিক্রির অভিযোগে তাঁকে জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন।

কৃষি বিভাগের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, বিসিআইসি ডিলারের কাছ থেকে সার কেটে বিএডিসি ডিলারের কেন্দ্রে দেওয়ার সুযোগ নেই। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ কাজ করে থাকলে তদন্ত করে দেখা হবে।

রাজনৈতিক বিরোধের অভিযোগ

সার বিতরণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধের বিষয়টিও সামনে এসেছে। ডিলার তাইফুর রহমান মুকুলের অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপির নেতা মোহাম্মদ আলীর উসকা


এই বিভাগের আরও খবর

BROWSE BY TAG

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com