• সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চরভদ্রাসনের দুর্গম চরাঞ্চলে যৌথ টহল জোরদার বদলগাছীতে বিএনপি’র নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত রুমায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে কোনো অপকর্ম ঠেকাতে বিজিবি’র কুইক রেসপন্স ফোর্স প্রস্তুত আছে। বগুড়া–রংপুর সফরে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ধারাবাহিক গণসংযোগ শেরপুর–ধুনট মোড়ে সংক্ষিপ্ত পথসভা বগুড়া-৬ আসনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মতবিনিময় সভা। নওগাঁয় ডাম্প ট্রাকের চাপায় ৫ জন নিহত মহাস্থানগড়ে পর্যটকের গলায় ছুরি ঠেকিয়ে ছিনতাই মূল হোতা ইমন গ্রেপ্তার, পলাতক আরও ৩ জন। উৎসবমুখর আয়োজনে শ্রীমঙ্গলে আদর্শ সংগীত বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষার সনদ পেল ৪ শতাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষকদের সম্মাননা সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আমিরুল ইসলাম খান আলিমের বেলকুচি প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় ধানের শীষে ভোট দিয়ে প্রমাণ করুন—বগুড়ার মাটি বিএনপির ঘাঁটি: তারেক রহমান বেলাবোতে নিখোঁজের ৩ দিন পর সাবেক ছাত্রলীগ নেতার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার নন্দীগ্রামে জিম্মি ইউএনওকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্ধার মহড়া গোপালপুরে ধানের শীষের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত মোল্লাহাটে যৌথ অভিযানে মাদক ও অস্ত্রসহ দুইজন আটক ক্ষমতায় গেলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের ঘোষণা দিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ভারতে আটক ৫ ট্রলারসহ ১২৮ বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনলো কোস্ট গার্ড রাজশাহী পৌঁছে শাহ মখদুমের মাজার জিয়ারত করলেন তারেক রহমান টাঙ্গাইলে প্লাস্টিক তেল তৈরি কারখানা উচ্ছেদ, মেটাল কারখানায় জরিমানা। মোংলায় নৌ পুলিশের স্পিড বোটে আগুন, আহত ১ বদলগাছীতে যৌথবাহিনীর অভিযানে ৮০০ পিস ট্যাপেনটাডল ট্যাবলেটসহ দুই যুবক আটক

আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায়ের সমাপ্তি

dailydhakamail / ৩৯ বার দেখা হয়েছে
আপডেট: রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬

 

স্টাফ রিপোর্টার :
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আপোষহীনতা, সংগ্রাম ও গণতন্ত্র রক্ষার এক অবিচল প্রতীক ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির চেয়ারপার্সন ও ‘আপোষহীন দেশনেত্রী’ হিসেবে পরিচিত এই মহীয়সী নারী ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর ভোর ৬টায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

তাঁর ইন্তেকালে দেশজুড়ে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া।
রাজনীতির কঠোর মঞ্চে যিনি ছিলেন দৃঢ়, অনমনীয় ও আপসহীন—ব্যক্তিগত জীবনে সেই খালেদা জিয়াই ছিলেন অত্যন্ত সাধারণ, শান্ত ও অনাড়ম্বর। তাঁর জীবন কেবল একজন রাষ্ট্রনায়িকার গল্প নয়; এটি এক স্ত্রী, এক মাতা ও এক সংগ্রামী নারীর দীর্ঘ আত্মত্যাগ ও সাহসিকতার ইতিহাস।

এই মহীয়সী নেত্রীর জীবন, রাজনৈতিক সংগ্রাম ও গণতন্ত্র রক্ষায় অবদান নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী বক্তব্য তুলে ধরেন জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন (জিসাস) বগুড়া জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এম-ট্যাব) আঞ্চলিক জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক ছাত্রনেতা, বিশিষ্ট সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী ও সমাজসেবক মোঃ আরমান হোসেন ডলার।

সাধারণ জীবন থেকে রাষ্ট্রনায়িকা
১৯৪৫ সালে জন্মগ্রহণ করা বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একেবারেই সাধারণ ঘরোয়া জীবনের মানুষ। ১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি হলে তিনি দেশের ফার্স্ট লেডি হিসেবে পরিচিতি পান। একজন দায়িত্বশীল স্ত্রী ও স্নেহময়ী মা হিসেবেই তাঁর জীবনের বড় অংশ কেটেছে।
কিন্তু ১৯৮১ সালের ৩০ মে স্বামী জিয়াউর রহমান এক সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হলে তাঁর জীবনে নেমে আসে গভীর অন্ধকার। তবুও শোককে শক্তিতে রূপ দিয়ে তিনি দাঁড়িয়ে যান দেশের মানুষের পাশে।

রাজনীতিতে পদচারণা ও নেতৃত্ব
১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। সামরিক শাসক এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে ১৯৮৪ সালের ১০ মে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন। তাঁর নেতৃত্বেই বিএনপি একটি পূর্ণাঙ্গ ও শক্তিশালী রাজনৈতিক দলে রূপ নেয়।
এরশাদবিরোধী আন্দোলনে সাত দলীয় জোট গঠন, কারাবরণ, নির্যাতন—সবকিছুই তিনি সহ্য করেছেন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। দীর্ঘ আন্দোলনের পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলে তিনি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ইতিহাসে বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে তিনি পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সবকটিতেই বিজয়ী হন।

কারাবরণ, নির্যাতন ও অসুস্থতা
বিভিন্ন সময় তিনি মোট পাঁচবার আটক হন। ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় এবং ২০১৮ সালে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দুর্নীতির মামলায় কারাবরণ করেন। দীর্ঘ সময় কারাগার ও গৃহবন্দি অবস্থায় থেকেও তিনি মনোবল হারাননি।
দীর্ঘস্থায়ী কিডনি, লিভার জটিলতা, ডায়াবেটিসসহ নানা রোগে ভুগেও তিনি দেশের রাজনীতি থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করেননি। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ গমন ও পরবর্তীতে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রাষ্ট্রীয় সম্মান ও শেষ বিদায়
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি মুক্তি পান। ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাজা, গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে ওঠে তাঁর জানাজা—বাংলাদেশ ও মুসলিম বিশ্বে এত মানুষের অংশগ্রহণ বিরল দৃষ্টান্ত।
পরদিন তাঁকে জিয়া উদ্যানে তাঁর স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়।

ইতিহাসে চিরভাস্বর
বেগম খালেদা জিয়া কোনো সাধারণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন। তিনি আপোষহীন নেতৃত্ব, মমতাময়ী মানবিকতা ও আত্মত্যাগের এক উজ্জ্বল নাম। নিজের পরিবার, সুখ ও স্বস্তি বিসর্জন দিয়ে তিনি আজীবন দেশের মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষায় লড়াই করে গেছেন।
আজ রাজনীতির মঞ্চে তিনি অনুপস্থিত, কিন্তু ইতিহাসের পাতায় তিনি চিরকাল থাকবেন—
একজন আপোষহীন দেশনেত্রী, এক সংগ্রামী নারী ও বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে।
হে মহান আল্লাহ, তুমি এই মহীয়সী নেত্রীকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব কর। আমিন।।


এই বিভাগের আরও খবর

BROWSE BY TAG

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com