• শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ১০:১৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া শিশুর চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী। শহীদ গাজীউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনায় শেরপুরের দরিদ্রদের মাঝে ঈদসামগ্রী বিতরণ। গরিব ও দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান ধুনটের চিকাশী ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড মেম্বার প্রার্থী মো: হেলালুর রহমান বাবু বাবার পথেই: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খাল পুনঃখনন উদ্বোধন করলেন দিনাজপুরে খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বদলগাছীতে মানবিক সহায়তার ভিজিএফ চাউল বিতরণ বরিশালে বিএনপির উদ্যোগে দোয়া ও শোকরানা মোনাজাত বিএনপি জনগণের রায়ে বিশ্বাসী, জনগণের জন্য কাজ করে: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি ঢাকা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল, দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত। ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশ-এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত আশুলিয়া সাংবাদিক সমন্বয় ক্লাবের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত নওগাঁর বদলগাছীতে বছরের প্রথম বৃষ্টিতেই ইটভাটার সর্বনাশ: ১০ কোটি টাকার কাঁচা ইট নষ্ট — হতাশায় ভাটা মালিকরা চরভদ্রাসনে পদ্মা নদীর পাড়ে ফসলি জমির মাটি বিক্রির হিড়িক: হুমকিতে কৃষি ও পরিবেশ ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ভাগ করে নেওয়াই প্রকৃত ঈদ — এ্যাডভোকেট শাহানাজ জামান বরিশাল হলিডে স্কুলের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত বদলগাছীতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ১০০ পরিবার পেল ছাগল ও ফ্লোরম্যাট দুলালপুর ইউনিয়ন বিএনপির ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত জিসাস বরিশাল জেলা শাখার উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত মণিরামপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের নির্বাচনে জাকির সভাপতি ও জাহিদুর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত নরসিংদীর শিবপুরে সৌদি আরবের উপহারকৃত খেজুর বিভিন্ন এতিমখানা ও মাদ্রাসায় বিতরণ

আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায়ের সমাপ্তি

dailydhakamail / ৬০ বার দেখা হয়েছে
আপডেট: রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬

 

স্টাফ রিপোর্টার :
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আপোষহীনতা, সংগ্রাম ও গণতন্ত্র রক্ষার এক অবিচল প্রতীক ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির চেয়ারপার্সন ও ‘আপোষহীন দেশনেত্রী’ হিসেবে পরিচিত এই মহীয়সী নারী ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর ভোর ৬টায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

তাঁর ইন্তেকালে দেশজুড়ে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া।
রাজনীতির কঠোর মঞ্চে যিনি ছিলেন দৃঢ়, অনমনীয় ও আপসহীন—ব্যক্তিগত জীবনে সেই খালেদা জিয়াই ছিলেন অত্যন্ত সাধারণ, শান্ত ও অনাড়ম্বর। তাঁর জীবন কেবল একজন রাষ্ট্রনায়িকার গল্প নয়; এটি এক স্ত্রী, এক মাতা ও এক সংগ্রামী নারীর দীর্ঘ আত্মত্যাগ ও সাহসিকতার ইতিহাস।

এই মহীয়সী নেত্রীর জীবন, রাজনৈতিক সংগ্রাম ও গণতন্ত্র রক্ষায় অবদান নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী বক্তব্য তুলে ধরেন জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন (জিসাস) বগুড়া জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এম-ট্যাব) আঞ্চলিক জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক ছাত্রনেতা, বিশিষ্ট সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী ও সমাজসেবক মোঃ আরমান হোসেন ডলার।

সাধারণ জীবন থেকে রাষ্ট্রনায়িকা
১৯৪৫ সালে জন্মগ্রহণ করা বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একেবারেই সাধারণ ঘরোয়া জীবনের মানুষ। ১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি হলে তিনি দেশের ফার্স্ট লেডি হিসেবে পরিচিতি পান। একজন দায়িত্বশীল স্ত্রী ও স্নেহময়ী মা হিসেবেই তাঁর জীবনের বড় অংশ কেটেছে।
কিন্তু ১৯৮১ সালের ৩০ মে স্বামী জিয়াউর রহমান এক সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হলে তাঁর জীবনে নেমে আসে গভীর অন্ধকার। তবুও শোককে শক্তিতে রূপ দিয়ে তিনি দাঁড়িয়ে যান দেশের মানুষের পাশে।

রাজনীতিতে পদচারণা ও নেতৃত্ব
১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। সামরিক শাসক এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে ১৯৮৪ সালের ১০ মে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন। তাঁর নেতৃত্বেই বিএনপি একটি পূর্ণাঙ্গ ও শক্তিশালী রাজনৈতিক দলে রূপ নেয়।
এরশাদবিরোধী আন্দোলনে সাত দলীয় জোট গঠন, কারাবরণ, নির্যাতন—সবকিছুই তিনি সহ্য করেছেন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। দীর্ঘ আন্দোলনের পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলে তিনি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ইতিহাসে বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে তিনি পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সবকটিতেই বিজয়ী হন।

কারাবরণ, নির্যাতন ও অসুস্থতা
বিভিন্ন সময় তিনি মোট পাঁচবার আটক হন। ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় এবং ২০১৮ সালে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দুর্নীতির মামলায় কারাবরণ করেন। দীর্ঘ সময় কারাগার ও গৃহবন্দি অবস্থায় থেকেও তিনি মনোবল হারাননি।
দীর্ঘস্থায়ী কিডনি, লিভার জটিলতা, ডায়াবেটিসসহ নানা রোগে ভুগেও তিনি দেশের রাজনীতি থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করেননি। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ গমন ও পরবর্তীতে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রাষ্ট্রীয় সম্মান ও শেষ বিদায়
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি মুক্তি পান। ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাজা, গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে ওঠে তাঁর জানাজা—বাংলাদেশ ও মুসলিম বিশ্বে এত মানুষের অংশগ্রহণ বিরল দৃষ্টান্ত।
পরদিন তাঁকে জিয়া উদ্যানে তাঁর স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়।

ইতিহাসে চিরভাস্বর
বেগম খালেদা জিয়া কোনো সাধারণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন। তিনি আপোষহীন নেতৃত্ব, মমতাময়ী মানবিকতা ও আত্মত্যাগের এক উজ্জ্বল নাম। নিজের পরিবার, সুখ ও স্বস্তি বিসর্জন দিয়ে তিনি আজীবন দেশের মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষায় লড়াই করে গেছেন।
আজ রাজনীতির মঞ্চে তিনি অনুপস্থিত, কিন্তু ইতিহাসের পাতায় তিনি চিরকাল থাকবেন—
একজন আপোষহীন দেশনেত্রী, এক সংগ্রামী নারী ও বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে।
হে মহান আল্লাহ, তুমি এই মহীয়সী নেত্রীকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব কর। আমিন।।


এই বিভাগের আরও খবর

BROWSE BY TAG

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com