মোঃ আল আমিন ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:
নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করতে সক্ষম হয়েছে নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ড। যদিও কাজের শুরুতে কিছুটা সময় অতিবাহিত হয়েছিল, পরে টাইম স্টেশন করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ শুরু করে এবং বর্তমানে কাজ প্রায় সম্পন্নের পথে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কৃষকরা সেচ সুবিধা পাবেন বলে আশ্বস্ত করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
এদিকে জলঢাকার নন্দীবাড়ী থেকে কিশোরগঞ্জের সিট রাজিব পর্যন্ত তিস্তা সেচ খালের দুই পাশের ডাইকে মাটি দিয়ে শক্তিকরণ কাজ প্রায় শেষের দিকে। বর্ষা মৌসুমে ভাঙন দেখা দিলে চাষিদের কথা বিবেচনা করে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, নীলফামারী ডিভিশনের তত্ত্বাবধানে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলো দক্ষ শ্রমিক ও মিস্ত্রিদের মাধ্যমে ঢালে ব্লক নামিয়ে জমি রক্ষা করে। সঠিকভাবে শিডিউল অনুসরণ করে ব্লক বসানোর কাজ সম্পন্ন করা হয়। অন্যথায় চাষিদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হতো।
কিশোরগঞ্জের রাজিব এলাকার এক চাষি ওসমান গনির সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, “যখন ঢালে ব্লকগুলো নামানো হয়, তখন পানির স্তর কিছুটা বেশি ছিল। তখনও চাষিদের কথা চিন্তা করে ব্লকগুলো পানির মধ্যেই ঢালে বসিয়ে দেওয়া হয়। পরে শুকনো মৌসুমে পানি নেমে গেলে ব্লকগুলো আবার ঠিকভাবে স্থানে বসানো হয়। এখানে আমরা কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি দেখিনি।”
এ কারণে নির্ধারিত সময়েই সেচ সুবিধা পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সচেতন নাগরিকরা।
এ বিষয়ে নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান বলেন, “আমরা সেখানে ব্লকের কাজ সম্পন্ন করেছি। ডাইকের মাটি সংস্কারের কাজও নিয়মিত নজরদারির মাধ্যমে দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কাজ করতে গিয়ে ঠিকাদারদের নানা অসুবিধার মুখে পড়তে হয়। ভালো মানের মাটি না পাওয়ায় কিছুটা বিলম্ব হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ডাইকের সংস্কার কাজ শেষ হবে বলে আমরা আশাবাদী।”
তিনি আরও জানান, “বর্তমানে ভালো মাটি পাওয়া কঠিন হয়ে গেছে, বালু দিয়ে কাজ করা সম্ভব নয়। তবুও আমরা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করে মাটি সংগ্রহের মাধ্যমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।”
এদিকে তিস্তা প্রকল্পের প্রধান সেচ খালের ডাইকে বসবাসকারী জলঢাকার দিনমজুর প্রকাশ চন্দ্র বলেন, “বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড যেভাবে ডাইক সংস্কার করছে এবং সুন্দরভাবে রাস্তার প্রসেসিং করে দিচ্ছে, এতে আমরা খুবই খুশি। তাই সবাই বলছে—তিস্তা প্রধান সেচ প্রকল্পে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে।”