• সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ০৪:০৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য আইনের অগণতান্ত্রিক ধারা বাতিলের দাবি সম্পাদক পরিষদের। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কাতারের শ্রমমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পাদক পরিষদের নেতাদের বৈঠক চাঁদপুর সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, যোগ দেবেন একাধিক কর্মসূচিতে মাদক বৃদ্ধির অন্যতম কারণ খেলার মাঠ সংকুচিত হয়ে যাওয়া — বিদ্যুৎমন্ত্রী পুলিশের জন্য সুখবর! ওভারটাইম ভাতা ও অবসরে অনারারি পদোন্নতি চালুর পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২৫ মার্চের আগে রাজারবাগে পুলিশ সদস্যদের কেন একত্রিত করা হয়েছিল, তা গবেষণার দাবি রাখে: প্রধানমন্ত্রী পুলিশকে যেন কেউ দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে: প্রধানমন্ত্রী নৌ ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় ঘাটতি দূর করতে হবে: নৌমন্ত্রী ১০০ উপজেলা ও পৌরসভায় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করল এনসিপি ভালো সম্পর্ক গড়তে ভারতকে সীমান্তে রক্তপাত বন্ধ করতে হবে: রিজভী মব সহিংসতা রোধে পুলিশকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে: প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমরা কারিকুলাম ও সিলেবাস পরিবর্তনের ব্যবস্থা করছি: শিক্ষামন্ত্রী রোববার থেকে শুরু পুলিশ সপ্তাহ, পদক পাচ্ছেন ১০৭ জন মির্জা ফখরুলসহ ১৫ জন পাচ্ছেন ‘আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি স্বর্ণপদক-২০২৬’ কলেজছাত্র ওয়াকিমুলের বানানো ‘স্মার্ট কারে’ চড়লেন প্রধানমন্ত্রী খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা মেধা বিকাশে অপরিহার্য : ভূমিমন্ত্রী চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের পথে রাষ্ট্রপতি সিলেট রেঞ্জে নতুন ডিআইজি জিললুর রহমান

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য আইনের অগণতান্ত্রিক ধারা বাতিলের দাবি সম্পাদক পরিষদের।

dailydhakamail / ১১ বার দেখা হয়েছে
আপডেট: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদের নেতারা। বৈঠকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আইনের অগণতান্ত্রিক ধারাগুলো বাতিল ও পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ।

এ ছাড়া প্রেস কাউন্সিলকে শক্তিশালী করা, সাংবাদিকদের দায়বদ্ধতা বাড়ানো, অপতথ্য রোধে ফ্যাক্ট-চেকের ব্যবস্থা, গণমাধ্যম কমিশন গঠনের আগে আরও বেশি আলোচনা করা, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হওয়া হয়রানিমূলক মামলা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

রোববার (১৭ মে) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

পরে সম্পাদক পরিষদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের বিষয়বস্তু তুলে ধরা হয়।

এ নিয়ে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর এবং ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম।

বৈঠকে সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়, গণমাধ্যমবিষয়ক আইনগুলো অনেক পুরোনো এবং তা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। এগুলো বহির্বিশ্বে দেশের গণমাধ্যমের ভাবমূর্তিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। বিশেষ করে পত্রিকা প্রকাশের ঘোষণাপত্রের ফরম ‘বি’-তে প্রকাশকদের ঘোষণা ও স্বাক্ষর দিয়ে বলতে হয়, ‘আমি এই মর্মে আরও ঘোষণা করিতেছি যে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বার্থের পরিপন্থী বা কোনো আপত্তিকর বিষয় আমার উক্ত পত্রিকায় প্রকাশে বিরত থাকিব এবং ১৯৭৩ সনের ছাপাখানা ও প্রকাশনা (ডিক্লারেশন ও রেজিস্ট্রেশন) আইনের সমুদয় নিয়মাবলি মানিয়া চলিতে বাধ্য থাকিব।’ এ ধারাটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এতে অগণতান্ত্রিক চরিত্র রয়েছে। সম্পাদক পরিষদ ধারাটি বাতিলের দাবি জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে সম্পাদকদের পক্ষ থেকে প্রেস কাউন্সিলকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সম্পাদক ও সাংবাদিকদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেওয়া হয়। এ বিষয়ে সম্পাদক পরিষদ কাজ করছে বলে প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়।

অপতথ্য রোধের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সম্পাদকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, এ বিষয়ে মূলধারার সংবাদপত্রের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। এ জন্য সংবাদপত্রগুলোতে ফ্যাক্ট-চেকের ব্যবস্থা রাখা উচিত। কোনো কোনো সংবাদপত্র ইতোমধ্যে তা শুরু করেছে।

এ ছাড়া গণমাধ্যম কমিশন নিয়ে আরও বেশি আলোচনা হওয়া প্রয়োজন বলে সম্পাদকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করার আগে একটি রূপরেখা তৈরি করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়।

সম্পাদক পরিষদ জানিয়েছে, গণমাধ্যম কমিশন গঠন এবং প্রেস কাউন্সিলকে শক্তিশালী করার বিষয়টি পরিষদের পক্ষ থেকে উত্থাপন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে তথ্যমন্ত্রীকে আগামী জুন মাসের মধ্যে এ-সংক্রান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করে জুলাইয়ের মধ্যেই সরকার যেন একটি দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে পারে, সে অনুযায়ী উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমের স্বনিয়ন্ত্রিত কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে জোর দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্পাদক পরিষদ আগামী জুলাই মাসের মধ্যে সাংবাদিকদের জন্য একটি ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ বা আচরণবিধি প্রণয়ন ও গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানায়।

মামলা থাকা ২৮২ সাংবাদিকের তালিকা

ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীকে একটি তালিকা দিয়েছি। সেখানে বলেছি, ২৮২ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৪ জন হত্যা মামলার আসামি। সেই তালিকাটি একেবারে সম্পূর্ণ, তা বলব না; অসম্পূর্ণ থাকতে পারে। কিন্তু আমরা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করে দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী সেটা গ্রহণ করেছেন এবং তথ্যমন্ত্রীকে বলেছেন, এ ব্যাপারে তাঁরা গুরুত্ব দেবেন।’

তিনি বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা ও নানা ধরনের মামলা গণতান্ত্রিক দেশের পরিবেশের জন্য ভালো নয়।

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হওয়া হয়রানিমূলক মামলার বিষয়টি তুলে ধরে সম্পাদক পরিষদের কয়েকজন সদস্য বৈঠকে বলেন, ন্যায়বিচারের স্বার্থেই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগের যথাযথ অনুসন্ধান ও আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু হয়রানিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তাঁরা জানান, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও প্রমাণসাপেক্ষ অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই প্রচলিত আইন ও স্বচ্ছ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী সম্পাদক পরিষদকে আশ্বস্ত করেছেন, তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপ করবেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার গণমাধ্যমের নিয়ন্ত্রক নয়; বরং সহায়ক হিসেবে কাজ করতে চায়। তিনি বিশ্বাস করেন, শক্তিশালী গণমাধ্যম রাষ্ট্রের একটি অপরিহার্য অংশ এবং তাঁর সরকার এ ব্যাপারে আন্তরিকভাবে কাজ করবে।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের নামে মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সম্পাদক পরিষদের নেতারা বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করলে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের অনুভূতির সঙ্গে একমত পোষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ ছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না থাকায় সম্পাদক পরিষদ প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছে।

গণতন্ত্রপরায়ণ আইন করা হবে

আলোচনার বিষয়বস্তু প্রসঙ্গে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর সাংবাদিকদের বলেন, আইনকানুনের মধ্যে যে অগণতান্ত্রিক অংশগুলো রয়েছে, সেগুলো সম্পর্কে তাঁরা প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছেন। অনেক বিষয়ে পর্যালোচনা করা দরকার—এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সম্মত হয়েছেন।

তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক মিডিয়া রেজিম গড়ে তোলার জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বয়ে একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করে জুন মাসজুড়ে কাজ করা হবে এবং জুলাইয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। তার আলোকে একটি গণতন্ত্রপরায়ণ আইন প্রণয়নের বিষয়ে তাঁরা সম্মত হয়েছেন।

অন্য যেসব ত্রুটিবিচ্যুতি চর্চার মধ্যে রয়েছে, সেগুলো থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসা যায়, তার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে বলে জানান নিউ এজ সম্পাদক।

তিনি বলেন, সরকার যতক্ষণ পর্যন্ত গণতান্ত্রিক আচরণ করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সম্পাদকরা তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবেন।

বৈঠকে সম্পাদক পরিষদের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, মানবজমিন-এর প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, করতোয়া সম্পাদক মোজাম্মেল হক এবং সুপ্রভাত বাংলাদেশ-এর সম্পাদক রুশো মাহমুদ।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

পরে প্রধানমন্ত্রী সম্পাদক পরিষদের নেতাদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন।


এই বিভাগের আরও খবর

BROWSE BY TAG

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com