মোঃ শফিকুল ইসলাম, দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি:– তরুণদের মেধা ও দক্ষতার বিকাশ, কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং আত্মনির্ভরশীল ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যয়ে দিনাজপুরের বিরামপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘জব ফেয়ার দিনাজপুর-২০২৬’।

এ মেলার মাধ্যমে মানুষের চিন্তা-চেতনায় পরিবর্তন আসবে এবং তরুণ-তরুণীরা নিজেদের যোগ্যতা কাজে লাগিয়ে কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এমপি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দিনাজপুরের বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠে দিনব্যাপী এ জব ফেয়ারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, কর্মসংস্থানের সুযোগ শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক না রেখে উত্তরাঞ্চলের তরুণ-তরুণীদের জন্য নিজ এলাকায় চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন। এতে নিজেদের যোগ্যতা তুলে ধরা, জীবনবৃত্তান্ত জমা দেওয়া এবং চাকরির সুযোগ খুঁজে পাওয়ার পথ আরও সহজ হবে।
তিনি আরও বলেন, দিনাজপুরের তরুণ সমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে। তরুণদের মেধা, যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতাকে কাজে লাগাতে পারলে উত্তরাঞ্চলকে একটি সমৃদ্ধ ও সম্ভাবনাময় অঞ্চলে পরিণত করা সম্ভব হবে।
দিনব্যাপী এ মেলায় ৯০টিরও বেশি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, তথ্যপ্রযুক্তি, টেলিযোগাযোগ, স্বাস্থ্যসেবা ও উন্নয়ন সংস্থা। চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সরাসরি সাক্ষাৎকার, জীবনবৃত্তান্ত জমা এবং চাকরিসংক্রান্ত পরামর্শ গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়।
দিনাজপুর-৬ আসনের বিরামপুর, হাকিমপুর, নবাবগঞ্জ ও ঘোড়াঘাট উপজেলার চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এ আয়োজন বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। নিজ এলাকার কাছাকাছি কর্মসংস্থানের সুযোগ খোঁজার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হয় এ মেলায়। তরুণ-তরুণীদের দক্ষতা অনুযায়ী কর্মক্ষেত্র বেছে নেওয়া এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবন নিয়ে পরিকল্পনা করতেও এ আয়োজন সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ তানজিনা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা পিপিএম, প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতা উন্নয়নের আগ্রহ বাড়বে।
পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা বিকাশ এবং উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর নতুন পথ তৈরি হবে।