• শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৮:৪২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
চাঁদপুর সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, যোগ দেবেন একাধিক কর্মসূচিতে মাদক বৃদ্ধির অন্যতম কারণ খেলার মাঠ সংকুচিত হয়ে যাওয়া — বিদ্যুৎমন্ত্রী পুলিশের জন্য সুখবর! ওভারটাইম ভাতা ও অবসরে অনারারি পদোন্নতি চালুর পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২৫ মার্চের আগে রাজারবাগে পুলিশ সদস্যদের কেন একত্রিত করা হয়েছিল, তা গবেষণার দাবি রাখে: প্রধানমন্ত্রী পুলিশকে যেন কেউ দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে: প্রধানমন্ত্রী নৌ ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় ঘাটতি দূর করতে হবে: নৌমন্ত্রী ১০০ উপজেলা ও পৌরসভায় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করল এনসিপি ভালো সম্পর্ক গড়তে ভারতকে সীমান্তে রক্তপাত বন্ধ করতে হবে: রিজভী মব সহিংসতা রোধে পুলিশকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে: প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমরা কারিকুলাম ও সিলেবাস পরিবর্তনের ব্যবস্থা করছি: শিক্ষামন্ত্রী রোববার থেকে শুরু পুলিশ সপ্তাহ, পদক পাচ্ছেন ১০৭ জন মির্জা ফখরুলসহ ১৫ জন পাচ্ছেন ‘আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি স্বর্ণপদক-২০২৬’ কলেজছাত্র ওয়াকিমুলের বানানো ‘স্মার্ট কারে’ চড়লেন প্রধানমন্ত্রী খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা মেধা বিকাশে অপরিহার্য : ভূমিমন্ত্রী চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের পথে রাষ্ট্রপতি সিলেট রেঞ্জে নতুন ডিআইজি জিললুর রহমান শেরপুরে দুইটি চোরাই মোটরসাইকেলসহ দুই চোর গ্রেপ্তার গণমাধ্যমের কার্যকারিতা বিনষ্ট করছে মালিকপক্ষও: তথ্যমন্ত্রী সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ব্যবসায়ীর ওপর অতর্কিত হামলা ও টাকা লুটপাটের অভিযোগ

কে এই ফাতেমা? বেগম খালেদা জিয়ার ১৬ বছরের নীরব ছায়াসঙ্গী

dailydhakamail / ১১৭ বার দেখা হয়েছে
আপডেট: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া :

রাজনীতির ইতিহাসে আমরা দেখি নেতা, আন্দোলন, ক্ষমতা ও কারাবরণের গল্প। কিন্তু এই ইতিহাসের আড়ালে থেকে যান কিছু নীরব মানুষ—যাদের কোনো রাজনৈতিক পদ নেই, নেই কোনো পরিচিতি; অথচ ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর নির্ভরযোগ্য সাক্ষী তারাই। তেমনই এক নীরব ছায়াসঙ্গীর নাম ফাতেমা বেগম—যিনি দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে আপোষহীন দেশনেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সার্বক্ষণিক সঙ্গী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ফাতেমা বেগমের জীবনকাহিনী, তার ত্যাগ ও অবদানের বিষয়টি বিশ্লেষণধর্মীভাবে তুলে ধরেন জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন (জিসাস) বগুড়া জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এম-ট্যাব) আঞ্চলিক জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক ছাত্রনেতা, বিশিষ্ট সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী ও সমাজসেবক মোঃ আরমান হোসেন ডলার।

ফাতেমা বেগমের জন্ম ভোলার সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের শাহ-মাদার গ্রামে। বাবা রফিকুল ইসলাম ও মা মালেকা বেগমের পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিনি সবার বড়। কৃষক হারুন লাহাড়ির সঙ্গে বিয়ের পর তাঁর সংসারে জন্ম নেয় এক কন্যা ও এক পুত্র। তবে ২০০৮ সালে স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুতে দুই শিশু সন্তান নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েন তিনি। জীবিকার তাগিদে সন্তানদের গ্রামে রেখে কাজের সন্ধানে ঢাকায় আসেন ফাতেমা।

২০০৯ সালে পূর্বপরিচয়ের সূত্রে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার বাসভবনে কাজের সুযোগ পান। সেখান থেকেই শুরু হয় এক দীর্ঘ সহযাত্রা—যা কেবল চাকরির গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং মানবিক সম্পর্কের এক গভীর বন্ধনে রূপ নেয়।

গুলশানের ‘ফিরোজা’, দলীয় কার্যালয়, রাজপথের আন্দোলন, দীর্ঘ অবরুদ্ধ সময়, কারাগারের নিঃসঙ্গ দিন কিংবা হাসপাতালের নির্ঘুম রাত—সবখানেই নীরবে উপস্থিত ছিলেন ফাতেমা। চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর দায়িত্ব কেবল গৃহকর্মীর ছিল না; বরং ওষুধ খাওয়ানো, শারীরিক দুর্বলতায় হাত ধরে রাখা, সময়মতো প্রয়োজনীয় বিষয় স্মরণ করিয়ে দেওয়া—সবই ছিল তাঁর নীরব দায়িত্বের অংশ।

২০১৪ সালের ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচির সময় প্রথমবার ফাতেমা বেগম জনদৃষ্টিতে আসেন। গুলশানের বাসভবনের সামনে পুলিশের বাধায় বের হতে না পেরে সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য দেওয়ার সময় শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়া খালেদা জিয়াকে শক্ত করে ধরে রাখার দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি হয়। সেই মানবিক মুহূর্তে তিনি আলোচনায় আসেন।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়া কারাগারে গেলে আইনজীবীদের আবেদনের পর আদালতের অনুমতিতে গৃহকর্মী হিসেবে ফাতেমা তাঁর সঙ্গে কারাগারে যান। রাজনৈতিক কোনো পরিচয় ছাড়াই স্বেচ্ছায় প্রায় ৭৭৮ দিন কারাভোগ করেন তিনি। ওই সময় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক বক্তব্যে কটাক্ষ করে বলেছিলেন, ‘কারাগারেও তাঁর ফাতেমাকে লাগবে’।

২০২১ সালে করোনা আক্রান্ত হয়ে বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ ৫৩ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালে, যখন স্বজনরাও দূরে থাকতে ভয় পাচ্ছিল, তখন ফাতেমা ছিলেন নির্ভীক সেবিকা হিসেবে পাশে। সর্বশেষ উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থানকালেও তিনি ছিলেন সার্বক্ষণিক সঙ্গী।

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর শেষ সময় পর্যন্ত এভারকেয়ার হাসপাতালে পাশে ছিলেন ফাতেমা। দাফনের দিন কফিনের সঙ্গে হেঁটে কবর পর্যন্ত গিয়ে শেষ বিদায়ের সব আনুষ্ঠানিকতায় নীরবে অংশ নেন তিনি। কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, নেত্রীর প্রয়াণে সবচেয়ে ভেঙে পড়া মানুষগুলোর একজন ছিলেন ফাতেমা বেগম।

এদিকে ফাতেমাকে ‘বোন’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, “আমার মা দীর্ঘ সময় একা ছিলেন, তখন ছায়ার মতো আগলে রেখেছিলেন ফাতেমা। মায়ের কারাবাসের সময় স্বেচ্ছায় জেলে যাওয়ার আবেদন করে তিনি আমাদের সবাইকে বিস্মিত করেছিলেন।”

তারেক রহমান আরও জানান, আইনি প্রক্রিয়ায় ফাতেমাকে দত্তক নিয়ে তাঁকে বোনের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে এবং জিয়া পরিবারের সম্পত্তিতে তাঁর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে দেশবাসী ও বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান, ফাতেমাকে নিজের বোনের সম্মান দেওয়ার জন্য।

এই সিদ্ধান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অনেকেই একে ‘ত্যাগের প্রতি কৃতজ্ঞতার বিরল উদাহরণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। বিশিষ্টজনরা বলছেন, রাজনীতির আড়ালে থাকা নীরব ত্যাগীদের স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

দীর্ঘদিন ধরে যারা জিয়া পরিবারের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, তারা মনে করছেন ফাতেমার এই স্বীকৃতি দলের কর্মীদের ত্যাগের প্রতি নেতার মমত্ববোধেরই বহিঃপ্রকাশ।

রাজনীতির ইতিহাসে হয়তো ফাতেমা বেগম কোনো নেতা নন, কোনো পদধারী নন—তবু আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জীবনের কঠিন সময়গুলোর নীরব ছায়াসঙ্গী হিসেবে তাঁর নাম ইতিহাসে অমলিন হয়ে রবে।।


এই বিভাগের আরও খবর

BROWSE BY TAG

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com