শেখ রাফসান, মোংলা প্রতিনিধি, বাগেরহাট :
সুন্দরবন সুরক্ষায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সুন্দরবনের ভেতরে কোনো অসাধু ব্যক্তি যাতে অবৈধ কার্যকলাপ চালাতে না পারে, সে লক্ষ্যে প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে নিয়মিত টহল পরিচালনা করছে বন বিভাগ।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে বৈদ্যমারি ফরেস্ট অফিস থেকে বন বিভাগের ভিটিআরটি ও সিপিজির সদস্যরা সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় হরিণ শিকারের ফাঁদ তল্লাশি শুরু করেন। পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই স্টেশনের আওতাধীন জয়মনি এলাকায় বনের অভ্যন্তরে চোরাশিকারিরা হরিণ ধরার জন্য ফাঁদ পেতে রেখেছিল। এসব ফাঁদে গত রোববার (৪ জানুয়ারি) একটি বাঘ আটকা পড়ে।
পরবর্তীতে বন বিভাগের বিশেষজ্ঞ দল বাঘটিকে উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত বাঘটিকে খাঁচাবন্দি করে খুলনায় নেওয়া হয়, যেখানে বর্তমানে নিবিড় পরিচর্যায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। উদ্ধার কার্যক্রমের আগে ‘ট্রানকুইলাইজার গান’ দিয়ে ইনজেকশন প্রয়োগ করে বাঘটিকে অচেতন করা হয়। উদ্ধার হওয়া পূর্ণবয়স্ক এই বাঘটি একটি স্ত্রী বাঘ বলে জানা গেছে।
ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিম (ভিটিআরটি)-এর সদস্য শুকুর আলী শেখ বলেন, “কিছু অসাধু ব্যক্তি সুন্দরবনের ভেতরে হরিণ শিকারের ফাঁদ পেতে অবৈধভাবে শিকার করার চেষ্টা করে। এসব কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করতেই আমাদের এই অভিযান।”
বৈদ্যমারি টহল ফাঁড়ির বনরক্ষী মামুন বলেন, “সকাল থেকে আমরা পুরো এলাকা তল্লাশি করছি। দীর্ঘ সময় অনুসন্ধান চালিয়েও কোনো হরিণ শিকারের ফাঁদ পাওয়া যায়নি।”
এ বিষয়ে বৈদ্যমারি টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অসিত কুমার পাল বলেন, “কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় আমরা নিয়মিত টহল পরিচালনা করছি। এখনো পর্যন্ত কোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের আলামত পাওয়া যায়নি। আমাদের এই টহল কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং আগের চেয়ে আরও জোরদার করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “সুন্দরবন ও এর বন্যপ্রাণী রক্ষায় বন বিভাগ সবসময় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাঘের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার পর আমরা বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে টহল জোরদার করেছি। আজ সকাল থেকে টহল শুরু করে এখন পর্যন্ত পুরো এলাকা তল্লাশি করেও কোনো হরিণ শিকারের ফাঁদ পাওয়া যায়নি।”
সুন্দরবন ও এর বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় বন বিভাগের এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।