স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া :
আগামী ১১ই জানুয়ারি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বগুড়া আগমনকে কেন্দ্র করে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রত্যাশা ও আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ ১৯ বছর পর নিজ জেলা বগুড়ায় তারেক রহমানের আগমনকে স্থানীয় রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তারেক রহমানের আগমনের খবরে বগুড়াবাসীর মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার, গণতন্ত্রের সুরক্ষা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার প্রশ্নে এই আগমনকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিষয়টি বিশ্লেষণ করে জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন (জিসাস) বগুড়া জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এম-ট্যাব) আঞ্চলিক জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক ছাত্রনেতা, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী মোঃ আরমান হোসেন ডলার বলেন,
“বগুড়া বরাবরই গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও রাজনৈতিক সচেতনতার এক ঐতিহাসিক জনপদ। এই জেলার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভোটাধিকার হরণ, ন্যায়বিচারের অভাব, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও কর্মসংস্থানের সংকটে ভুগছে। তারেক রহমানের আগমন সেই বঞ্চিত মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।”
তিনি আরও বলেন, বগুড়া শুধু একটি জেলা নয়—এটি আন্দোলন, সংগ্রাম ও গণতন্ত্রের পক্ষে আপোষহীন অবস্থানের প্রতীক। ইতিহাসের প্রতিটি সংকটকালে এই জনপদের মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে তারা প্রত্যক্ষ করছে ভোটাধিকার হরণ, দমন-পীড়ন এবং রাজনৈতিক ভয়ের সংস্কৃতি।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বগুড়াবাসীর সামনে এখন কয়েকটি মৌলিক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—
আমাদের সন্তানের চাকরি হবে কবে?
ভোটের অধিকার কবে ফিরবে?
যুব সমাজের কর্মসংস্থান কবে নিশ্চিত হবে?
কৃষক কবে তার ফসলের ন্যায্য মূল্য পাবে?
মেহনতি মানুষ কবে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন পাবে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতেই বগুড়ার মানুষ তাকিয়ে আছে তারেক রহমানের দিকে। তাদের মতে, তারেক রহমান কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা নন—তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুত কণ্ঠস্বর, যিনি জনগণকে শক্তি হিসেবে দেখেন এবং যুবসমাজকে আগামীর বাংলাদেশের চালিকাশক্তি হিসেবে বিশ্বাস করেন।
তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের প্রত্যাশা—
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নতুন প্রত্যয়
ভোটাধিকার ফেরানোর দৃঢ় অঙ্গীকার
বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের আশ্বাস
কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা
অন্যায়, দুর্নীতি ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সাহসী রাজনৈতিক অবস্থান।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ১১ই জানুয়ারি বগুড়ার রাজপথ হবে শুধু একটি সমাবেশের স্থান নয়—এটি হবে জনআকাঙ্ক্ষা প্রকাশের মঞ্চ, অধিকার ফেরানোর শপথের দিন এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
বগুড়াবাসীর বিশ্বাস, যে নেতৃত্ব ভয়কে ভয় পায় না, আপোষের রাজনীতি করে না এবং জনগণকে রাষ্ট্রের মালিক মনে করে—সেই নেতৃত্বই দেশকে সঠিক পথে ফিরিয়ে নিতে পারে। তারেক রহমান সেই বিশ্বাস ও ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেছেন বলে মনে করছেন তারা।
সব মিলিয়ে ১১ই জানুয়ারি বগুড়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন হয়ে উঠতে যাচ্ছে। তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে গণতন্ত্র ও জনআকাঙ্ক্ষার শক্তিশালী প্রকাশ ঘটবে—এমন প্রত্যাশাই এখন বগুড়াবাসীর।।