আজিজুর রহমান মুন্না, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
সিরাজগঞ্জ শহরের চৌরাস্তা মোড়ে দিবালোকে প্রকাশ্যে আব্দুর রহমান রিয়াদ (১৭) নামের এক কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত্যার মামলার প্রধান আসামি মো. সাকিনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১২-এর সদস্যরা। বুধবার (৭ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি.) ঢাকার সাভার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত সাকিন সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার ধানবান্ধি মহল্লার মতি মিয়ার ছেলে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন র্যাব-১২ সিরাজগঞ্জ সদর কোম্পানির অপারেশন অফিসার সহকারী পুলিশ সুপার মো. উসমান গণি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানান, বুধবার দুপুরে র্যাব সদর কোম্পানির একটি চৌকস দল ঢাকার সাভার থানার বিরুলিয়া ইউনিয়নের কালিয়াকৈর এলাকায় অবস্থিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান “আলফা জোন অ্যান্ড কোম্পানি”-তে অভিযান চালিয়ে সাকিনকে গ্রেপ্তার করে। বৃহস্পতিবার সকালে তাকে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ডিসেম্বর বিকেলে সিরাজগঞ্জ শহরের চৌরাস্তা মোড়ের বাহিরগোলা রোডে প্রকাশ্য দিবালোকে দুর্বৃত্তরা কলেজছাত্র আব্দুর রহমান রিয়াদকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে রাতে শহীদ এম. মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত রিয়াদ সিরাজগঞ্জ শহরের সয়াধানগড়া খানপাড়া মহল্লার রেজাউল করিমের ছেলে এবং ইসলামিয়া সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার একজন সদস্যও ছিলেন।
এ হত্যাকাণ্ডের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ফুটেজে দেখা যায়, আব্দুর রহমান রিয়াদ একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় বসে ছিলেন। এ সময় বিভিন্ন দিক থেকে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে কয়েকজন তরুণ অটোরিকশার ভেতরেই তাকে উপর্যুপরি আঘাত করে দ্রুত পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় নিহত রিয়াদের বাবা রেজাউল করিম বাদী হয়ে প্রধান আসামি মো. সাকিনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০/২৫ জনের বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২৮ ডিসেম্বর বিকেলে চৌরাস্তা মোড় এলাকার দশতলা ভবনের পাশে আব্দুর রহমান রিয়াদ ও ১ নম্বর আসামি মো. সাকিনসহ জ্ঞাত-অজ্ঞাত মোট ৩৬ জন প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে সেখানে যায়। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রিয়াদ ও তার তিন বন্ধু বাহিরগোলা রোডে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশার ওপর বসে ছিলেন। এ সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রিয়াদকে ঘিরে ধরে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে প্রধান আসামি সাকিন তার হাতে থাকা চাইনিজ টিপ চাকু দিয়ে রিয়াদকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। অন্যান্য আসামিরা চাইনিজ কুড়ালসহ বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে দ্রুত পালিয়ে যায়।
সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার সাকিনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে। তিনি আরও জানান, এর আগে এ হত্যা মামলায় আরও দুইজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।