নিজস্ব প্রতিবেদক: – রংপুরের হারাগাছ থানাধীন এলাকায় এক গৃহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান পলাতক আসামিকে কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, ভিকটিমের স্বামী দীর্ঘদিন আগে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি প্রতিবেশীর বাসায় প্রায় আট বছর ধরে গৃহকর্মীর কাজ করে আসছিলেন। এ সময় আসামি ভিকটিমের একাকিত্বের সুযোগ নিয়ে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় এবং বিভিন্ন প্রলোভন দেখায়। একপর্যায়ে ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল বিকাল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে আসামি তার নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে ভিকটিমকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার পর ভিকটিম নিজে বাদী হয়ে রংপুর জেলার হারাগাছ থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী ২০২০) এর ৭/৯(১)/৩০ ধারাসহ দণ্ডবিধি ১৮৬০ সালের ৩১৩/৩৪৭/৩৪/৫০৬(২) ধারায় রুজু করা হয়। মামলার নম্বর ০৯ এবং তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০২৫।
মামলা দায়েরের পর গ্রেপ্তার এড়াতে আসামি কৌশলে আত্মগোপনে চলে যায়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ জানুয়ারি ২০২৬ রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে র্যাব-১৩ সদর কোম্পানি, রংপুর এবং র্যাব-১১ সিপিসি-২, কুমিল্লা ক্যাম্পের যৌথ অভিযানে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানাধীন বাবুর্চি বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মামলার প্রধান পলাতক আসামি মো. হাছেন আলী (৫০)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি রংপুর জেলার হারাগাছ থানার চরচতুরা (কলমদার পাড়া) এলাকার বাসিন্দা এবং তার পিতার নাম মো. সোলেমান ভাকরা।
গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে এ বিষয়ে র্যাব-১৩-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,“‘বাংলাদেশ আমার অহংকার’—এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে র্যাব ধর্ষণসহ সকল গুরুতর সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব সূত্রে আরও জানানো হয়, ধর্ষণ, অপহরণ, হত্যা ও অন্যান্য সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে বাহিনীর এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।