নিজস্ব প্রতিবেদক :- কক্সবাজারে সিনিয়র সাংবাদিক ও মানবাধিকার নেতা নুরুল হোসাইনকে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কিংবা গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়াই মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C)।
সংগঠনটি একে স্বাধীন সাংবাদিকতা, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি ও নগ্ন আঘাত হিসেবে আখ্যায়িত করে অবিলম্বে তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব।
গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিক নুরুল হোসাইন হিউম্যান এইড ইন্টারন্যাশনাল কক্সবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং টেকনাফ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সততা, পেশাদারিত্ব ও নির্ভীকতার সঙ্গে সাংবাদিকতা ও মানবাধিকার রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন। সমাজের প্রান্তিক ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়, অন্যায়-অনিয়ম, দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে তাঁর সাহসী ও আপসহীন অবস্থান স্থানীয়ভাবে সুপরিচিত।
বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দ মনে করেন, একজন দায়িত্বশীল সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা কেবল ব্যক্তিগত স্বাধীনতা হরণ নয়; বরং এটি স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার একটি সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা।
গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C)-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি খান সেলিম রহমান এবং প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহিদুল হাসান সরকার স্বাক্ষরিত এক যৌথ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংবাদিক নুরুল হোসাইনকে যেভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা দেশের স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও ভয়াবহ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নেতৃবৃন্দ বলেন,
“একজন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির সাংবাদিক ও মানবাধিকার নেতাকে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই গ্রেপ্তার করা প্রমাণ করে যে, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে স্বাধীন সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করতে চাইছে। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং সত্য উচ্চারণকারী সাংবাদিকদের ভয় দেখানো, হয়রানি করা এবং দমন করার ধারাবাহিক অপচেষ্টারই অংশ।”
তাঁরা আরও বলেন,“সাংবাদিক নুরুল হোসাইন দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার লঙ্ঘন, সামাজিক অবিচার, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে কথা বলে আসছেন। তাঁর এই নির্ভীক ও আপসহীন ভূমিকার কারণেই তাঁকে টার্গেট করে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের জন্য চরম হুমকি।”
বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাবের নেতারা অভিযোগ করে বলেন, দেশে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানির অপসংস্কৃতি দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। প্রশাসনের একটি অংশের নীরবতা, নিষ্ক্রিয়তা কিংবা পক্ষপাতমূলক আচরণ এ ধরনের অন্যায় কর্মকাণ্ডকে পরোক্ষভাবে উৎসাহিত করছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয় এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়,
“একজন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করার আগে ন্যূনতম আইনি প্রক্রিয়া, স্বচ্ছ তদন্ত ও যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকা আবশ্যক। কিন্তু নুরুল হোসাইনের ক্ষেত্রে এসবের কোনোটিই অনুসরণ করা হয়নি। এটি স্পষ্টভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।”
বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C) দৃঢ় কণ্ঠে নিম্নোক্ত দাবিসমূহ উত্থাপন করেছে—
১. অবিলম্বে সাংবাদিক ও মানবাধিকার নেতা নুরুল হোসাইনের নিঃশর্ত মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে।
২. তাঁর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সব মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
৩. সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রয়োগ করা হয় এমন সব মামলার নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।
৪. স্বাধীন সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার রক্ষায় রাষ্ট্রকে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
৫. সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মহল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে দেশের সাংবাদিক সমাজ ও মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে চরম হতাশা, ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হবে, যা সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্র ও গণতন্ত্রের জন্য শুভকর নয়।
সবশেষে বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C) কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, সাংবাদিক নুরুল হোসাইনের নিঃশর্ত মুক্তি নিশ্চিত না হলে সাংবাদিক সমাজ, মানবাধিকার সংগঠন ও সচেতন নাগরিকদের সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ কিন্তু কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।