মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন:-
সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা নয়—এটি একটি দায়িত্ব, একটি নৈতিক অঙ্গীকার এবং সত্য ও ন্যায়ের পথে নির্ভীকভাবে দাঁড়িয়ে থাকার সাহসী নাম। সমাজের দর্পণ হিসেবে সাংবাদিকরা প্রতিনিয়ত সত্য তুলে ধরেন, অন্যায়ের মুখোশ উন্মোচন করেন এবং নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠেন। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো—এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের একটি বড় অংশকে প্রতিনিয়ত চাপ, হুমকি, হয়রানি, মামলা এবং কখনো কখনো শারীরিক নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়।
এই বাস্তবতায় সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় নির্যাতিত ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকদের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব (B.C.P.C)–এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি খান সেলিম রহমান।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন,> “সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কাজ করতে গিয়ে তারা অনেক সময় নানা ধরনের হুমকি, চাপ ও হয়রানির শিকার হন। বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব সবসময় দায়িত্বশীল সাংবাদিকদের পাশে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।”
তিনি আরও বলেন,> “যে কোনো সাংবাদিক যদি তার পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অন্যায়ভাবে হয়রানির শিকার হন, তবে বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব সাংগঠনিক, নৈতিক ও মানবিকভাবে তার পাশে দাঁড়াবে। সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
খান সেলিম রহমানের এই বক্তব্য শুধু একটি বিবৃতি নয়—এটি সাংবাদিক সমাজের জন্য এক সাহসী আশ্বাস, এক দৃঢ় অঙ্গীকার। এমন এক সময়ে এই ঘোষণা এলো, যখন মাঠপর্যায়ে কাজ করা অসংখ্য সাংবাদিক সত্য প্রকাশের কারণে নানা ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। অনেক ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা একা হয়ে যান, ন্যায়সংগত প্রতিবাদেও প্রয়োজনীয় সহায়তা পান না। এই সংকটময় বাস্তবতায় বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব সাংবাদিকদের জন্য একটি ভরসার নাম হয়ে উঠছে।
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জানান, সংগঠনটির জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শাখাগুলোকে আরও শক্তিশালী ও সক্রিয় করা হচ্ছে, যাতে মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকরা দ্রুত আইনি, সাংগঠনিক ও নৈতিক সহায়তা পান।
তিনি বলেন,> “সাংবাদিকদের সমস্যার দ্রুত সমাধানে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। যাতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন সাংবাদিকও একা না থাকেন।”
তিনি সাংবাদিকদের মধ্যে পেশাগত ঐক্যের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, সাংবাদিক সমাজ বিভক্ত হলে অপশক্তি শক্তিশালী হয়। আর ঐক্যবদ্ধ সাংবাদিক সমাজই পারে অন্যায়, নিপীড়ন ও ভয়ভীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে।
খান সেলিম রহমান বলেন,> “সাংবাদিকদের ঐক্যই পারে অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে।”
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়—বরং সাংবাদিকতার নৈতিকতা, স্বাধীনতা ও পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় কাজ করছে। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাই জাতির বিবেককে জাগ্রত রাখে, রাষ্ট্র ও সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করে।
শেষে তিনি দেশের সকল সাংবাদিকের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন,> “আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল, বস্তুনিষ্ঠ ও সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করতে হবে। গুজব, বিভ্রান্তি কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ থেকে দূরে থাকতে হবে। কারণ একজন সাংবাদিকের কলম সমাজ গড়তেও পারে, আবার ধ্বংসও করতে পারে।”
এই বক্তব্যে স্পষ্ট—বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব কেবল একটি সংগঠন নয়, এটি সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষার এক শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। নির্যাতিত সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়ানোর এই প্রত্যয় নিঃসন্দেহে সাংবাদিক সমাজে নতুন সাহস, আত্মবিশ্বাস ও ঐক্যের বার্তা পৌঁছে দেবে।