মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন:-
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী সাংবাদিকদের পূর্ণ সহযোগিতা ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব (B.C.P.C)-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি খান সেলিম রহমান।
তিনি বলেছেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য স্বাধীন ও নির্ভীক গণমাধ্যম অপরিহার্য, আর সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে খান সেলিম রহমান বলেন, জাতীয় নির্বাচন একটি রাষ্ট্রীয়ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় মাঠপর্যায়ে থেকে তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও প্রচারের মাধ্যমে সাংবাদিকরা জনগণের কাছে প্রকৃত চিত্র তুলে ধরেন। ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ, ভোটগ্রহণের স্বচ্ছতা, অনিয়ম, সহিংসতা ও প্রশাসনিক ভূমিকা সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো স্বাধীন সংবাদমাধ্যম। অথচ অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, নির্বাচনকালীন সময়ে অনেক সাংবাদিক হুমকি, বাধা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। কোথাও সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়া হয়েছে, কোথাও রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে। এসব ঘটনা গণতন্ত্র ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য গভীর উদ্বেগজনক।
বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C)–এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বলেন, সাংবাদিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি হলে জনগণ সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য থেকে বঞ্চিত হয়। এতে গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ে এবং নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। তাই নির্বাচনকালীন সময়ে সাংবাদিকদের জন্য নিরাপদ ও সহযোগিতামূলক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে। সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অযৌক্তিক বাধা দেওয়া যাবে না এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে পেশাদার ও শালীন আচরণ বজায় রাখতে হবে।
খান সেলিম রহমান আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের উচিত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা এবং মাঠপর্যায়ে তার কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাংবাদিকবান্ধব আচরণ করলে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে অবাধ তথ্যপ্রবাহ বজায় থাকবে, অপপ্রচার কমবে এবং জনগণ সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। এতে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে।
শেষে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C) সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় সবসময় সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হলে গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে এবং জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।