মোঃ জালাল উদ্দিন
নিজস্ব প্রতিবেদক :-
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সিলেটকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর করা হবে। যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারসহ ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন শহর থেকে সরাসরি ফ্লাইট সিলেটে অবতরণ করবে।”
শনিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং) দুপুরে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পৌর শহরের নবীন চন্দ্র সরকারি মডেল উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমানে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নামেই আন্তর্জাতিক হলেও প্রকৃত অর্থে তা পূর্ণাঙ্গ নয়। “লন্ডন ছাড়া নিয়মিত কোনো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট নেই। মাঝে মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য থেকে দু-একটি ফ্লাইট ঢাকায় যাত্রাবিরতি নেয়। অথচ ইউরোপ ও আমেরিকায় বসবাসকারী বিপুলসংখ্যক প্রবাসী সিলেট অঞ্চলের মানুষ। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে এই বৈষম্য আর থাকবে না।”
যুবকদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, “এই দেশ এগিয়ে যাবে যুবকদের হাত ধরে। আমরা মুখের কথা নয়, বুকের কথা বলি। এ দেশকে আমরা যুবকদের হাতেই তুলে দিতে চাই।”
তিনি বলেন, যুবকদের বেকার ভাতা নয়, কর্মক্ষম নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই জামায়াতের লক্ষ্য। কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তুলে তাদের হাতে কাজ তুলে দেওয়া হবে।
চা-শ্রমিকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “চায়ের রাজধানী মৌলভীবাজারে আমার জন্ম। চা-শ্রমিকদের ভুলে গেলে নিজেকেই ভুলে যাওয়ার শামিল হবে। তাদের জন্য স্বাস্থ্য ও সুশিক্ষা—এই দুই বিষয় রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই না শুধু রাজার ছেলে রাজা হবে। একজন শ্রমিকের সন্তান যদি মেধাবী হয়, রাষ্ট্র তার মেধা বিকাশের দায়িত্ব নেবে—সে একদিন দেশের প্রধানমন্ত্রীও হতে পারে।”
প্রবাসীদের কল্যাণের কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, “প্রবাসে কোনো বাংলাদেশি ইন্তেকাল করলে তার লাশ দেশে আনতে যেন আর ধাক্কাধাক্কি না হয়। রাষ্ট্র নিজ দায়িত্বে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনবে এবং প্রয়োজনে তার পরিবারের দায়িত্ব নেবে।”
গণভোট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “এই ভোট বাংলাদেশ বদলে দেওয়ার ভোট। হ্যাঁ মানে আজাদি, না মানে গোলামি। ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট হবে নতুন বাংলাদেশের জন্মের ভোট।”
তিনি আরও বলেন, জামায়াত এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায়, যেখানে পাহাড়ি-সমতল, ধনী-গরিব, শ্রমিক-কৃষক—সবার জন্য আইন হবে সমান। “বাংলাদেশের মানচিত্র ঠিক থাকবে, শুধু চেহারা পাল্টে যাবে।”
সভায় তিনি মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের দলীয় প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো. সায়েদ আলী এবং মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামের পরিচয় করিয়ে দিয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চান। কুলাউড়া আসন সম্পর্কে তিনি বলেন, “এখানে প্রার্থী দু’জন—একজন সায়েদ আলী, আর ছায়া প্রার্থী হিসেবে আছি আমি নিজে।”
মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের আমির ও মৌলভীবাজার-২ আসনের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো. সায়েদ আলীর সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি মো. ইয়ামির আলীর সঞ্চালনায় জনসভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগা, সিলেট মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আব্দুর রব, লেবার পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি শাহ মাছুম ফারুকীসহ ১১-দলীয় জোটের নেতারা।
এর আগে জামায়াত আমির হেলিকপ্টারে করে কুলাউড়া সরকারি কলেজ মাঠে পৌঁছালে দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনগণ তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।