আরমান হোসেন ডলার (বিশেষ প্রতিনিধি) বগুড়াঃ
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দেশের মানুষ সুষ্ঠু পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ব্যালটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে বগুড়া-৬ সদর আসনকে ঘিরে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবারের নির্বাচনে ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬—দুইটি আসন থেকে নির্বাচন করেন। নিয়ম অনুযায়ী একটি আসন ছেড়ে দিতে হওয়ায় তিনি বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দেন। ফলে আসনটি শূন্য হয়ে উপনির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
এই উপনির্বাচনকে ঘিরে এখন বগুড়া জেলাজুড়ে চলছে জোর আলোচনা—ধানের শীষের প্রার্থী কে হচ্ছেন? রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
বিশেষ করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান-এর পরিবার। স্থানীয় অনেক সাধারণ ভোটারের প্রত্যাশা, বগুড়া-৬ আসন থেকে পুনরায় জিয়া পরিবারের কোনো সদস্যকে প্রার্থী করা হোক। তারা মনে করেন, জিয়া পরিবারের প্রতি বগুড়াবাসীর আবেগ ও সমর্থন দীর্ঘদিনের।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় যাদের নাম বেশি শোনা যাচ্ছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডাঃ জোবাইদা রহমান, কন্যা ব্যারিস্টার জাইমান রহমান এবং প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকো-এর সহধর্মিণী শর্মিলা রহমান।
এদিকে দলীয় ও স্থানীয় পর্যায়েও বেশ কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক বগুড়া পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান, বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডাঃ মওদুদ আলমগীর পাভেল এবং বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ রেজাউল করিম বাদশার নাম শোনা যাচ্ছে। সাবেক সংসদ সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালুর নাম আলোচনায় থাকলেও তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তিনি নির্বাচন করবেন না।
বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সাবেক ছাত্রনেতা, জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন (জিসাস) বগুড়া জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক, সাবেক স্বেচ্ছাসেবক ও যুবনেতা, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (এম-ট্যাব) বগুড়া আঞ্চলিক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আরমান হোসেন ডলার বলেন,
“বগুড়া জেলার উন্নয়নে জিয়া পরিবারের অবদান অনস্বীকার্য। সড়ক, মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ তারেক রহমানের উদ্যোগে বাস্তবায়িত হয়েছে। এছাড়া বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন এই আসন থেকে নির্বাচন করায় বগুড়াবাসীর সঙ্গে জিয়া পরিবারের একটি আবেগঘন সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, বগুড়া-৬ সদর আসনে জিয়া পরিবারের কোনো সদস্যকে প্রার্থী করা হলে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি খুশি হবেন এবং দলীয় কর্মীদের মধ্যেও নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হবে।
সব মিলিয়ে বগুড়া-৬ উপনির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, বিএনপির নীতিনির্ধারকরা শেষ পর্যন্ত কাকে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেন এবং বগুড়ার রাজনীতিতে নতুন কোন সমীকরণ তৈরি হয়।।