এম.এ আরিফ চৌধুরী, প্রধান সম্পাদক: পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে গাজীপুরে অবস্থিত কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার–২–এ বন্দীদের জন্য নেওয়া হয়েছে এক প্রশংসনীয় ও মানবিক উদ্যোগ। সংযম, সহমর্মিতা ও আত্মশুদ্ধির এই মাসে বন্দীদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কারা প্রশাসন বিশেষ ইফতার আয়োজনসহ নানামুখী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
কারা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে এই কারাগারে মোট বন্দীর সংখ্যা ৫ হাজার ১৬৬ জন। এর মধ্যে ৪ হাজার ৯৪৬ জন রোজা পালন করছেন এবং ২২০ জন রোজা রাখছেন না। রোজাদার বন্দীদের জন্য প্রতিদিন স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিকর খাবারের সমন্বয়ে বিশেষ ইফতার মেনু নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইফতার মেনুতে যা থাকছে
রোজাদার বন্দীদের জন্য প্রতিদিনের ইফতারে রাখা হয়েছে—
মুড়ি, ছোলা, কলা, ডিম, খেজুর, জিলাপি, গুড়, পেয়াজু, সরবত- ইত্যাদি
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ের আগেই খাবার প্রস্তুত ও সুষ্ঠুভাবে বিতরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। খাবারের মান, পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে তদারকি জোরদার করা হয়েছে।
প্রশাসনের বিশেষ উদ্যোগ
কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আল মামুন জানান, রমজান মাসে বন্দীদের ধর্মীয় চর্চা নির্বিঘ্ন রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন,
“রমজান সংযম, সহনশীলতা ও আত্মশুদ্ধির মাস। বন্দীদের মানসিক প্রশান্তি ও আধ্যাত্মিক বিকাশের সুযোগ করে দিতে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করছি।”
তিনি আরও জানান, রমজানের প্রথম দিনে তিনি নিজেই বন্দীদের সঙ্গে ইফতারে অংশ নেবেন। খাবারের গুণগত মান নিশ্চিত করতে কারা প্রশাসনের পাশাপাশি চিকিৎসা শাখাকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা দ্রুত সমাধান করা যায়।
ধর্মীয় কার্যক্রমে সহায়তা
রমজান উপলক্ষে তারাবির নামাজ আদায়, সেহরি বিতরণ এবং কোরআন তিলাওয়াতসহ অন্যান্য ধর্মীয় কার্যক্রম পালনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ধর্মীয় উপকরণ সরবরাহ এবং নামাজের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কারা কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা বলেন,
“বন্দীদের মাঝে ইতিবাচক মানসিক পরিবর্তন আনতে ধর্মীয় চর্চা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রমজান মাস তাদের আত্মসমালোচনা ও আত্মশুদ্ধির এক বিশেষ সুযোগ এনে দেয়।”
বন্দীদের সন্তোষ ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া
কয়েকজন রোজাদার বন্দী জানান, নিয়মিত ও মানসম্মত ইফতার ব্যবস্থায় তারা সন্তুষ্ট। একজন বন্দী বলেন,
“কারা প্রশাসনের এমন মানবিক উদ্যোগ আমাদের মাঝে স্বস্তি ও ভালো লাগা তৈরি করেছে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ইবাদত করতে পারছি।”
সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন, রমজান উপলক্ষে এই আয়োজন বন্দীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, সহমর্মিতা ও আত্মশুদ্ধির চর্চা আরও জোরদার করবে। মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কারা প্রশাসনের এই উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে—যে, সংশোধন ও মানবিকতা একই সূত্রে গাঁথা।