নিজস্ব প্রতিবেদক: বগুড়া শাহজাহানপুরে জান্নাতুল জামে মসজিদকে কেন্দ্র করে মুসল্লিদের মাঝে আলোচনা-সমালোচনা, নব্বইয়ের দশকে সমাজে একটি প্রচলিত চিত্র ছিল—বিত্তবান ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অনুরোধ করে, অনেক ক্ষেত্রে জোর করেই, মসজিদ-মাদ্রাসা বা স্কুলের সভাপতি করা হতো। মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে অনুদান সংগ্রহ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই চিত্র যেন উল্টো পথে হাঁটছে। এখন অনেক এলাকায় অভিযোগ উঠছে—কিছু ব্যক্তি বিপুল অর্থ ব্যয় করে সভাপতি পদে আসীন হচ্ছেন, মূলত অনুদানের অর্থ ও নিয়োগসংক্রান্ত সুযোগ-সুবিধা ভোগের প্রত্যাশায়। এমনই এক পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলা-এর বেজোড়া দক্ষিণপাড়া তালতলা এলাকায় অবস্থিত জান্নাতুল জামে মসজিদ-কে ঘিরে। স্থানীয় মুসল্লিদের একাংশের দাবি, পুরাতন কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া ছিল ‘লোক দেখানো’। অভিযোগ রয়েছে, নতুন কমিটিতেও পুনরায় সভাপতি হিসেবে একই ব্যক্তি বহাল রয়েছেন। সভাপতি পদ নিয়ে প্রশ্ন সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—কেন ওই ব্যক্তি বারবার সভাপতি পদে আসীন হচ্ছেন? কী এমন স্বার্থ জড়িত, যা তাঁকে পদ ছাড়তে নিরুৎসাহিত করছে? মসজিদ একটি ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সম্মিলিত মতামতের গুরুত্ব অপরিসীম। অথচ অভিযোগ রয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে বৃহত্তর মুসল্লিদের মতামত যথাযথভাবে নেওয়া হয়নি। ইমাম অব্যাহতি ঘিরে বিতর্ক প্রায় দেড় মাস আগে মসজিদের ইমাম মাওলানা আবু হানিফকে সভাপতি ও আরও কয়েকজনের সিদ্ধান্তে অব্যাহতি দেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অব্যাহতির ঘোষণা শুনে ইমাম আবু হানিফ আবেগাপ্লুত হয়ে মসজিদের ভেতরেই অশ্রু বিসর্জন করেন। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। মুসল্লিদের প্রশ্ন—কেবল সভাপতি ও তাঁর ঘনিষ্ঠ দু-একজনের মতামতের ভিত্তিতে যদি এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে পুরো কমিটি কিংবা সাধারণ মুসল্লিদের মতামত গ্রহণ করা কি প্রয়োজন ছিল না? একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কি অধিকতর গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত নয়? সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন, স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, মসজিদ কেবল নামাজের স্থান নয়; এটি একটি সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষার কেন্দ্র। এখানে ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে সামাজিক কল্যাণই হওয়া উচিত প্রধান বিবেচ্য বিষয়। সভাপতি পদ কোনো ক্ষমতার আসন নয়; বরং এটি একটি আমানত ও দায়িত্ব। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য জানা সম্ভব হলে সংবাদটি হালনাগাদ করা হবে। এলাকাবাসী আশা করছেন, দ্রুত একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের মাধ্যমে মসজিদের পরিবেশ শান্ত ও ঐক্যবদ্ধ হবে।